সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

উপসম্পাদকীয়

পিতার আদর্শ ও ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত জননেত্রীর জন্মদিন

✍ লিখেছেন: জাহাঙ্গীর কবির নানক, রাজনীতিবিদ, সাবেক মন্ত্রী, প্রেসিডিয়াম সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৫ এএম
পিতার আদর্শ ও ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত জননেত্রীর জন্মদিন

হাই স্কুলের গণ্ডি পেরোতেই যে স্লোগান কণ্ঠে তুলে নিয়েছিলাম—‘জেলের তালা ভাঙবো, শেখ মুজিব করবো’—আজ এই পড়ন্ত বেলায় সেই স্মৃতিগুলো হৃদয়ে ঢেউ তোলে। অষ্টম শ্রেণীতে পড়ার সময় পদ্মা মেঘনা যমুনার ঘাটে প্রথম বঙ্গবন্ধুকে দেখা, আর ১৯৭৩ সালের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ আজও কানে বাজে। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সেই কালরাত্রি আমাদের আকাশ থেকে চিরতরে আলো কেড়ে নিয়েছিল। দেশ নিপতিত হয়েছিল গভীর অন্ধকারে।

সৌভাগ্যক্রমে বিদেশে থাকায় বেঁচে গিয়েছিলেন দুই বোন—শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। ১৯৮১ সালের ১৭ মে মানিক মিয়া এভিনিউয়ের সেই বর্ষণসিক্ত জনসমুদ্রে যখন তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আপনাদের বোন হিসেবে, কন্যা হিসেবে... বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চাই,’ সেদিন থেকেই আমাদের চোখের জল আর ভালোবাসার এক নতুন যাত্রা শুরু হয়েছিল।

আজ পাথর ছড়ানো সেই কঠিন পথ পেরিয়ে তিনি আমাদের অহংকার, আমাদের প্রেরণা। সামরিক দুঃশাসন হটিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি—সব মিলিয়ে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন তিনি। পদ্মা সেতু আজ কোনো ইট-পাথরের কাঠামো নয়, এটি তাঁর অদম্য সাহস ও প্রজ্ঞার জীবন্ত প্রতীক। বিশ্বব্যাংকের শত ষড়যন্ত্র পায়ে ঠেলে নিজ দেশের টাকায় এই বিশ্বজয়ী সেতু নির্মাণ করে তিনি প্রমাণ করেছেন বাঙালি কখনো দমে যায় না।

আজ ছয় মিনিটে পদ্মা নদী পার হওয়ার সময় দক্ষিণ জনপদের মানুষের চোখের কোণে যে আনন্দাশ্রু ঝরে, তার পেছনে রয়েছে তাঁর আজীবন সংগ্রামের ইতিহাস। ১৯৯৭ সাল থেকে শুরু করে পাঁচ লাখেরও বেশি ভূমিহীন পরিবারকে মাথা গোঁজার ঠাঁই দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন মায়ের মতো মমতায় কীভাবে একটি জাতিকে আগলে রাখতে হয়। গণভবনে পশুপাখির প্রতি তাঁর মায়া কিংবা গোপনে কোনো অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর অগণিত অজানা গল্প আমাদের হৃদয়কে গভীরভাবে প্লাবিত করে।

আজ এই জন্মলগ্নে বুকটা অজানা বেদনায় ভারী হয়ে ওঠে। স্মরণ করি সেই ইতিহাস, যখন জয়ের জন্মের সময় কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি ছিলেন জাতির পিতা, আর অবরুদ্ধ বঙ্গমাতা ছটফট করছিলেন হাসপাতালের বিছানায়। যাঁদের পুরো পরিবার দেশের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছে, তাঁদের জন্মদিনে আমাদের অর্ঘ্য কী হতে পারে?

আজ এই জন্মদিনে আমাদের আর কিইবা দেওয়ার আছে? কেবল হৃদয়ের গভীর থেকে দু’ ফোঁটা চোখের জল, অন্তহীন কৃতজ্ঞতা আর অশেষ ভালোবাসা। হে জননেত্রী, হে বাঙালির মুক্তিদাতা, আপনার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনায় পরম স্রষ্টার দরবারে হাত দুটি তুলে প্রার্থনা করি—আপনি দীর্ঘদিন আমাদের আগলে রাখুন। জন্মদিনের বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

লেখক: জাহাঙ্গীর কবির নানক, রাজনীতিবিদ, সাবেক মন্ত্রী, প্রেসিডিয়াম সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

এই সংবাদটি শেয়ার করুন: