রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

মতামত

বাংলাদেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষককে নিয়ে তদন্তে জিবিইউএনের গভীর উদ্বেগ; একাডেমিক স্বাধীনতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন, ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার আহ্বান :

লিখেছেন: ড. আবুল হাসনাত মিল্টন, ফয়েজ খান তৌহিদ প্রকাশিত: ২২ আগস্ট ২০২৬, ৬:২৮ পিএম
বাংলাদেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষককে নিয়ে তদন্তে জিবিইউএনের গভীর উদ্বেগ; একাডেমিক স্বাধীনতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন, ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার আহ্বান :

গ্লোবাল বাংলাদেশ ইউনিটি নেটওয়ার্ক (জিবিইউএন) বাংলাদেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষককে নিয়ে চলমান তদন্ত ও অনুসন্ধানে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এসব শিক্ষকের কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল অভিযোগ প্রকাশের পর তাঁদের বিষয়ে তদন্ত ও অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষককে নিয়ে এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ একাডেমিক স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন, ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া এবং আইনের শাসন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এসব অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, মুজিবনগর বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

জিবিইউএন গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছে যে, বিষয়টি কেবল সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তা আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় রূপ নিয়েছে। জিবিইউএনের পর্যালোচনা করা অফিস আদেশ অনুযায়ী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে তদন্ত বা অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। অর্থাৎ, সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।

শত শত শিক্ষকের বিষয়ে প্রকাশিত অভিযোগ যখন আনুষ্ঠানিক তদন্তের পর্যায়ে যায়, তখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্বও বহুগুণ বেড়ে যায়। তদন্ত স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না, সিদ্ধান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নেওয়া হচ্ছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা ন্যায়সংগত আচরণ পাচ্ছেন কি না এসব নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হওয়ার আগেই একটি তদন্ত বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া একজন শিক্ষকের সুনাম, জীবিকা ও পেশাগত মর্যাদার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

জিবিইউএনের অবস্থান স্পষ্ট তদন্তের উদ্দেশ্য হতে হবে সত্য উদ্‌ঘাটন, কাউকে আগেই দোষী সাব্যস্ত করা নয়। কোনো শিক্ষককে শুরু থেকেই দোষী ধরে নেওয়া যাবে না। তাঁর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে এবং সেই অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়া ও আত্মপক্ষ সমর্থনের কার্যকর সুযোগ দিতে হবে। অভিযোগ যথাযথভাবে যাচাই ও প্রমাণিত হওয়ার আগে কোনো শাস্তিমূলক বা বিরূপ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

সংবাদমাধ্যমে কোনো অভিযোগ প্রকাশিত হলেই তা প্রমাণিত সত্য হিসেবে গণ্য করা যায় না। একইভাবে তদন্ত বা অনুসন্ধান কমিটি গঠনও সংশ্লিষ্ট কোনো শিক্ষকের দায় প্রমাণ করে না। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা অনুসন্ধান শুরু হলে প্রতিটি অভিযোগ এবং এর পক্ষে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পর্কে অবহিত করা এবং বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ দিতে হবে। পুরো প্রক্রিয়া হতে হবে ন্যায়সংগত, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রমাণনির্ভর; যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে কাউকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

একাডেমিক স্বাধীনতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন

একাডেমিক স্বাধীনতা উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও মুক্ত জ্ঞানচর্চার অন্যতম ভিত্তি। বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি স্বাধীন বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসর, যেখানে শিক্ষক ও গবেষকেরা ভয়ভীতি, প্রতিশোধ বা অযাচিত হস্তক্ষেপ ছাড়াই পাঠদান, গবেষণা, পেশাগত দায়িত্ব পালন এবং মতপ্রকাশ করতে পারেন।

জিবিইউএন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, কোনো শিক্ষকের রাজনৈতিক মতামত বা পরিচয়, আইনসম্মত সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, একাডেমিক কর্মকাণ্ড কিংবা শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশ তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কারণ হতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন রক্ষায় শিক্ষকদের বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত প্রচলিত আইন, নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বিধি ও প্রক্রিয়া অনুযায়ী নিতে হবে। এসব সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক, দলীয় বা অন্য কোনো অযাচিত বাইরের প্রভাবমুক্ত হওয়া জরুরি।

তদন্ত ও অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য হতে হবে নিরপেক্ষভাবে সত্য উদ্‌ঘাটন করা কাউকে আগেভাগে দোষী সাব্যস্ত করা, হয়রানি করা, পেশাগতভাবে চাপে রাখা কিংবা পরোক্ষভাবে শাস্তি দেওয়া নয়।

সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড

জিবিইউএন স্মরণ করিয়ে দিতে চায়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের সুরক্ষা ও ন্যায়সংগত আচরণের মতো মৌলিক নীতি বাংলাদেশের সংবিধানে স্বীকৃত। এসব নীতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকার ও একাডেমিক স্বাধীনতার মানদণ্ডেও প্রতিফলিত হয়েছে।

সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার (UDHR) ১৯ অনুচ্ছেদে মতামত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ২৬ অনুচ্ছেদে শিক্ষার অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। বাংলাদেশ নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির (ICCPR) রাষ্ট্রপক্ষ, যেখানে মতামত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত। একইভাবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির (ICESCR) রাষ্ট্রপক্ষ, যেখানে শিক্ষার অধিকার স্বীকৃত।

এ প্রসঙ্গে ইউনেস্কোর ১৯৯৭ সালের উচ্চশিক্ষায় নিয়োজিত শিক্ষক-কর্মীদের মর্যাদাবিষয়ক সুপারিশমালা (Recommendation concerning the Status of Higher-Education Teaching Personnel)-এর প্রতিও জিবিইউএন দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। এই সুপারিশমালায় একাডেমিক স্বাধীনতা, পেশাগত স্বাধীনতা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন এবং উচ্চশিক্ষায় নিয়োজিত শিক্ষক-কর্মীদের জন্য ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া ও পেশাগত সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এসব নীতি ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের মূল কথা স্পষ্ট: বিশ্বাসযোগ্য অসদাচরণের অভিযোগ থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় তা তদন্ত করতে পারে এবং করা উচিত। তবে তদন্ত হতে হবে আইনসম্মত, স্বাধীন, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রমাণনির্ভর। একই সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অধিকার, মর্যাদা এবং একাডেমিক স্বাধীনতার প্রতি যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করতে হবে। জিবিইউএনের আহ্বান জিবিইউএন সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে :

• সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগের স্বাধীন, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রমাণনির্ভর তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় তাঁদের অধিকার, মর্যাদা ও পেশাগত অবস্থানের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

• তদন্ত বা পরবর্তী কোনো শাস্তিমূলক প্রক্রিয়ায় ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া ও ন্যায়বিচারের স্বাভাবিক নীতি অনুসরণ করতে হবে। অভিযোগ যথাযথভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী হিসেবে বিবেচনা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি করা যাবে না।

• সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিটি অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করতে হবে। যাচাইবিহীন বা প্রমাণহীন কোনো দাবির ভিত্তিতে কারও বিরুদ্ধে বিরূপ প্রশাসনিক বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।

• একাডেমিক স্বাধীনতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও পেশাগত মর্যাদা সুরক্ষিত রাখতে হবে। রাজনৈতিক মতামত বা পরিচয়, আইনসম্মত সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, একাডেমিক কর্মকাণ্ড কিংবা শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশের কারণে কোনো শিক্ষক যেন ভয়ভীতি, হয়রানি, প্রতিশোধ বা পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

• বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে এবং পুরো প্রক্রিয়াকে অনুচিত রাজনৈতিক, দলীয় বা বাইরের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে হবে। একই সঙ্গে একাডেমিক স্বাধীনতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন, ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া ও আইনের শাসনের স্বীকৃত মানদণ্ড সমুন্নত রাখতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক একাডেমিক ও মানবাধিকার মহলের সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

জবাবদিহি ও একাডেমিক স্বাধীনতা পরস্পরবিরোধী নয়

বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শত শত শিক্ষককে নিয়ে চলমান তদন্ত ও অনুসন্ধান কেবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয় নয়; এর সঙ্গে দেশের একাডেমিক স্বাধীনতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন এবং উচ্চশিক্ষাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ও ভবিষ্যৎ জড়িত।

জিবিইউএন মনে করে, জবাবদিহি ও একাডেমিক স্বাধীনতা পরস্পরবিরোধী নয়। বিশ্বাসযোগ্য তথ্য-প্রমাণ থাকলে অসদাচরণের অভিযোগ অবশ্যই তদন্ত করা উচিত। তবে ন্যায়সংগত ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে কোনো অভিযোগকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। রাজনৈতিক মতামত বা পরিচয়, আইনসম্মত সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা কিংবা শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশের কারণে কোনো শিক্ষককে পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করাও গ্রহণযোগ্য নয়।

জিবিইউএন সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানায়, সব তদন্ত ও অনুসন্ধান যেন প্রচলিত আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বিধি মেনে, নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এবং নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক শিক্ষককে অভিযোগ সম্পর্কে জানানো এবং বক্তব্য দেওয়া ও আত্মপক্ষ সমর্থনের কার্যকর সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

জিবিইউএন বাংলাদেশের একাডেমিক অঙ্গনের সেই সব শিক্ষক ও গবেষকের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে, যাঁদের একাডেমিক স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়সংগত আচরণ পাওয়ার অধিকার ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এসব অধিকার ও নীতির সুরক্ষা শুধু সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের জন্য নয়; বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থার স্বাধীনতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও আন্তর্জাতিক মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার জন্যও অপরিহার্য। একাডেমিক স্বাধীনতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন, ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে জিবিইউএন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখবে।

গ্লোবাল বাংলাদেশ ইউনিটি নেটওয়ার্ক (জিবিইউএন)-এর পক্ষে ড. আবুল হাসনাত মিল্টন ফয়েজ খান তৌহিদ ২২ আগস্ট ২০২৬