রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

প্রতিবেশী

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নতুন সংযোগ সেতু: ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ড ত্রিপক্ষীয় হাইওয়ে

লিখেছেন: ড.আবুল হাসনাৎ মিল্টন প্রকাশিত: ৭ আগস্ট ২০২৬, ৪:০৫ পিএম
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নতুন সংযোগ সেতু: ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ড ত্রিপক্ষীয় হাইওয়ে

আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি ও অর্থনৈতিক সংযোগের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্থান পেতে যাচ্ছে ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ড (IMT) ত্রিপক্ষীয় হাইওয়ে প্রকল্প। সম্প্রতি মিয়ানমারের জান্তা প্রধান প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং-এর ব্যাংকক সফরের পর প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড এ মেগা প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই উদ্যোগটি থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে মিয়ানমারের ভেতর দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরের মোরেহ (Moreh) পর্যন্ত প্রায় ১,৩৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করবে।

প্রকল্পের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক তাৎপর্য

১. ভারতের 'অ্যাক্ট ইস্ট' নীতি ও আসিয়ান সংযোগ: ভারতের 'অ্যাক্ট ইস্ট' (Act East) নীতির অন্যতম মূল স্তম্ভ এই হাইওয়ে। এটি ভারতের স্থলাবেষ্টিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে সরাসরি আসিয়ান (ASEAN) বাজারের সাথে যুক্ত করবে।

২. বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সুবিধা: সড়কটি চালু হলে তিন দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহন সময় ও খরচ নাটকীয়ভাবে কমে আসবে। কৃষি, বস্ত্র, যন্ত্রাংশ এবং ইলেকট্রনিক্স খাতে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বাণিজ্য বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

৩. পর্যটন ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন: দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সড়কপথে যোগাযোগ সহজ হওয়ায় স্থলজ পর্যটন (overland tourism) এবং ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান আরও গতি পাবে।

প্রধান চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতা

অঙ্গীকার সত্ত্বেও প্রকল্পটির পূর্ণ বাস্তবায়ন বেশ কিছু জটিল চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন: • মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা: ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারের কাচিন, কারেন ও চিন রাজ্যে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সাথে সেনাবাহিনীর চলমান সংঘাত অবকাঠামো নির্মাণের প্রধান বাধা।

• ভৌগোলিক জটিলতা: পাহাড়ি ভূখণ্ড, ঘন জঙ্গল এবং দীর্ঘ বর্ষাকাল নির্মাণকাজ ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণকে কঠিন করে তোলে। • তহবিল ও অর্থায়ন: অবকাঠামোগত মান বজায় রাখা এবং সেতু নির্মাণের অর্থায়ন নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

ভবিষ্যৎ পথরেখা

ভারতের আসাম থেকে শুরু করে কম্বোডিয়া, লাওস ও ভিয়েতনাম পর্যন্ত এই হাইওয়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে, যা ভবিষ্যতে এক বিশাল 'ইন্ডিয়া-আসিয়ান ইকোনমিক করিডোর'-এ পরিণত হতে পারে। মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের সাম্প্রতিক যৌথ প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট করে যে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জটিলতা সত্ত্বেও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক স্বার্থে এই মহাসড়কটি অত্যন্ত জরুরি।

পদ্ধতিগত নিরাপত্তা প্রদান, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সহজীকরণ এবং অবকাঠামোগত অর্থায়ন দ্রুত নিশ্চিত করতে পারলে এই ত্রিপক্ষীয় হাইওয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক দৃশ্যপট বদলে দিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

লেখক: ড.আবুল হাসনাৎ মিল্টন, প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা