শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

স্বাস্থ্য

শিশু মরে হামে, ইউনূস-তারেক কি ঘামে?

লিখেছেন: এ বি এম কামরুল হাসান, প্রবাসী চিকিৎসক ও কলামিস্ট প্রকাশিত: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১০:২৩ পিএম
শিশু মরে হামে, ইউনূস-তারেক কি ঘামে?

শিশু মরে হামে, ইউনূস-তারেক কি ঘামে? এ বি এম কামরুল হাসান, প্রবাসী চিকিৎসক ও কলামিস্ট একটি সভ্য রাষ্ট্রে শিশুর মৃত্যু কখনোই কেবল একটি পরিসংখ্যান হতে পারে না। বিশেষ করে যখন সেই মৃত্যু ঘটে হামের মতো একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগে, যার বিরুদ্ধে বহু বছর ধরেই নিরাপদ ও কার্যকর টিকা রয়েছে। তাই প্রতিটি শিশুমৃত্যু শুধু একটি পরিবারের শোক নয়, এটি রাষ্ট্রের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং শাসনব্যবস্থার জবাবদিহিরও কঠিন পরীক্ষা। বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে, শিশুমৃত্যুর খবর এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—কেন? জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা কি যথাসময়ে সতর্ক হয়েছিল? টিকাদান কর্মসূচি কি যথাযথভাবে পরিচালিত হয়েছিল? নাকি প্রশাসনিক অবহেলা ও অগ্রাধিকারহীনতার কারণে একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ আবারও শিশুদের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে? ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্বাস্থ্যখাতকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দেওয়া, টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা এবং সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের বিষয় হলেও, একটি বিষয় অনস্বীকার্য—যে সময়ে সংকট ঘটে, সেই সময়ের সরকারের ওপর তার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায় বর্তায়। কিন্তু প্রশ্ন এখানেই শেষ নয়। বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল, হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশুমৃত্যুর ঘটনায় যদি কোনো প্রশাসনিক ব্যর্থতা থেকে থাকে, তবে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হবে। দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। কারণ সরকার বদলালেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না; বরং অতীতের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করাই নতুন সরকারের অন্যতম কর্তব্য। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো তদন্ত, জবাবদিহি বা দায় নিরূপণের উদ্যোগ জনসাধারণের সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠেনি। ফলে প্রশ্ন উঠছে—হামের মতো একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগে শিশুদের মৃত্যু কি শুধুই একটি সংবাদ হয়ে থাকবে? নাকি এর জন্য কোনো দিন কেউ জবাবদিহির মুখোমুখি হবে? রাজনীতিতে একে অপরকে দোষারোপ করা সহজ। কিন্তু জনগণ এখন দোষারোপ নয়, দায়িত্ব দেখতে চায়। তারা জানতে চায়, কেন একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগে শিশুদের প্রাণ হারাতে হলো? কেন জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা ব্যর্থ হলো? আর কেন সেই ব্যর্থতার তদন্ত ও জবাবদিহি আজও অধরা? একটি শিশুর জীবন কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, কোনো নেতারও নয়। রাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুই সমান মূল্যবান। একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগে একটি শিশুর মৃত্যুও রাষ্ট্রের জন্য ব্যর্থতার প্রতীক হওয়া উচিত। এই কারণেই আজ প্রশ্নটি শুধু ড. ইউনূসের উদ্দেশে নয়, বর্তমান ক্ষমতাসীন নেতৃত্বের প্রতিও। যদি তৎকালীন সরকার সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়ে থাকে, তবে তার তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের দায়িত্ব। আর যদি বর্তমান সরকারও সেই দায়িত্ব পালনে অনীহা দেখায়, তবে জনগণ স্বাভাবিকভাবেই মনে করবে—শিশুদের জীবন রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের তালিকায় নেই। জনগণের একাংশের অভিযোগ, হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশুমৃত্যুর ঘটনায় ইউনূস সরকার যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। একই সঙ্গে তাদের প্রশ্ন, বর্তমান বিএনপি সরকারও কেন সেই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না? এমন অভিযোগও রয়েছে যে, এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপের উদ্যোগও যথাযথভাবে অগ্রসর হয়নি। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব। একজন তখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, আরেকজন আজ দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতৃত্বের অন্যতম মুখ। কিন্তু শিশুদের জীবন, জনস্বাস্থ্য এবং জবাবদিহির প্রশ্নে জনগণ শুধু বক্তব্য নয়, কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চায়। কারণ ক্ষমতা পরিবর্তন হলেও রাষ্ট্রের দায়িত্ব পরিবর্তন হয় না। যত দিন হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগে শিশুদের মৃত্যু ঘটবে, যত দিন সেই মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান ও দায় নিরূপণে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাবে না, তত দিন এই প্রশ্নও বেঁচে থাকবে—শিশু মরে হামে, ইউনূস-তারেক কেন ঘামে না?

এ বি এম কামরুল হাসান, প্রবাসী চিকিৎসক ও কলামিস্ট