রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

উপসম্পাদকীয়

অশ্রুসিক্ত ইতিহাসে এক অমর মহাকাব্য: বঙ্গবন্ধুর নজিরবিহীন কীর্তি ও পঁচাত্তরের কালরাত

লিখেছেন: অ্যাভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানাক,রাজনীতিবিদ,সাবেক মন্ত্রী, প্রেসিডিয়াম সদস্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪০ পিএম
অশ্রুসিক্ত ইতিহাসে এক অমর মহাকাব্য: বঙ্গবন্ধুর নজিরবিহীন কীর্তি ও পঁচাত্তরের কালরাত

বহু নদী ও সহস্রাব্দের চড়াই-উতরাই পেরিয়ে যে রক্তিম ভোরের স্বপ্ন দেখেছিল এই বাংলা, তার পুরোটা জুড়েই জড়িয়ে ছিল একটি নাম—শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৪৭-এর দেশভাগ থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলন, ৫৪-র যুক্তফ্রন্ট, ৬৬-র ছয় দফা, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ৭০-এর নির্বাচন—প্রতিটি ঐতিহাসিক মোড়ে তিনি ছিলেন নির্ভীক ও অকুতোভয় কাণ্ডারী।

৭১-এর ৭ই মার্চে তাঁর সেই অমর বজ্রকণ্ঠ—“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”—পুরো জাতিকে স্বাধীনতার অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষিত করেছিল। অবশেষে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম এবং ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বিশ্বমানচিত্রে আত্মপ্রকাশ ঘটে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের।

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠন, মিত্রবাহিনীর তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার নিশ্চিতকরণ, মাত্র নয় মাসে শাসনতন্ত্র বা সংবিধান উপহার দেওয়া এবং বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে সম্মানের আসনে বসানো—সবই ছিল তাঁর অলৌকিক নেতৃত্বেরই প্রতিফলন। কিন্তু এই বাঙালির ট্র্যাজেডি লিখে রেখেছিল এক বিষাদময় পরিণতি।

কালরাতের রক্তভেজা শোককথা

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট—বাঙালির ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কিত ও বেদনাবিধুর দিন। মুক্তিযুদ্ধের বিজিত শকুনের দল ও দেশীয় চক্রান্তকারীদের গোপন ষড়যন্ত্রে স্তব্ধ হয়ে যায় এই মহীরুহ। হঠকারী কিছু বিপথগামী সেনা সদস্য অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর প্রিয় পরিবার-পরিজন এবং সহকর্মীসহ মোট ১৮ জন নিষ্পাপ প্রাণকে।

যে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি থেকে একসময় স্বাধীনতার নির্দেশ যেত, তা সেদিন ভেসে যায় জাতির পিতার লাল রক্তে। যে মানুষটি নিজের জীবনের বিনিময়ে একটি জাতিকে নিজের স্বাধীন ভূখণ্ড ও ভাষার অধিকার দিয়ে গেলেন, তাঁকেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে হলো আপন দেশের কিছু ঘাতকের বুলেটে। স্বদেশ, তোমার রক্তভেজা মাটিতে দাঁড়িয়ে— যে মহানায়ক আমাদের পরিচয় দিলেন, তাঁকে আমরা হারিয়েছি অন্ধকারের এক অভিশপ্ত ভোরে। সেই শূন্যতা, সেই বেদনার দাগ— আজও রক্তক্ষরণ ঘটায় এ দেশের প্রতিটি হৃদয়ে।

টুঙ্গিপাড়ার শান্ত মাটি যখন তাঁকে নিজের বুকে আড়াল করে নিয়েছিল, ঘাতকেরা ভেবেছিল—সব শেষ। ভেবেছিল, লাল-সবুজের মানচিত্র থেকে একটি নাম স্রেফ মুছে দিলেই ইতিহাসের গতিপথ বদলে যাবে। কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি, কিছু মানুষ মাটির নিচে বিলীন হন না; বরং বীজ হয়ে ফুটে ওঠেন কোটি কোটি হৃদয়ে। নাম মুছে ফেলার অপচেষ্টা, ইতিহাসে খলনায়ক প্রতিস্থাপনের চক্রান্ত কিংবা স্তব্ধ করে দেওয়ার ঘৃণ্য চক্রান্ত—কোনো কিছুই সত্যকে পরাজিত করতে পারেনি। সময় প্রমাণ করেছে, শেখ মুজিবুর রহমান কেবল এক ব্যক্তি নন, তিনি স্বয়ং বাংলাদেশ।

জাতিরাষ্ট্রের মূল কারিগর: হাজার বছরের ইতিহাসের পরিক্রমায় বাঙালিকে একটি নির্দিষ্ট স্বাধীন ভূখণ্ড এবং জাতিভিত্তিক পরিচয় উপহার দেওয়া বঙ্গবন্ধুর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। মিত্রবাহিনীর বিরল প্রত্যাবর্তন: যুদ্ধ শেষ হওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যে (১৫ মার্চ ১৯৭২) ভারতীয় বাহিনীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো বিশ্ব কূটনীতির ইতিহাসে এক বিরল ও অনন্য দৃষ্টান্ত।

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মর্যাদা বৃদ্ধি: ১৯৭৪ সালের মধ্যে ১২১টি দেশের কূটনৈতিক স্বীকৃতি অর্জন এবং জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের আত্মমর্যাদা সুপ্রতিষ্ঠিত করা।

মানবিক কূটনীতি: 'সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়'—এই অহিংস ও সাম্যবাদী নীতিতে দেশকে এশিয়ার সুইজারল্যান্ড হিসেবে গড়ার সংকল্প।

শোককে শক্তিতে পরিণত করার অঙ্গীকার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ হোসেনের সেই অমলিন বাণী আজও আমাদের অন্তরে ধ্বনিত হয়—

"যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, যতদিন বাংলা ভাষা থাকবে, যতদিন গঙ্গা-যমুনা, পদ্মা-মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র ধলেশ্বরীর দুই তীরের মানুষ বেঁচে থাকবে—ততদিন অন্তরের মণিকোঠায় একটি নাম চিরজাগরূক থাকবে, শেখ মুজিবুর রহমান।"

আজও আমাদের দেশে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য কিংবা অসমাপ্ত স্বপ্নের যে হাহাকার রয়ে গেছে, তা আমাদের ব্যর্থতারই স্মারক। এই বিষাদময় ইতিহাস থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে এক স্বনির্ভর, অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হতে পারে সেই মহানায়কের প্রতি আমাদের সবচেয়ে বড় শ্রদ্ধাঞ্জলি।

দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতিতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বর্তমানে ৪১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় লোডশেডিং ৩,৭৫৭ মেগাওয়াটে গিয়ে ঠেকেছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে গড়ে ১৪ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না।

কামরাঙ্গীরচরের বাসিন্দা জয়তুর বিবি ক্ষোভ ও আকুতি প্রকাশ করে বলেন, "এখানে দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ থাকে না। শেখ হাসিনার সময় ঝড়ে-তুফানেও বিদ্যুৎ থাকত, বিল কম আসত। এখন গরীব মানুষ বাঁচবে কীভাবে?" তাঁর এই ক্ষোভেই ফুটে উঠেছে সাধারণ মানুষের অসহায়ত্ব।

বিগত দেড় দশকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শতভাগ বিদ্যুৎায়ন ও আধুনিক পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণের মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ে নাভিশ্বাস উঠছে জনজীবনে।

প্রতিদিন দেশে গড়ে ৩৩ জন হত্যা, গড়ে ১১ জন করে ধর্ষণ, প্রতিদিন গড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা করে ঋণ নিয়ে সরকারি ব্যয় মেটাচ্ছে সরকার, ৩৪ শতাংশ শিল্পকারখানা বন্ধ। জঙ্গিবাদে ছেয়ে গেছে সোনার দেশ। জঙ্গিদের হাতে ১০০টি প্রেসার কুকার বোমা—বলছে জাতিসংঘের প্রতিবেদন; ঢাকাসহ ৬২ স্থানে বোমা উদ্ধার, খাদ্যদ্রব্যের মূল্যস্ফীতি ১৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, প্রশাসনের সর্বত্র দলীয়করণ, দেশের সর্বত্র চলছে লুটপাটের মহাউৎসব। এই মুহূর্তে গণমানুষের একটাইাওয়া—ফিরিয়ে দাও বঙ্গবন্ধুর কন্যার সেই বাংলাদেশ।

কামরাঙ্গীরচরের বাসিন্দা জয়তুর বিবি ক্ষোভ ও আকুতি প্রকাশ করে বলেন, শেখ হাসিনার পায়ে ধরে মাফ চেয়ে তাকে ফিরিয়ে আনেন- তবেই গরীর বাঁচবে … "আমার কথা নয়,এটা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘দ্যা সোর্স নিউজ’ (The Source News)-এর খবর।"

লেখক: অ্যাভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানাক,রাজনীতিবিদ,সাবেক মন্ত্রী, প্রেসিডিয়াম সদস্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।