বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

জাতীয়

বাংলাদেশের পাঁচবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা: স্বদেশের রক্তভেজা মাটির ডাকে জীবনের চূড়ান্ত ঝুঁকি

লিখেছেন: অশ্রু হাসি,রাজনীতিবিদ,কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
বাংলাদেশের পাঁচবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা: স্বদেশের রক্তভেজা মাটির ডাকে জীবনের চূড়ান্ত ঝুঁকি

কখনও কি হিসেব করে দেখা যায়, এক বুক হাহাকার আর মাতৃভূমির ব্যাকুল টানের ওজন কতখানি? স্বদেশের ধূলিকণা, চেনা বাতাসের ঘ্রাণ আর স্মৃতির আঙিনা ছেড়ে পরবাসে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত যেন একেকটি দীর্ঘশ্বাসের পাহাড়। জীবনের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় নানা চড়াই-উৎরাই পার হয়ে, আজ বয়সের শেষপ্রান্তে এসেও সমস্ত ভয়, শঙ্কা আর মাথার ওপর ঝুলতে থাকা মৃত্যুর পরোয়ানাকে তুচ্ছ মনে হচ্ছে কেবল একটিমাত্র আকুলতায়—প্রিয় মাতৃভূমির বুকে ফিরে আসার তীব্র বাসনায়।

"কখন নয়, প্রশ্ন হলো কীভাবে?" — এক অবরুদ্ধ হৃদয়ের ব্যাকুল আর্তনাদ

রাজকীয় রাজনৈতিক জীবন কিংবা নিরাপদ আশ্রয়ের কোল ছেড়ে, রাজপথের ধুলাবালি আর অনিশ্চয়তার মাঝে ফিরে আসার এই সিদ্ধান্ত কেবল রাজনীতির কোনো ঠান্ডা মাথার ছক নয়; এটি এক রক্তাক্ত হৃদয়ের চরম ব্যাকুলতা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে যখন তিনি নিজের অবরুদ্ধ অনুভূতির কথা ব্যক্ত করেন, তখন রাজনৈতিক মারপ্যাঁচের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে আড়ালে থাকা এক স্বজনহারা কন্যার কান্না।

ফেরার দিনক্ষণ বা সুনির্দিষ্ট সময়সীমার চেয়ে আজ বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—‘কীভাবে ফিরবেন তিনি?’ যে মাতৃভূমির জন্য তাঁর প্রতিটি নিশ্বাস, সেই জন্মভূমির আকাশ-বাতাস তাকে কীভাবে গ্রহণ করবে? জীবনের এই শেষ অধ্যায়ে এসে নিজের দেশে ফেরার চেয়ে বড় আর কোনো সত্য, আর কোনো প্রাপ্তি তাঁর কাছে হতে পারে না।

কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠেও শান্তি: রক্তের ঋণ শোধের চরম আত্মত্যাগ

যে মাটির বুকে মিশে আছে বাবার রক্ত, মায়ের স্মৃতি আর ভাইদের চিরবিদায়ের করুণ ইতিহাস—সেই প্রিয় বাংলাদেশে ফেরার বিনিময়ে যদি মেলে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ, তবে তাতেই মিলবে জীবনের পরম শান্তি। কূটনৈতিক অলিন্দ থেকে পাওয়া বার্তাগুলো যেন সেই নির্মম সত্যকেই সামনে এনে দাঁড় করায়: তিনি প্রস্তুত। প্রস্তুত কারাবরণ করতে, আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে, এমনকি নিজের জীবনের সর্বোচ্চ মূল্য চুকিয়ে দিতেও।

অতীতে ঘাতকের বুলেট, গ্রেনেড আর বারুদের গন্ধ যাকে স্পর্শ করেও দমাতে পারেনি, মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়ানো তাঁর জন্য নতুন কিছু নয়। শত নিরাপত্তার শঙ্কা আর প্রাণনাশের হুমকিকে তুচ্ছ জ্ঞান করে তিনি শুধু চান বাবার গড়ে যাওয়া দেশের মানুষের সেবায় নিজেকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত বিলিয়ে দিতে।

সংঘাত নয়, এক ফোঁটা শান্তির পরশটুকু পাওয়ার ব্যাকুলতা

রাজনৈতিক উত্তাপ যতই বাড়ুক, সংঘাতের কালো মেঘ যতই ঘনীভূত হোক না কেন—তাঁর হৃদয় ব্যাকুল হয়ে উঠেছে এক চিলতে শান্তির জন্য। তিনি চান না তাঁর ফেরা কেন্দ্র করে দেশের একটা মানুষের গায়েও আঁচড় লাগুক, বা রাজপথ আবার রক্তে রঞ্জিত হোক। কোনো সহিংসতা কিংবা বিশৃঙ্খলার পথ ধরে নয়, বরং পরিপূর্ণ আইনি, সাংবিধানিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে তিনি স্বদেশের মাটিতে পা রাখতে চান।

দেশের সার্বভৌমত্ব এবং আইনের শাসনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বিচারব্যবস্থার কাছে তাঁর একটিই আকুতি—ন্যায্য ও অন্যায্যতার নিরপেক্ষ বিচার। প্রতিহিংসার দেয়াল টপকে তিনি কেবল চান নিজ দেশের মাটিতে বুক ভরে নিশ্বাস নেওয়ার সুযোগ।

অন্ধকারের মেঘ ও লক্ষ অনুসারীর হৃদকম্পন

একদিকে উগ্রবাদী চক্রের চক্রান্ত, নিরাপত্তার সংশয় আর ভূ-রাজনৈতিক জটিলতার কালো ছায়া—সব মিলিয়ে স্বদেশের পথটি আজ কাঁচের টুকরোয় ভরা বন্ধুর এক প্রান্তর। তবুও সব বাধা, সব অনিশ্চয়তাকে পায়ে ঠেলে দেশের কোটি মানুষের মনে আজ একটাই প্রশ্ন—সব চক্রান্তের বেড়াজাল ছিন্ন করে তিনি কি পারবেন তাঁর ভালোবাসার বাংলায় ফিরে আসতে?

সময় হয়তো এর উত্তর দেবে, কিন্তু স্বদেশের মাটির প্রতি এই অবিশ্বাস্য টান, মৃত্যুকে পরোয়া না করে ফিরে আসার এই অদম্য বাসনা চিরকাল ইতিহাসের পাতায় এক মর্মস্পর্শী ও অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে লেখা থাকবে।

লেখক: অশ্রু হাসি,রাজনীতিবিদ,কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক