সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

প্রবাস

ব্রাসেলসে দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি, নিরাপত্তা ও মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংলাপ: শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ও আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জোরালো দাবি

✍ লিখেছেন: নীহারিকা রায়, উন্নয়ন কর্মী, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট প্রকাশিত: ৩ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৩৪ পিএম
ব্রাসেলসে দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি, নিরাপত্তা ও মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংলাপ: শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ও আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জোরালো দাবি

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কেন্দ্রস্থল ব্রাসেলসে দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি, নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন ASBL’-এর উদ্যোগে এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ওন্ড্রেই দোস্তালের সহযোগিতায় এই আন্তর্জাতিক সংলাপের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, মানবাধিকার রক্ষা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক সম্প্রীতি নিয়ে নীতিনির্ধারক ও গবেষকরা নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।

ব্রাসেলস সম্মেলনে বিশিষ্টজনদের অংশগ্রহণ

ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মানবাধিকারকর্মী, গবেষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং দক্ষিণ এশীয় প্রবাসীর এই সম্মেলনে সরব উপস্থিতি ছিলেন। অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাবেক জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফাহরেনহোলজ, বিজ্ঞানী ও লেখক ড. নূরান নবী, হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন ASBL-এর সেক্রেটারি জেনারেল এএফএম গোলাম জিলানী এবং জেনেভা থেকে আগত মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান গ্রেন।

এছাড়াও ফ্রান্স থেকে সাত্তার শাহ আলম সুমন, আলী খাতুন, ফাতেমা হোসেন ও শাহ আলম মায়া, জার্মানি থেকে লেনা আখতার এবং যুক্তরাজ্য থেকে মেহেদী হাসান ও তাওহিদ ফিতরাতসহ ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রবাসী প্রতিনিধিরা সংলাপে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির সমীকরণ

বিজ্ঞানী ও লেখক ড. নূরান নবী তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক বিনিয়োগের গভীর পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের পথকে রুদ্ধ করে দেয়। বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, একসময়ের উন্নয়ন বিস্ময় এই দেশটি বর্তমানে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগ সংকটের মুখে পড়েছে। এ সময় তিনি দেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সুযোগ সৃষ্টি এবং আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জোরালো দাবি জানান।

১৯৭১ সালের গণহত্যা ও বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি

সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার ফাহরেনহোলজ তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং সেই সময়ের গণহত্যার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করেন। বর্তমান বাংলাদেশ প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশে মানবাধিকার ও নিরাপত্তার অবনতি ঘটছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরদারির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, জেনেভা থেকে আগত ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিশন ফর হিউম্যান রাইটসের সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুর রহমান গ্রেন বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির অবসান এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার।

উন্নয়ন অর্জন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপের আহ্বান

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ তাঁর বক্তব্যে বিগত সরকারের আমলের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অর্জিত স্বীকৃতিগুলোর কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে এবং অর্জিত সাফল্য ধরে রাখতে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা জরুরি।

হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন ASBL-এর সেক্রেটারি জেনারেল এএফএম গোলাম জিলানী দক্ষিণ এশিয়ার জটিল রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা পরিবর্তনে দায়িত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক সংলাপের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ভিন্ন মতের রাজনৈতিক অবস্থান ও মানুষের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমেই কেবল দক্ষিণ এশিয়ায় একটি শান্তিপূর্ণ ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা সম্ভব।

আঞ্চলিক শান্তি ও সহযোগিতার বার্তা

দিনব্যাপী এই আলোচনা সভার মূল প্রতিপাদ্য ছিল দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে শান্তি, স্থিতিশীলতা, মানবাধিকার রক্ষা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা সুদৃঢ় করা। অংশগ্রহণকারীরা একমত পোষণ করেন যে, কেবল রাজনৈতিক সংলাপ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই এই অঞ্চলের মানুষের মৌলিক অধিকার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা করা সম্ভব।

সম্মেলন শেষে আয়োজক সংস্থা হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন ASBL-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি, মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক সংলাপ এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পরিসরে তাদের এ ধরনের কার্যক্রম ও সংলাপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

নীহারিকা রায়, উন্নয়ন কর্মী, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট

লেখক: নীহারিকা রায়, উন্নয়ন কর্মী, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট

এই সংবাদটি শেয়ার করুন: