সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

উপসম্পাদকীয়

জন্মদিনের অনুপ্রেরণায় নতুন করে গড়বে বাংলাদেশ

✍ লিখেছেন: শচীন বাঙালি,কলামিস্ট ও রাজনৈতি বিশ্লেষক প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১২ এএম
জন্মদিনের অনুপ্রেরণায় নতুন করে গড়বে বাংলাদেশ

কিছু জন্মদিন কেবল একজন মানুষের বয়স বাড়ার দিন নয়; কিছু জন্মদিন হয়ে ওঠে একটি জাতির স্মৃতি, সংগ্রাম ও স্বপ্নকে নতুন করে স্মরণ করার উপলক্ষ। ২৮ সেপ্টেম্বর তেমনই একটি দিন। এই দিনে জন্ম নেওয়া একজন মহীয়সী নারী কে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতি, উন্নয়ন, সংকট ও প্রত্যাশার বহু ইতিহাস রচিত হয়েছে। আজকের এই দিনে জন্মদিনের শুভেচ্ছা শুধু ব্যক্তির প্রতি নয়—একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সংগ্রামের ইতিহাস একটি পরিবারের আত্মত্যাগের ইতিহাস এবং একটি রাষ্ট্রের আর্তনিরবরশীল হিসেবে গড়ে তোলার নানা অধ্যায়কেও স্মরণ করা।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গভীর ক্ষত। সেই ভয়াবহ শোকের ভেতর দিয়েই শেখ হাসিনার রাজনৈতিক যাত্রার নতুন অধ্যায় শুরু হয়। নির্বাসন, ফিরে আসা, আন্দোলন, কারাবরণ, জনসমর্থন—সব মিলিয়ে তাঁর দীর্ঘ পথচলা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোন মানুষ ই সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয় কিন্তু এ কথা অস্বীকার করা যায় না যে, বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে তাঁর ভূমিকা একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে আলোচিত হবে ,বাংলাদেশের গণতন্ত্রের আন্দোলন ও একটা গণতান্ত্রিক আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার যেখানে সকল মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, উন্নয়নের স্বপ্ন ও রাষ্ট্র গঠনের প্রচেষ্টা বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, ডিজিটাল উদ্যোগ, সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, অর্থনৈতিক অঞ্চল, নারীর ক্ষমতায়নে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি—এসব উদ্যোগ তাঁর সরকারের সময়ে গৃহীত উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন প্রকল্প ছিল। এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি সাধিত হয় ,

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নে অর্থনীতির মুক্তির আহ্বান “বাংলার মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব।” সেই মুক্তির অর্থ শুধু স্বাধীনতা নয়; দারিদ্র্যমুক্ত, মর্যাদাসম্পন্ন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষাও ছিল তার সঙ্গে জড়িত। শেখ হাসিনার রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন মত থাকলেও তাঁর বক্তব্যে বহুবার বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্নের ধারাবাহিকতার কথা উঠে এসেছে—যেখানে শিক্ষা, কৃষি, প্রযুক্তি ও সামাজিক নিরাপত্তাকে রাষ্ট্র গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে নারী পুরুষের সমান অধিকারের ও সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছিল , একটি রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজন নীতিনির্ভর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা ছিল তার উদ্দেশ্য, বাংলাদেশের সামনে এখনও বহু চ্যালেঞ্জ রয়েছে— কর্মসংস্থান, কৃষির আধুনিকীকরণ, ব্যাংকিং সংস্কার, জ্বালানি নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, করব্যবস্থার কার্যকারিতা, গবেষণাভিত্তিক নীতিনির্ধারণ।

একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র কেবল রাজনৈতিক নেতৃত্বে নয়; কার্যকর প্রতিষ্ঠান, দক্ষ প্রশাসন এবং বাস্তবভিত্তিক নীতিনির্ধারণের ওপরও দাঁড়িয়ে থাকে। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়তে এ বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে। আর শুধু শেখ হাসিনা ৩য় প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে এর বাস্তবায়ন সম্ভব ,

এই দিনে শুভেচ্ছা জানাই একজন প্রবীণ রাজনৈতিক নেত্রীকে, যাঁর জীবন বাংলাদেশের ইতিহাসের নানা বাঁকের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। প্রার্থনা করিএবং আমার বিশ্বাস, আপনার প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আবার নতুন এক জাগরণের পথে এগিয়ে যাবে। বর্তমান সময়ে মানুষের যে অর্থনৈতিক দুর্দশা, মূল্যস্ফীতির চাপ, কর্মসংস্থানের সংকট ও নানামুখী অনিশ্চয়তা—সেসবের বিরুদ্ধে মানুষ আবার প্রতিবাদের শক্তি খুঁজে পাবে।

বাংলাদেশের বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় যে ভারসাম্য একসময় সমাজকে ধরে রেখেছিল, তা ৫ই আগস্টের পর তা গভীরভাবে ভেঙে পড়েছে। সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও সামাজিক নৈতিকতার যে ভিত্তি ছিল, তা ক্রমেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। মব সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং, দুর্নীতি, লুটপাট, ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তাহীনতা সমাজকে এক অনিশ্চিত ও অস্থির অবস্থার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

শুধু আইন-শৃঙ্খলাই নয়, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। মানুষের জীবনযাত্রায় অনিশ্চয়তা বেড়েছে, আর নৈতিক অবক্ষয় যেন সমাজের নানা স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে।

নারীর মর্যাদা ও স্বাধীনতার প্রশ্নেও উদ্বেগজনক পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। নারীদের ছোট করে দেখার প্রবণতা, বহুবিবাহকে সামাজিকভাবে স্বাভাবিক করে তোলার চেষ্টা এবং নারীকে পণ্যের মতো বিবেচনা করার মানসিকতা—এসব বিষয় সমাজে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আমার দৃষ্টিতে, শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে দেশ অস্থিরতা, অসহিষ্ণুতা ও নৈতিক অবক্ষয়ের এক কঠিন সময় অতিক্রম করছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ হিসেবে আমি শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনকে একটি প্রয়োজনীয় সমাধান হিসেবে দেখি।

আমি আশা করি, আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আবারও বিশ্বমঞ্চে নতুন করে নিজের অবস্থানকে দৃঢ়ভাবে তুলে ধরবে এবং উন্নয়নের যে স্বপ্ন আপনি একসময় জাতির সামনে উপস্থাপন করেছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে মানুষ নতুন অনুপ্রেরণা লাভ করবে।

আপনার জন্মদিন তাই শুধু শুভেচ্ছার দিন নয়; এটি আমাদের কাছে নতুন আশা, নতুন সাহস এবং আগামী দিনের একটি সমৃদ্ধ, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ের দিন। বাংলাদেশ যেন শান্তি, ন্যায়, গণতান্ত্রিক চর্চা, উন্নয়ন ও মানবিক মূল্যবোধের পথে আরও এগিয়ে যায়। নতুন প্রজন্ম যেন ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে বিভাজনের নয়, বরং দায়িত্ব, জ্ঞান ও দেশপ্রেমের শক্তিতে ভবিষ্যৎ নির্মাণ করে।

‍ শুভ জন্মদিন, আমার আপা শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ইতিহাসে আপনার রাজনৈতিক অধ্যায় নিয়ে আলোচনা, মূল্যায়ন ও বিতর্ক চলবে; কিন্তু জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের আকাঙ্ক্ষা সবসময়ইআপনার পথদেখানো পথেই মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার ও অগ্রগতির পথেই এগিয়ে যাবে । আপানার সারাজীবনের মানুষের প্রতি যে মমত্ববোধ ও বিশ্বাস রয়েছে তা থেকেই আবার নতুন যাত্রা ও বিজয়ের পথ খুঁজে পাবে বাংলাদেশ. অন্ধকার দূর হয়ে আলো আসবেই । জয় বাংলা।

লেখক: শচীন বাঙালি,কলামিস্ট ও রাজনৈতি বিশ্লেষক

এই সংবাদটি শেয়ার করুন: