সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

সংবাদ পর্যালোচনা

সামরিক নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনা-কল্পনা: কেন দুই প্রধান রাজনৈতিক মেরুর কাছেই ‘অস্বস্তিকর’ সেনাপ্রধান? বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সেনাবাহিনীর অবস্থান

✍ লিখেছেন: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা (The Source News Bangla) প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১:১৬ পিএম
সামরিক নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনা-কল্পনা: কেন দুই প্রধান রাজনৈতিক মেরুর কাছেই ‘অস্বস্তিকর’ সেনাপ্রধান? বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সেনাবাহিনীর অবস্থান

১. আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তি ও দেরিতে হলেও স্পষ্ট বার্তা আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সেনাপ্রধান ও সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে প্রচারিত তথ্যগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা হিসেবে এসব ছড়ানো হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে চেইন অব কমান্ড, পারস্পরিক আস্থা এবং পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যে সর্বদা ঐক্যবদ্ধ ও দায়িত্ব পালনে প্রতিজ্ঞ—সে বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিজ্ঞপ্তিতে সুনির্দিষ্টভাবে সেনাপ্রধান যে নিজ পদেই বহাল রয়েছেন, এই কয়েকটি শব্দ যুক্ত করলে বার্তাটি আরও বেশি জোরালো হতো।

২. গুঞ্জনের নেপথ্য কারণ ও রাজনৈতিক সমীকরণ বর্তমান সেনাপ্রধান বিদেশে অবস্থানকালীন সময়েই তাকে ঘিরে নতুন করে নানা গুঞ্জনের ডালপালা গজায়। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমল থেকেই সেনাপ্রধান এবং তৎকালীন রাষ্ট্রপতিকে সরানোর একটি প্রকাশ্য অপচেষ্টা কিছু মহলে লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের সামনের সারির অংশীদার বা বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের নানামুখী হিসাব-নিকাশ এর পেছনে কাজ করেছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—উভয় পক্ষ থেকেই অতীতে নানা কারণে সেনাপ্রধানকে নিয়ে একধরনের সংশয় বা দূরত্ব রাখার প্রবণতা দেখা গেছে।

বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় শিবিরই নিজেদের রাজনৈতিক হিসাব থেকে সেনাপ্রধানকে নিয়ে একসময় প্রশ্ন তুলেছে। আওয়ামী পন্থীরা মনে করেন তাঁর ভূমিকার কারণেই ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে, অন্যদিকে বিএনপির একাংশের মনেও অতীতে নিয়োগ ও পারিবারিক যোগসূত্র নিয়ে ভীতি কাজ করেছে। কিন্তু ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের সময় সেনাবাহিনী চাইলে সরাসরি ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারত—যা তারা করেনি।

৩. সামরিক সরকার বনাম গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা

ইতিহাস প্রমাণ করে যে, যেকোনো রাষ্ট্রে সরাসরি সেনা শাসন কখনো দীর্ঘমেয়াদে জনকল্যাণ বয়ে আনে না। গণতান্ত্রিক বা নির্বাচিত সরকারের যেকোনো ত্রুটি বা ব্যর্থতা থাকলেও সামরিক সরকারের শাসনব্যবস্থা আরও বেশি জটিলতা তৈরি করে। অতীতে বিএনপি যখনই ক্ষমতায় থেকে সেনাপ্রধান নিয়োগ দিয়েছে, সেখান থেকে সবসময় অনুকূল ফিডব্যাক আসেনি।

৪. ভবিষ্যৎ সতর্কতা ৫ আগস্টের ঘটনার জন্য সেনাপ্রধান বা বাহিনীকে এককভাবে দায়ী করা বস্তুনিষ্ঠ নয়; বরং তৎকালীন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভুল তথ্য ও অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতাই মূল সংকট তৈরি করেছিল। তবে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং এ ধরনের ধ্বংসাত্মক গুজব ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সব পক্ষকে আরও বেশি সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

লেখক: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা (The Source News Bangla)

এই সংবাদটি শেয়ার করুন: