মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

উপসম্পাদকীয়

বিএনপির চাঁদাবাজির রানিং ফাইল নাকি সাজানো নাটকের নতুন চিত্রনাট্য?

লিখেছেন: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা (The Source News Bangla) প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:২১ এএম
বিএনপির চাঁদাবাজির রানিং ফাইল নাকি সাজানো নাটকের নতুন চিত্রনাট্য?

রংপুরের শান্ত মাছুয়াপাড়ায় থমকে গেছে জীবনের স্পন্দন। এক সময়ের কলকাকলিতে মুখরিত দোতলা বাড়িটি আজ অন্ধকার এক নিস্তব্ধতা । জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর সহধর্মিণী প্রীতিলতা, কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগ থেকে মাস্টার্স পরীক্ষা দেওয়া স্বপ্নবাজ মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী এবং জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিশু আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম—একটি সম্পূর্ণ পরিবারকে এভাবে নৃশংসভাবে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হলো! যে প্রদীপের আলোয় আলোকিত হওয়ার কথা ছিল একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ, তা আজ এক ফোঁটা রক্তে নিভে গেল। কিন্তু তার চেয়েও মর্মান্তিক আর হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, এই রক্তের গন্ধ শুকানোর আগেই শুরু হয়ে গেছে রাজনৈতিক ক্ষমতার স্বার্থান্বেষী নোংরা চক্রান্ত ও প্রহসন।

অভিযোগের তির যখন রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা চাঁদাবাজদের দিকে, যখন সত্য চেঁচিয়ে বলছে যে চাঁদাবাজির টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোই এই নিরপরাধ পরিবারটির অপরাধ ছিল, ঠিক তখনই দেখা গেল এক নির্লজ্জ নাটকের মঞ্চস্থকরণ! অপরাধ আড়াল করতে এবং ক্ষমতার আড়ালে থাকা আসল অপরাধীদের রক্ষা করতে প্রশাসন অতিদ্রুত সাজিয়ে বসলো 'মাদকসেবীদের কাণ্ড' নামের সেই চেনা, পুরোনো ও সস্তা এক চিত্রনাট্য।

কিন্তু নাটকের কুশীলবরা হয়তো ভুলেই গিয়েছিল, সত্য কখনো রক্তের দাগের নিচে চাপা পড়ে থাকে না। কুয়াশার আড়াল ভেঙে সত্য বেরিয়ে আসেই। অভিযানের নামে চলা এই নাটকের সবচেয়ে বড় গলদটি উন্মোচিত হলো তখনই, যখন গতরাতে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার পরনে থাকা পোশাকটি আজ হুট করেই দেখা গেল গ্রেপ্তারকৃত সন্দেহভাজন আসামির গায়ে! এ কি কেবলই কোনো 'কাকতালীয়' ভুল, নাকি পুরো রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সাজানো নাটকের সবচেয়ে বড় ও দায়িত্বজ্ঞানহীন গলদ? রক্তে ভেজা একটি ট্র্যাজেডিকে ঢাকা দিতে গিয়ে এভাবে প্রশাসনের পেশাদারিত্বকে জলাঞ্জলি দেওয়া দেশের সাধারণ মানুষের হৃদয়ে শেলের মতো বিঁধছে।

যখন দেশের বিচারব্যবস্থা আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ক্ষমতার তোষামোদি আর লেজুড়বৃত্তিতে অন্ধ হয়ে পড়ে, তখন রক্ষকই রূপ নেয় সবচেয়ে নির্মম ভক্ষকের। চার-চারটি তরটা তাজা প্রাণ, এক অবোধ শিশুর ফুটফুটে হাসি—সবকিছু লুটপাটের নামে পিষে মারার পেছনে কাদের হাত? রাজনৈতিক চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের বাঁচাতেই কি রাতের আঁধারে এই স্ক্রিপ্ট সাজানো হলো? রক্ত দিয়ে লেখা এই মর্মান্তিক সত্যকে কোনো প্রশাসনিক ধামাচাপা দিয়ে আড়াল করা যাবে না। একটি নিরীহ পরিবারের এই নিঃশব্দ আর্তনাদ আজ প্রতিটি মানুষের বিবেকের দরজায় কড়া নাড়ছে। বিএনপির এই প্রশাসনিক প্রহসন, মিথ্যা সাজানো গল্প আর রাজনৈতিক নাটক অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। রংপুরবাসী তথা সমগ্র দেশের মানুষ আর কোনো সাজানো গল্প চায় না; তারা চায় ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা মূল অপরাধী ও তাদের আশ্রয়দাতাদের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোরতম শাস্তি!

লেখক: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা (The Source News Bangla)