সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

জাতীয়

সেনাপ্রধানের পদ নিয়ে টানাপোড়েন ও ক্ষমতার রাজনীতি: অন্তরালের সমীকরণ

✍ লিখেছেন: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা (The Source News Bangla) প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১:১৪ পিএম
সেনাপ্রধানের পদ নিয়ে টানাপোড়েন ও ক্ষমতার রাজনীতি: অন্তরালের সমীকরণ

সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ, ভূরাজনীতি এবং সরকারের সঙ্গে টানাপোড়েনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সরকারের পক্ষ থেকে তাকে রাষ্ট্রদূত পদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করার সিদ্ধান্ত এবং তার পরবর্তী কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক তৎপরতা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

১. সেনাপ্রধানের ভূমিকা ও কমান্ড নিয়ে প্রশ্ন

সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে এমন তথ্য পৌঁছেছে যে, সেনাবাহিনীর ওপর সেনাপ্রধানের কার্যকর কমান্ড বা নিয়ন্ত্রণ কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। যে কারণে সরকারের চাওয়া অনুযায়ী ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর আদলে কোনো বিশেষ অভিযান বা জোরালো পদক্ষেপে সেনাবাহিনীকে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। এমনকি সেনা সদরের সাম্প্রতিক দরবারেও সেনাপ্রধানের কার্যকারিতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন খোদ সেনা কর্মকর্তারা।

২. সেফ এক্সিট বনাম টিকে থাকার লড়াই

সরকার যখন তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করে সৌদি আরবে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তিনি তা সহজে মেনে নেননি বলে জানা যায়। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, নিরাপদ প্রস্থান বা 'সেফ এক্সিট'-এর সুযোগ না নিয়ে তিনি পদে বহাল থাকার জন্য জোরালো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার এই অনড় অবস্থান এবং সরকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মানসিকতা প্রশাসনকে ভাবিয়ে তুলেছে।

৩. ভূরাজনৈতিক সমীকরণ এবং মার্কিন সংযোগ এই পুরো সংকটের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি। বিগত সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কিছু কৌশলগত নীতি ও করিডোর সংক্রান্ত বিষয়ে ভিন্নমত থাকলেও, বর্তমানে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে নিজের অবস্থান সুসংহত করার চেষ্টা করছেন সেনাপ্রধান। যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকগুলো তার এই কৌশলেরই অংশ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

৪. সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ ও পর্দার অন্তরালের কূটনীতি

সেনাপ্রধানকে নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা এবং তার অনড় অবস্থানের পর উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর হয়েছেন শীর্ষ নেতৃত্ব। রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে যোগাযোগের পাশাপাশি সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গেও পর্দার অন্তরালে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি এবং সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকার এখন বেশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে: ২০২৭ সালের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে সেনাপ্রধানের এই অনড় অবস্থান এবং সরকারের সঙ্গে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে টানাপোড়েন দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

লেখক: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা (The Source News Bangla)

এই সংবাদটি শেয়ার করুন: