সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

জাতীয়

শেখ হাসিনার নিরাপদ প্রত্যাবর্তন ও রিকনসিলিয়েশন: নেপথ্য কূটনীতিতে বদলাচ্ছে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট: পর্দার অন্তরালের সমঝোতা?

✍ লিখেছেন: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা (The Source News Bangla) প্রকাশিত: ৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩:০৮ পিএম
শেখ হাসিনার নিরাপদ প্রত্যাবর্তন ও রিকনসিলিয়েশন: নেপথ্য কূটনীতিতে বদলাচ্ছে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট: পর্দার অন্তরালের সমঝোতা?

বাংলাদেশ ও ভারতের ভূরাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপদ স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং দেশের রাজনৈতিক পুনর্মিলন বা রিকনসিলিয়েশন নিয়ে পর্দার অন্তরালে উচ্চপর্যায়ের সমঝোতা ও ফয়সালা হয়ে গেছে বলে বিভিন্ন কূটনৈতিক ও অনুসন্ধানী সূত্রে জানা যাচ্ছে। ১. সামরিক কূটনীতি ও উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ গত কয়েক মাস ধরে ঢাকা এবং নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি সামরিক কূটনীতি বা মিলিটারি ডিপ্লোমসি অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে।

• যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক মোড়লদের ভূমিকা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দিল্লি সফর এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের বিদেশ সফর এই ভূরাজনৈতিক পটপরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে।

• নিরাপত্তার পূর্বদৃষ্টান্ত: বর্তমান সরকার গঠনের মাত্র ১১ মাস আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরার সময় যেভাবে রাষ্ট্রীয় ও সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পেয়েছিলেন, ঠিক তেমনিভাবে আরেকজন রাজনৈতিক নেত্রীর প্রত্যাবর্তনেও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অস্বাভাবিক কিছু নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

২. ভারতীয় হাইকমিশনারের অবস্থান ও সেনাপ্রধানের সাথে বৈঠক সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং তৎপরতা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ:

• দায়িত্ব অস্বীকার বনাম নিরাপত্তা প্রদান: সম্প্রতি এক কূটনৈতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমাবর্তনে ভারতের পক্ষ থেকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, বিগত সময়ে শেখ হাসিনাকে ভারত জোর করে বা নিজে থেকে সরিয়ে নেয়নি; বরং বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী নিরাপত্তার স্বার্থেই তাকে ভারতে পৌঁছে দিয়েছিল এবং ভারত কেবল তা গ্রহণ করেছিল।

• দিল্লি সফর: এই বিস্ফোরক বার্তার পরই হাইকমিশনার দিল্লি গিয়ে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং দেশটির সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকের মূল এজেন্ডা ছিল বাংলাদেশ ইস্যু এবং শেখ হাসিনার নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি।

৩. রাজনৈতিক পুনর্মিলন ও স্থিতিশীলতার তাগিদ

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি বড় ধরনের শূন্যতা ও ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে।

• অর্থনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি: দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছুটা নিষ্ক্রিয়তা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শ্লথগতি দেশের নীতিনির্ধারক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের ভাবিয়ে তুলেছে।

• অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা: বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ স্টেকহোল্ডাররা মনে করছেন, একটি বিশাল রাজনৈতিক জনগোষ্ঠীকে (বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও এর সমর্থকদের) বাদ দিয়ে কোনো স্থায়ী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বা গণতান্ত্রিক বন্দোবস্ত সম্ভব নয়। ফলে সব পক্ষের সমঝোতা বা রিকনসিলিয়েশনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

৪. ফয়সালা এবং ভবিষ্যতের রূপরেখা অনুসন্ধানী সূত্রগুলোর মতে, দুই দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা প্রভাবশালী অংশগুলো শেখ হাসিনার নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। যদিও দিনক্ষণ বা সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে এটি স্পষ্ট যে আইনি প্রক্রিয়া এবং পূর্ণ নিরাপত্তার মাধ্যমেই এই প্রত্যাবর্তন ঘটতে পারে। পর্দার অন্তরালে চলা এই কূটনৈতিক ও সামরিক বোঝাপড়াই আগামী দিনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট নির্ধারণ করবে।

লেখক: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা (The Source News Bangla)

এই সংবাদটি শেয়ার করুন: