শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

রাজনীতি

বুলেটের ভয় তুচ্ছ করে জনতার দরবারে ফেরার অঙ্গীকার: জুমের পর্দায় বাংলাদেশের পাঁচবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী

✍ লিখেছেন: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা (The Source News Bangla) প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১:৪২ পিএম
বুলেটের ভয় তুচ্ছ করে জনতার দরবারে ফেরার অঙ্গীকার: জুমের পর্দায় বাংলাদেশের পাঁচবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী

জন্মভূমির ধুলোবালি, মেঠো পথ আর প্রিয় মানুষদের থেকে হাজার মাইল দূরে অবস্থান করলেও, যাঁর হৃদয় প্রতিনিয়ত স্পন্দিত হয় জন্মভূমির ভালোবাসায়—তিনি যেন কোনো নির্দিষ্ট দূরত্বের সীমানায় আবদ্ধ থাকতে পারেন না। দিল্লি থেকে জুমের পর্দায় ভেসে উঠলো একটি পরিচিত মুখ। দীর্ঘশ্বাস আর বুকচাপা কান্নাকে শক্তিতে রূপান্তর করে, বাংলাদেশের পাঁচবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট ও ভবিষ্যৎ পথচলা নিয়ে নিজের সুনির্দিষ্ট ও দূরদর্শী মতামত তুলে ধরলেন। স্ক্রিনের ওপারে থাকা মানুষটির কণ্ঠশ্বাসে স্পষ্ট ছিল মাতৃভূমির জন্য অপরিসীম উদ্বেগ, অক্ষয় মমতা এবং অন্যায়-ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর এক দুর্নিবার শপথ।

জুমের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তিনি যে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো আলোকপাত করেছেন, তা নিচে তুলে ধরা হলো:

১. গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতার আকুতি গণতন্ত্র ছাড়া কোনো জাতির মেধা, মেহনত ও স্বপ্নের সঠিক বিকাশ ঘটতে পারে না—এই পরম সত্যটি তিনি অত্যন্ত জোরের সাথে পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, দেশের প্রকৃত টেকসই উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে হলে গণতান্ত্রিক ধারার কোনো বিকল্প নেই। গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিঘ্নিত হলে কীভাবে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের জীবন থমকে দাঁড়ায়, সেই আশঙ্কার চিত্রও তিনি গভীর উদ্বেগের সাথে তুলে ধরেন।

২. যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বন্ধুত্বের বার্তা

মার্কিন প্রশাসনের আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও নীতিমালার প্রসঙ্গ টেনে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান, বাংলাদেশ কখনোই মার্কিন প্রশাসনকে কোনো প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখে না; বরং একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তাদের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে দেখতে চায়। কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অযাচিত হস্তক্ষেপ না করার নীতিকে সম্মান জানিয়ে তিনি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের বার্তা দেন।

৩. বিদেশি ষড়যন্ত্র ও ক্ষমতার পটপরিবর্তনের করুণ সত্য

সাংবাদিকদের তীক্ষ্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে শেখ হাসিনার কণ্ঠে ঝরে পড়ে গভীর ক্ষোভ ও বেদনার সুর। তিনি অভিযোগ করেন, কীভাবে একটি নির্দিষ্ট বিদেশি ষড়যন্ত্র এবং অন্ধকার অর্থায়নে পেশাদার সন্ত্রাসী হায়ার করার মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকারকে সরাতে কলকাঠি নাড়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদ্ধৃতি তুলে ধরে ইউএসএআইডি (USAID)-এর অনাকাঙ্ক্ষিত অর্থায়ন ও সম্পৃক্ততার চাঞ্চল্যকর বিষয়টি উন্মোচন করেন। একই সাথে সত্য তথ্য প্রকাশ্যে আসার জন্য তিনি অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

৪. প্রাণভয় তুচ্ছ করে জন্মভূমিতে ফেরার দীপ্ত শপথ

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এই পরিবারটিকে বারবার নিঃশেষ করার চেষ্টা করা হয়েছে। শেখ হাসিনা নিজেও বারবার বেঁচে গেছেন ঘাতকের বুলেটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। কিন্তু কোনো ষড়যন্ত্রই তাঁর মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসাকে স্নান করতে পারেনি। প্রাণনাশের প্রতিনিয়ত হুমকি সত্ত্বেও দেশের আপামর জনতার অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় যেকোনো মূল্যে স্বদেশে ফিরে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করেন তিনি। দূর পরবাসে থেকেও তাঁর এই অদম্য প্রত্যয় যেন এদেশের অগণিত সাধারণ মানুষের হৃদয়ে এক নতুন আশার আলো জ্বেলেছে।

শেষ কথা দূর থেকে ভেসে আসা এক চিলতে ভিডিও স্ক্রিন হয়তো শত শত মাইলের ভৌগোলিক দূরত্বকে মিলিয়ে দিতে পারে, কিন্তু দেশের মানুষের জন্য একজন রাষ্ট্রনায়কের হৃদয়ের আকুলতা কেবল ভৌগোলিক সীমানার সমীকরণ নয়—তা এক গভীর আত্মিক টান। রক্তে ভেজা স্বদেশের মাটিতে আবার ফিরে আসার এই দীপ্ত অঙ্গীকার যেন কেবল একজন রাজনীতিকের বক্তব্য নয়, বরং এ যেন এক মায়ের তাঁর সন্তানের কাছে ফিরে আসার আকুল ব্যাকুলতা।

লেখক: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা (The Source News Bangla)

এই সংবাদটি শেয়ার করুন: