শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

রাজনীতি

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ও ‘ডু অর ডাই’ নীতিতে আওয়ামী লীগের অল-আউট প্রস্তুতি: তৃণমূলের চাঙ্গা ভাব ও সরকারের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ।

✍ লিখেছেন: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা (The Source News Bangla) প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
শেখ হাসিনার  প্রত্যাবর্তন ও ‘ডু অর ডাই’ নীতিতে আওয়ামী লীগের অল-আউট প্রস্তুতি: তৃণমূলের চাঙ্গা ভাব ও সরকারের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ।

কঠোর প্রশাসনিক দমনপীড়নের মুখেও সাবেক শেখ হাসিনার দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো। দীর্ঘ সময় আত্মগোপন বা নিষ্ক্রিয় থাকার পর হঠাৎ করেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দলটির নেতাকর্মীদের মিছিল, মাইকিং এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্দরে।

মাঠের চিত্র: আকস্মিক তৎপরতা ও পুলিশের চ্যালেঞ্জ

সংঘর্ষ ও হামলা: গোপালগঞ্জ সদরে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মিছিল থেকে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে, যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অভিনব প্রচারণা: নওগাঁর মান্দাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে (যেমন—বাসখালি, বামনা, ঈশ্বরগঞ্জ, কুমিল্লা ও শ্রীপুর) থানার ঠিক সামনে বা জনবহুল এলাকায় অটোরিক্সায় মাইক বাজিয়ে এবং পোস্টার-ব্যানারে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য ডিসেম্বরের ফেরার বার্তা প্রচার করা হয়েছে।

গোয়েন্দা ও প্রশাসনিক উদ্বেগ: ব্যাপক গণগ্রেপ্তার এবং পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ে ব্যাপক রদবদল সত্ত্বেও নেতাকর্মীদের দমানো যাচ্ছে না। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, ঢাকার বাইরে ও তৃণমূল পর্যায়ে পুলিশের পক্ষে এই ক্রমবর্ধমান তৎপরতা রোধ করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।

‘ডু অর ডাই’ নীতি এবং অগ্রবর্তী দল পরিকল্পনা

সাংগঠনিক পুনর্গঠন: দলটির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, জেলা, উপজেলা ও তৃণমূল পর্যায়ের সাংগঠনিক কমিটি গঠনের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

নভেম্বর থেকে অল-আউট কর্মসূচি: দলের হাইকমান্ডের সবুজ সংকেতে সামনের মাস থেকে কর্মসূচিতে নতুন চমক আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

অগ্রবর্তী দল গঠন: শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আগে আন্দোলন চাঙ্গা করতে এবং মাঠের পরিস্থিতি অনুকূলে আনতে আগামী মাসের শুরুর দিকে প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন নেতার (যাদের মধ্যে কয়েকজন সাবেক সংসদ সদস্য রয়েছেন) দেশে ফেরার কথা রয়েছে। এর আগে দলের সভানেত্রী সিনিয়র নেতাদের নিয়ে বৈঠক করে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা চূড়ান্ত করবেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘ব্লেম গেম’ ও পর্দার আড়ালের সমীকরণ

বিএনপি ও জামায়াত-এনসিপির পারস্পরিক দোষারোপ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে অভিযোগ করেছেন যে আওয়ামী লীগকে অস্থিতিশীলতা তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে, জামায়াত ও এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে বিএনপির কিছু নমনীয় নীতির কারণে আওয়ামী লীগ পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে।

অভিন্ন অবস্থান: দৃশ্যমান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ভিড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বুদ্ধিজীবীদের গোলটেবিল বৈঠকে উঠে এসেছে যে, আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান বা প্রত্যাবর্তন ঠেকানোর প্রশ্নে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মূল কৌশলগত অবস্থান মূলত এক বিন্দুতেই মিলছে।

ভবিষ্যৎ আশঙ্কা শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন এবং নেতাকর্মীদের এই আকস্মিক ‘ডু অর ডাই’ কর্মসূচি সরকারের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। মাঠপর্যায়ে পুলিশের অনীহা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক দোষারোপের এই খেলায় সামনের দিনগুলোতে রাজনৈতিক অঙ্গন আরও বেশি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

লেখক: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা (The Source News Bangla)

এই সংবাদটি শেয়ার করুন: