মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

উপসম্পাদকীয়

বিদ্যুৎ খাতের আলো ও আঁধার শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ সক্ষমতা ২৯ হাজার ৯৩০ মেগাওয়াট থেকে বর্তমানে উৎপাদন মাত্র ১২ হাজারে নীচে: সংকটের মূলে কী? সমাধার কোথায় ?

লিখেছেন: আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, রাজনীতিবিদ, মেয়র, সিলেট সিটি কর্পোরেশন। প্রকাশিত: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৩ এএম
 বিদ্যুৎ খাতের আলো ও আঁধার শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ সক্ষমতা ২৯ হাজার ৯৩০ মেগাওয়াট থেকে বর্তমানে উৎপাদন মাত্র ১২ হাজারে নীচে: সংকটের মূলে কী? সমাধার কোথায় ?

২য় পর্ব:

কাগজে-কলমে বাংলাদেশের বর্তমান বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯,০০০ মেগাওয়াট। অথচ গত কয়েক সপ্তাহে দেশে ১৬,০০০ মেগাওয়াটের চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ১২,০০০ থেকে ১২, ৫০০ মেগাওয়াট। দেশের অর্ধেকেরও বেশি বিদ্যুৎ কেন্দ্র সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি অভাবে হয় বন্ধ রয়েছে, না হয় অলস বসে আছে। সারাদেশে প্রতিদিন ২,০০০ থেকে ৩,৫০০ মেগাওয়াটেরও বেশি ভয়াবহ লোডশেডিং সামাল দিতে হচ্ছে।

শতভাগ বিদ্যুতায়নের দেশের এই হঠাৎ মহাবিপর্যয় ও গভীর জ্বালানি সংকটের পেছনের মূল কারণগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:

১. তীব্র গ্যাস সংকট ও এলএনজি আমদানির ধাক্কা: দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট সক্ষমতা প্রায় ১২,০০০ মেগাওয়াট। কিন্তু গ্যাস না থাকায় ৫,০০০ মেগাওয়াটের কিছু বেশি উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। প্রায় ৭,০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্যাসচালিত প্ল্যান্ট সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ডলার সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে চড়া দামে এলএনজি কেনা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (PDB) পক্ষে অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

২. বকেয়া বিল ও তেলের অভাব: কয়লা এবং ফার্নেস অয়েলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিল কোটি কোটি টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে। বিদেশি কয়লা সরবরাহকারী ও দেশীয় স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের (IPP) পাওনা মেটাতে না পারায় কয়লা ও ফার্নেস অয়েল আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। এমনকি আদানি পাওয়ার এবং ভারতের অন্যান্য রুট থেকেও সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে।

৩. 'ক্যাপাসিটি চার্জ' ও নীতিগত ভুল: বিদ্যুৎ উৎপাদন না করলেও চুক্তি অনুযায়ী বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে বিপুল পরিমাণ টাকা 'ক্যাপাসিটি চার্জ' বা কেন্দ্র ভাড়া হিসেবে দিতে হয়েছে। ফলে জ্বালানি কেনার অর্থ সংকটে পড়েছে বিদ্যুৎ খাত, অথচ কেন্দ্র বসিয়ে রেখেই কোটি কোটি টাকা গুনতে হচ্ছে।

৪. গ্রাম-শহরের বৈষম্য: জাতীয় গ্রিডের এই ঘাটতির বড় মাশুল গুনছে দেশের গ্রামীণ জনগণ। রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিন দিনে ১-২ ঘণ্টা লোডশেডিং হলেও ঢাকার বাইরের জেলাগুলো ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় দৈনিক ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। পোশাকশিল্প ও ছোট-বড় কলকারখানাগুলোতে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চাপে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। (চলবে... শেষ পর্ব আগামীকাল)

লেখক: আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, রাজনীতিবিদ, মেয়র, সিলেট সিটি কর্পোরেশন।