রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

সাহিত্য

"মহাকালের মহিমান্বিত আলো"

লিখেছেন: কবি শাহ মোহাম্মদ তৌহিদুল কাদের চৌধুরী প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ৫:৪৯ পিএম
"মহাকালের মহিমান্বিত আলো"

বাগদাদের পুণ্য মাটি, জিলানীর সেই পবিত্র রক্তধারা,

আউয়ালের হাত ধরে এই বাংলায় এনেছিল আলোর ধারা।

জহির উদ্দিন, লুৎফুর রহমানের ধমনিতে যে পুণ্য বহমান,

সেই সুফি ধারায় জন্ম নিলেন খোকা, বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান।

১৯৪৭-এর সেই দেশভাগ থেকে শুরু যাতনার ইতিহাস,

বাঙালির শৃঙ্খল ভাঙতে যিনি এনেছিলেন নতুন এক বিশ্বাস।

৫২-র ভাষা থেকে শুরু করে ৭১-এর সেই মহিমান্বিত রণ,

৭ই মার্চের বজ্রকণ্ঠে কেঁপেছিল শোষকের রাজসিংহাসন।

২৬শে মার্চের সেই ডাক, সার্বভৌম এক স্বাধীন দেশ,

ভেঙে দিল শতাব্দী প্রাচীন শৃঙ্খল আর যাতনার শেষ।

শাহজালাল আর শাহপরানের মাজার জিয়ারতের পুণ্য ক্ষণে,

আল্লাহর দরবারে বিনম্র প্রার্থনা ছিল যাঁর সদা মনে।

মেহনতি মানুষের দুঃখ ঘুচাতে যিনি বিলিয়েছেন স্নেহের ছায়া,

ফজিলাতুন্নেসার ত্যাগের চাদরে যিনি সঁপেছিলেন আপন কায়া।

ইসলামের চেতনা ছড়ালেন তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আলোয়,

বাংলাদেশ গড়েছিলেন দূরদর্শী, প্রজ্ঞার সুধা ছড়ালেন ভালোয়।

পনেরোই আগস্টের কালরাতে ধন্য হলো যাঁর শাহাদাত,

বাঙালি হারিয়েছিল সেদিন তার শ্রেষ্ঠ সুপ্রভাত।

নেতা-কর্মীদের ওপর নেমে এলো চরম জুলুম আর কারাগার,

শত্রুরা ভেবেছিল মুছে দেবে বঙ্গবন্ধুর নাম চিরকাল।

কালো আইনে ঢাকতে চেয়েছিল তাঁর ত্যাগের মহান দাম,

মানুষ চেয়েছিল ভুলিয়ে দিতে, মুছে দিতে মহিমান্বিত নাম।

কিন্তু দমে যাননি মুজিব কন্যা শেখ হাসিনা, বুকে নিয়ে শোকের পাহাড়,

নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে ভাঙলেন তিনি অন্যায়ের আধার।

বিধাতার কুদরত অনন্য, তাঁর বিচার অতি মহান,

আল্লাহ যাঁর সম্মান রক্ষা করেন, কার সাধ্য করে তা খানখান?

ইতিহাসের পাতায় পাতায় আজো জাজ্বল্যমান তাঁর আব্রু ও ইজ্জত,

বাঙালির হৃদয়ে অমর বঙ্গবন্ধু, চিরকাল অক্ষুণ্ণ তাঁর মহিমান্বিত তরিকত।

হে খোদা! তোমার দরবারে আজ জানাই বিনীত ফরিয়াদ,

পূর্বপুরুষ সুফিগণের উসিলায় কবুল করো তাঁর জিয়াদ।

সমাপ্তির এই পুণ্যলগ্নে দাঁড়িয়ে বিনম্র চাদর বুনন,

শাহ মোহাম্মদ তৌহিদুল কাদের করে এই প্রার্থনা গুঞ্জন—

প্রভুর দরবারে মঞ্জুর হোক তাঁর রেখে যাওয়া পবিত্র স্বপ্ন-আশ,

বাঙালির হৃদয়ে অক্ষুণ্ণ থাকুক বঙ্গবন্ধুর আধ্যাত্মিক সুবাস।

লেখক: কবি শাহ মোহাম্মদ তৌহিদুল কাদের চৌধুরী