সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

রাজনীতি

আন্তর্জাতিক ফোরামে শেখ হাসিনার আইনি লড়াই: মানবাধিকার লঙ্ঘন ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা: আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন কূটনৈতিক চাপ

✍ লিখেছেন: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা (The Source News Bangla) প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৫ এএম
আন্তর্জাতিক ফোরামে শেখ হাসিনার আইনি লড়াই: মানবাধিকার লঙ্ঘন ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা: আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে  নতুন কূটনৈতিক চাপ

বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চলমান সংকটের একটি নতুন মোড় হিসেবে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় ব্যারিস্টার্স চেম্বার ‘ম্যাট্রিক্স চেম্বার্স’ ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন বা আইপিইউর (IPU) মানবাধিকার কমিটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে এই আইনি পদক্ষেপ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ম্যাট্রিক্স চেম্বার্সের মাধ্যমে আইপিইউতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ

লন্ডনভিত্তিক খ্যাতনামা মানবাধিকার আইনজীবী স্টিভেন ক্যাস (Steven Kay KC) শেখ হাসিনার পক্ষে এই অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। অভিযোগে প্রধানত তিনটি মূল বিষয় তুলে ধরা হয়েছে:

১.বিচার প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন:

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও চরম অন্যায্য। পর্যাপ্ত আইনি প্রতিরক্ষার সুযোগ না দিয়ে এবং অনুপস্থিতিতে এই বিচার সম্পন্ন করা হয়।

২. রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বৈধতা:

২০২৫ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাহী আদেশে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। এর ফলে দলটি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। এটি আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার চুক্তি (ICCPR) এর ১৯, ২১, ২২ এবং ২৫ অনুচ্ছেদের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে দাবি করা হয়েছে।

৩. নির্যাতন ও দায়মুক্তি: দলটির নেতাকর্মীদের ওপর চলা হামলা, বিচারবহির্ভূত আটক এবং এর সঙ্গে জড়িতদের ঢালাও দায়মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক পর্যালোচনার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

আইপিইউর ভূমিকা এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (IPU) বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত ও নিপীড়িত সংসদ সদস্যদের অধিকার সুরক্ষার একমাত্র আন্তর্জাতিক সংস্থা। এর আগে আইপিইউর সেক্রেটারি জেনারেল আন্না ফিলিপ বাংলাদেশ সফর করে সরকারের শীর্ষ মহলের কাছে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের নিষেধাজ্ঞা এবং দলটির ছয় সাবেক সদস্যের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছিলেন। আইপিইউর গভর্নিং কাউন্সিলের সর্বশেষ অধিবেশনে এ বিষয়ে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও বিস্তারিত প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল।

সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে স্বাধীন পর্যবেক্ষক দল পাঠিয়ে পরিস্থিতি সরেজমিনে তদন্ত করতে চাইলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। আগামী ৫ থেকে ৯ অক্টোবর তানজানিয়ার আরুশায় আইপিইউর পরবর্তী সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ঠিক তার আগে শেখ হাসিনার পক্ষে আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের এই নতুন অভিযোগ দায়ের তানজানিয়ার সম্মেলনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে।

কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব আইপিইউর মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংসদীয় সংস্থার প্রতিবেদন জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং কমনওয়েলথের মতো বৈশ্বিক ফোরামে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। ফলে এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বর্তমান সরকারের ওপর কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একদিকে আইপিইউর পূর্বের অবস্থান এবং অন্যদিকে আন্তর্জাতিক আইনজীবী দলের নতুন এই অভিযোগ—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি এখন তানজানিয়ার আসন্ন সম্মেলনের দিকেই নিবদ্ধ।

লেখক: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা (The Source News Bangla)

এই সংবাদটি শেয়ার করুন:

সম্পর্কিত সংবাদ