শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

অর্থনীতি

গ্যাসের চাপে থমকে যাচ্ছে শিল্পের চাকা, সামনে রপ্তানি ও অর্থনীতির বড় ঝুঁকি

লিখেছেন: মৃন্ময়ী শারমিন প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২৬, ৭:১৮ এএম
গ্যাসের চাপে থমকে যাচ্ছে শিল্পের চাকা, সামনে রপ্তানি ও অর্থনীতির বড় ঝুঁকি

দেশের শিল্প খাতে জ্বালানি সংকট এখন আর কেবল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার সমস্যা নয়; এটি ধীরে ধীরে রপ্তানি, কর্মসংস্থান, ব্যাংক ঋণ এবং সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে। গ্যাসের অস্বাভাবিক ঘাটতিতে গ্যাসনির্ভর বহু কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা অর্ধেকে নেমে এসেছে। কোথাও উৎপাদন বন্ধ, কোথাও আবার দিনে কয়েক ঘণ্টার বেশি কারখানা চালানো সম্ভব হচ্ছে না। দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট। বিপরীতে সরবরাহ মিলছে ২২০ থেকে ২৩০ কোটি ঘনফুটের মতো। ফলে দৈনিক ঘাটতি প্রায় ১৮০ কোটি ঘনফুট। মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সংকট আরও তীব্র হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এর অভিঘাত সবচেয়ে বেশি পড়েছে গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে। শিল্প উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, যেখানে অনেক কারখানায় উৎপাদনের জন্য ১০ থেকে ১৫ পিএসআই গ্যাসচাপ প্রয়োজন, সেখানে মিলছে মাত্র ১ থেকে ৩ পিএসআই। ফলে বয়লার, জেনারেটর ও ভারী যন্ত্রপাতি সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, স্টিল, সিরামিক, কাগজ ও ডাইংসহ রপ্তানিমুখী শিল্পে এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে। বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ডিজেল বা এলপিজি ব্যবহার করায় উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, কমছে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের দাবি, গ্যাস সংকটে অর্ধশতাধিক কারখানা উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রেখেছে। তাঁর আশঙ্কা, সংকট দীর্ঘ হলে উদ্যোক্তাদের কার্যকর মূলধন ফুরিয়ে যাবে এবং ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে আরও প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। অতএব, জ্বালানি সংকটকে সাময়িক সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। শিল্প সচল রাখা এখন অর্থনীতির অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন। তাই সংকটকালীন সময়ে শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া এবং দ্রুত দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা গ্রহণ করাই হতে পারে অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা থেকে রক্ষার প্রধান উপায়।

লেখক: মৃন্ময়ী শারমিন, অর্থনীতি ও বিনিয়োগ বিশ্লেষক, সিডনি