রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

স্বাস্থ্য

১৮০ দিনে স্বাস্থ্য খাত: উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য ও বাস্তবতার মুখোমুখি বাংলাদেশ

লিখেছেন: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১:৫২ পিএম
১৮০ দিনে স্বাস্থ্য খাত: উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য ও বাস্তবতার মুখোমুখি বাংলাদেশ

একটি দেশের সার্বিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো নাগরিকদের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। নতুন সরকারের প্রথম ১৮০ দিন বা ছয় মাসের অগ্রাধিকার তালিকায় অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল ভেঙে পড়া চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো এবং মানসম্মত সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। সে লক্ষ্য অর্জনে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি জোরদারের মতো বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও, কিছু সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কারণে এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে স্বাস্থ্য খাতের কাঙ্ক্ষিত রূপান্তর।

বাজেটে রেকর্ড বরাদ্দ ও মৌলিক চ্যালেঞ্জসমূহ

বিদ্যমান সংকট সামলে নিয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থাকে সচল করতে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। তবে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দের পরও কাঠামোগত কিছু দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে বেগ পেতে হচ্ছে। তৃণমূল থেকে শুরু করে শহরাঞ্চলের হাসপাতালগুলোতে জনবল ঘাটতি, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং ডায়াগনস্টিক সুবিধার অসম বণ্টন চিকিৎসা কার্যক্রমে তৈরি করছে স্থবিরতা। এছাড়া টিকাদান কর্মসূচির আওতা থেকে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর বাদ পড়ে যাওয়া সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যকে ঝুঁকিতে ফেলছে।

হামের প্রকোপ ও শিশু স্বাস্থ্যের ওপর আঘাত

স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের পরিকল্পনা যখন প্রক্রিয়াধীন, ঠিক তখনই শিশু স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায় হামের প্রাদুর্ভাব। দেশের বিভিন্ন জেলাসহ রাজধানীতেও বাড়তে থাকে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেষ পাঁচ মাসে হাম ও এর উপসর্গে প্রায় ৯০৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার তাৎক্ষণিকভাবে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন চালু করলেও ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে মাঠপর্যায়ে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে। এদিকে হামের প্রাদুর্ভাব কাটতে না কাটতেই নতুন করে চিন্তা বাড়াচ্ছে ডেঙ্গু জ্বরের ক্রমবর্ধমান বিস্তার।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের পদক্ষেপ সংকট মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে কথা বলেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তাঁর মতে, আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশই নিয়মিত টিকাদানের বাইরে ছিল। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে এখন স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকাদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যেই ১০ লাখের বেশি নতুন টিকা প্রদান করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

ভবিষ্যৎ ভাবনা ও উত্তরণের পথ

স্বাস্থ্য খাতের প্রথম ১৮০ দিনের পর্যালোচনায় দেখা যায়, সরকারের সদিচ্ছা ও অর্থ বরাদ্দের ঘাটতি না থাকলেও আকস্মিক স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় আরও সমন্বিত প্রস্তুতির প্রয়োজন ছিল। মহামারি বা সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের স্বাস্থ্য অবকাঠামো শক্তিশালী করা এবং টিকাদান কর্মসূচি ১০০% নিশ্চিত করাই হতে পারে আগামীর মূল লক্ষ্য।

লেখক: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা (The Source News Bangla)