বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

রাজনীতি

সংকট কাটিয়ে নবযাত্রার প্রত্যয়: অসাম্প্রদায়িকতা ও জনগণের ভালোবাসায় জেগে ওঠার অঙ্গীকার

লিখেছেন: ড.আবুল হাসনাৎ মিল্টন প্রকাশিত: ৬ আগস্ট ২০২৬, ৫:০৭ এএম
সংকট কাটিয়ে নবযাত্রার প্রত্যয়: অসাম্প্রদায়িকতা ও জনগণের ভালোবাসায় জেগে ওঠার অঙ্গীকার

নয়াদিল্লির Foreign Correspondents' Club of South Asia-তে আয়োজিত এক আবেগঘন সংবাদ সম্মেলনে এক নতুন, দৃঢ় ও প্রত্যাশাবাদী সুর ধ্বনিত হলো। বাংলাদেশের পাঁচবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার প্রদত্ত বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ নয়; এটি ছিল গভীর বেদনার মধ্য থেকে উঠে আসা এক অদম্য প্রতিরোধ এবং একটি জাতিকে পুনর্গঠনের উদাত্ত আহ্বান। প্রিয় জন্মভূমি থেকে সাময়িক বিচ্ছিন্নতা তাঁর কণ্ঠের দৃঢ়তা কাড়তে পারেনি, বরং জনগণের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও সাংবিধানিক মূলবোধ পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকারকে আরও শাণিত করেছে। ষড়যন্ত্রের ব্যবচ্ছেদ ও সত্যের আলোকপাত ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শেখ হাসিনা ঘটনার আড়ালের সত্য ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বিশ্লেষণ করেন। তিনি সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেন কীভাবে সাধারণ ছাত্রদের আবেগ ও কোটা সংস্কারের ন্যায়সঙ্গত দাবিকে কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে একটি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে সহিংস রাজনৈতিক হাতিয়ারে রূপ দেওয়া হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো—যেমন মেট্রোরেল, ডেটা সেন্টার, হাসপাতাল, পুলিশ ফাঁড়ি এবং গণমাধ্যম কার্যালয়ে ভয়াবহ আক্রমণ ও অগ্নিকাণ্ড প্রমাণ করে এটি কোনো স্বতঃস্ফূর্ত নাগরিক প্রতিরোধ ছিল না, বরং ছিল সাংবিধানিক শৃঙ্খলা ধ্বংস করার সুনির্দিষ্ট মাস্টারপ্ল্যান। বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের মাধ্যমে প্রতিটি মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও আইনি প্রক্রিয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। বর্তমান সংকট ও অর্থনৈতিক ধ্বংসযজ্ঞ পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, নির্বিচারে হামলা, গণগ্রেপ্তার, মামলা এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের যে চিত্র তিনি তুলে ধরেছেন তা সত্যিই উদ্বেগজনক। জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে যাওয়া, শিল্প উৎপাদন হ্রাস, নতুন বেকারত্ব এবং দারিদ্র্য বৃদ্ধি পাওয়ার মতো সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকগুলোর যে অবনমন ঘটেছে, তা দেশের প্রতিটি সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করেছে। কিন্তু এই সংকটের বর্ণনায় কোনো হতাশাজনক আত্মসমর্পণ ছিল না; ছিল বাস্তবতাকে চিনে নিয়ে সেখান থেকে উত্তরণের তাগিদ। অর্জনের গৌরব ও আগামীর প্রত্যাশা শেখ হাসিনা মনে করিয়ে দেন, বাংলাদেশ কেবল সংকটের দেশ নয়; বাংলাদেশ সম্ভাবনার দেশ। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও কর্ণফূলী টানেলের মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে যে 'এশিয়ার উদীয়মান বাঘ'-এর পরিচয় রচিত হয়েছিল, সেই গৌরবান্বিত ইতিহাসে বাংলাদেশ আবারও ফিরে আসবে। গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার ফিরিয়ে আনার যে আট দফা দাবি তিনি উপস্থাপন করেছেন, তা কোনো একক রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা নয়—বরং রাষ্ট্রকে পুনরায় সুসংগঠিত করার পথনকশা। শুভ সূচনা ও নবযাত্রার অঙ্গীকার গ্রেপ্তার, জেল কিংবা প্রাণনাশের ঝুঁকি উপেক্ষা করে দেশের মানুষের কাছে ফিরে আসার এই দৃঢ় ঘোষণা কেবল আত্মবিশ্বাসের প্রতীক নয়, এটি কোটি মানুষের অন্তরে আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে দেয়। "ভয় কখনোই জনগণের প্রতি আমার দায়িত্ব নির্ধারণ করতে পারে না"—তাঁর এই উক্তিই প্রমাণ করে যে সত্য ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম কখনোই দমে যায় না। সব মেঘ কেটে গিয়ে বাংলাদেশ আবারও তার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধে এবং সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে। জনগণের ভালোবাসাকে পরম শক্তি হিসেবে গ্রহণ করে বাংলাদেশ তার এই সংকটকাল অতিক্রম করবেই—এটাই এই প্রতিবেদনের মূল বার্তা এবং আগামী দিনের প্রত্যয়।

লেখক: ড.আবুল হাসনাৎ মিল্টন, প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা