রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

উপসম্পাদকীয়

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মনিটরিং টিম বাংলাদেশে সেল গঠনের চেষ্টা করছে আল-কায়েদা ভারত উপমহাদেশ শাখা, ফেঁসে যেতে পারেন ইউনুস সরকারের একাধিক উপদেষ্টারা।

লিখেছেন: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মনিটরিং টিম  বাংলাদেশে সেল গঠনের চেষ্টা করছে আল-কায়েদা ভারত উপমহাদেশ শাখা, ফেঁসে  যেতে পারেন ইউনুস সরকারের একাধিক উপদেষ্টারা।

বাংলাদেশে সেল গঠনের চেষ্টা করছে জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার ভারত উপমহাদেশ শাখা (একিউআইএস)। গত ১০ আগস্ট জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মনিটরিং টিম এমন তথ্য জানায়। এ টিমটি সন্ত্রাসবাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় নজরদারি চালায়।আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের ওপর নিষেধাজ্ঞায় নজরদারি করা মনিটরিং টিম জানিয়েছে, গত বছরের ২৫ নভেম্বর ভারতের দিল্লির লালকেল্লায় যে গাড়ি বোমা হামলা হয় সেটি চালায় ‘আল-কায়েদা ভারত উপমহাদেশ’ শাখা। আর তারা এখন বাংলাদেশেরও সেল গঠনের চেষ্টা করছে।

সম্প্রতি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সন্ত্রাসী দলগুলোর ওপর নজরদারিসংক্রান্ত মনিটরিং টিমের একটি প্রতিবেদনে ভারতীয় উপমহাদেশে আল-কায়েদার শাখা (AQIS)-এর কৌশলগত পরিবর্তনের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার ভারত উপমহাদেশ শাখা (একিউআইএস) বর্তমানে বাংলাদেশে নতুন করে সেল বা নেটওয়ার্ক গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে। ১. দিল্লির হামলা ও আল-কায়েদার কৌশলগত রূপান্তর

রক্তক্ষয়ী ওই হামলার পর ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা চলতি বছরের মে মাসে ১০জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেয়। এ ১০ জন আনসার গাজাত-উল হিন্দ নামে একটি দলের বলেও উল্লেখ করা হয়। আর এ দলটির সঙ্গে আল-কায়েদা ভারত উপমহাদেশ শাখার সংশ্লিষ্টতা আছে।

ভারতীয় তদন্তকারীরা জানায়, ওই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন উমর উন-নবী। তিনি ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সহকারী প্রসেফর হিসেবে কাজ করেছেন। উমর উন-নবী ওই বোমা হামলায় নিহত হন।

এই ঘটনায় ফেঁসে যেতে পারেন ইউনুস সরকারের একাধিক উপদেষ্টারা। ভারতকে অস্থিতিশিল করতে চাওয়া ইউনুস সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা মাহাফুজ আলম সহ আরো একাধিক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদের মদদের বেশ কিছু তথ্য উপাত্য সাম্প্রতিক সময়ে ভারত সরকার বাংলাদেশের নীতি নির্ধারকদের হাতে তুলে দিয়েছে। এই প্রতিবেদনটির আলোকে ফেঁসে যেতে পারেন বেশ কয়েক জন উপদেষ্টা যারা ইউনুস সরকারের সময়ে নানা ভাবে গণমাধ্যমে উপস্থিত হয়ে ভারত বিরোধী বক্তৃতার পাশাপাশি আড়ালে জঙ্গিবাদকে মদত ও অর্থ সহায়তা যুগিয়েছে।

ভয়াবহ ওই হামলায় সেদিন ১১ জনের মৃত্যু হয়। অসংখ্য মানুষ আহত হন এবং সম্পদের ক্ষতি হয়। এখন এই হামলার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সহায়ক সংস্থা জানাল ওই হামলার জড়িত ছিল আল-কায়েদা ভারত উপমহাদেশ শাখা।

নিরাপত্তা কাউন্সিলের সহায়ক সংস্থার এ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আল-কায়েদা ভারত উপমহাদেশ একটি বিক্ষিপ্ত গ্রুপ থেকে এখন একটি আঞ্চলিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীতে রূপ নিচ্ছে। এরজন্য তারা বিভিন্ন জায়গায় লজিস্টিক এবং অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। তারা বড় গ্রুপ হওয়ার বদলে বিকেন্দ্রীভূত ছোট দল ও বিক্ষিপ্ত হয়ে কাজ করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

লেখক: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা (The Source News Bangla)