শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

জাতীয়

৩২ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল সরকার, ২৬ এর সন্ধ্যার ভোটের রুপকারদের কি হবে ?

লিখেছেন: শচীন বাঙালি প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২:০১ পিএম
 ৩২ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল সরকার, ২৬ এর সন্ধ্যার ভোটের রুপকারদের কি হবে ?

সরকার ৩২ জন যুগ্ম সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অবসরে পাঠানো এসব কর্মকর্তার অধিকাংশই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জেলা প্রশাসক (ডিসি), রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। ফলে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে প্রশাসনিক মহলের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো মানেই তিনি কোনো নির্বাচনী অনিয়মে জড়িত ছিলেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ থাকতে পারে, আবার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও থাকতে পারে। তাই স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া ব্যক্তিগত দায় নির্ধারণ করা হলে তা নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে যদি সত্যিই কোনো তদন্ত বা জবাবদিহির উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে শুধু মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নয়, তৎকালীন নির্বাচন কমিশন, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন পর্যায় এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। কারণ একটি জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কোনো একক কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়; এটি একটি বৃহৎ প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক কাঠামোর সমন্বিত প্রক্রিয়া। ফলে ৩২ কর্মকর্তার বাধ্যতামূলক অবসরকে শুধু প্রশাসনিক রদবদল হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টির রাজনৈতিক তাৎপর্য হয়তো ধরা পড়বে না। বরং এটি ২০১৮ সালের নির্বাচন ঘিরে বহুল আলোচিত অভিযোগগুলোর সম্ভাব্য পুনর্মূল্যায়নের ইঙ্গিত কি না—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের অঅগের দিন সন্ধ্যা বেলায় ভোটের বাক্স ভরে রাখার নজির সামনে রেখে, সরকার যদি অতীতের নির্বাচনী বিতর্কের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায়, তাহলে তা হতে হবে আরো বিতকিত ভুমিকা অন্যথায় ‘সন্ধ্যার ভোটের রুপকার’ খোঁজার উদ্যোগও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হতে বাধ্য এটা সময়ের ব্যপার মাত্র।

বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারা হলেন—গোপাল চন্দ্র দাশ (৬৯২৩), এস এম ফেরদৌস (৬৯১৮), এস এম আব্দুল কাদের (৬৯১৬), আলী আকবর (৬৯১২), মাহমুদুল কবীর মুরাদ (৬৮৯৯), সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী (৬৮৯৬), সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন (৬৮৯৪), ড. মোহাম্মদ হেলাল হোসেন (৬৮৮৯), আনার কলি মাহবুব (৬৮৮৬), সুলতানা পারভীন (৬৮৮৪), নাজিয়া শিরিন (৬৮৭৪), মতিউল ইসলাম চৌধুরী (৬৮৭১), মাসুদ আলম ছিদ্দিক (৬৮৬৫), এস এম অজিয়র রহমান (৬৮৬৩), মো. ওয়াহিদুজ্জামান (৬৮৫৮), শহিদুল ইসলাম (৬৮৫০), সরোজ কুমার নাথ (৬৮৪১), জসিম উদ্দিন (৬৮১১), আব্দুল আহাদ (৬৮০৬), কামাল হোসেন (৬৮০১), এ কে এম মামুনুর রশিদ (৬৭৮২), অঞ্জন চন্দ্র পাল (৬৭৭৮), ইলিয়াস হোসেন (৬৭৫০), মিজানুর রহমান (৬৭৩৭), এ জেড এম নুরুল হক (৬৭৩৩), কাজী আবু তাহের (৬৭৩১), মো. শাহরিয়ার (৬৬৯৪), দাউদুল ইসলাম (৬৬৮১), মঈনউল ইসলাম (৬৬৪৬), আসলাম হোসেন (৬৬৪৪), আবুল ফজল মীর (৬৬৪০) ও মাজেদুর রহমান খান (৬৬৩৯)।

লেখক : শচীন বাঙালি,কলামিস্ট ও রাজনৈতি বিশ্লেষক