রক্তাক্ত বাংলাদেশ ও সুশীল মুখোশের আড়ালে নজিরবিহীন রাষ্ট্রীয় ডাকাতি: ইউনূস সরকারের দেড় বছরের ভয়াবহ প্রতারণার চালচিত্র: আবেগের ছলে ক্ষমতার মোহ: এক মেটিকুলাস চক্রান্তের শিকার জাতি।
ছাত্র-জনতার আবেগ আর রক্তকে পুঁজি করে, নিখুঁত কৌশলে ২০২৪ সালে ক্ষমতার মসনদে বসেছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ২০০৮ সাল থেকে অন্তরে লালন করা সেই অদম্য ক্ষমতার লোভ চরিতার্থ করতে গিয়ে আজ রক্তাক্ত হয়েছে পুরো দেশ। যে সাধারণ শিক্ষার্থী ও নিষ্পাপ শিশুরা ঘরে বসে নিরাপদ ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিল, তাদের জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দিয়েছে ইউনূসের বাহিনী। দেশবাসী সেদিন আওয়ামী লীগ সরকারকে ভুল বুঝলেও, রাজনৈতিক দূরদর্শী নেত্রী শেখ হাসিনা ঠিকই চিনেছিলেন এই বহুরূপীকে। ক্ষমতা দখলের পরদিনই ৮ আগস্ট ২০২৪ থেকে শুরু হয় নিজের অপরাধ ঢাকার কৌশল—কর ফাঁকি, শ্রম আইন লঙ্ঘনসহ যাবতীয় দুর্নীতির মামলা রাতারাতি আদালত থেকে খারিজ করিয়ে নিজেকে সাধু প্রমাণের মহোৎসব চালানো হয়।
উপদেষ্টা মণ্ডলীর ভণ্ডামি ও রেকর্ডভাঙা লুটপাট
সুশাসনের বুলি আওড়ানো এই অন্তর্বর্তী সরকার প্রকৃতপক্ষে একদল ডলার-খেকো, এনজিও-নির্ভর জনবিচ্ছিন্ন চক্রের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা পড়া প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার লিখিত অভিযোগই বলে দেয় এদের আসল রূপ:
ড. মুহাম্মদ ইউনূস: প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ই চার দেশে (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও নরওয়ে) ৫,০০০ কোটি টাকার বেশি পাচারের অভিযোগ। গ্রামীণফোনের মাধ্যমে নরওয়েতে নিজস্ব অ্যাকাউন্টে ৩৭৪ কোটি টাকা জমার সুনির্দিষ্ট তথ্য।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া: ১৩ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ, যার মধ্যে দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে পাচার হয়েছে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। আসিফ নজরুল: নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে ১০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং নিউইয়র্ক ও ফ্লোরিডায় বেনামে বিপুল সম্পদ অর্জন।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান: স্বামীর মাধ্যমে দুবাই ও লন্ডনে অবৈধ সাম্রাজ্য বিস্তার এবং ৮,০০০ কোটি টাকার দুর্নীতি।
নুরজাহান বেগম: রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সুবিধা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে নিজ আত্মীয়ের নামে বিলাসবহুল প্রাসাদ ক্রয়।
শিশুর রক্তে রাঙানো পথ ও নিঃস্ব অর্থনীতি
সংস্কারের লোভনীয় গল্প শুনিয়ে এই সরকার দেশের কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাস নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। একদিকে চিকিৎসার চরম অবহেলা ও টিকাদান কর্মসূচির ব্যর্থতায় নিভে গেছে অগণিত নিষ্পাপ শিশুর প্রাণ, অন্যদিকে ব্যাংক ব্যবস্থা ও সামগ্রিক অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেশকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে সম্পূর্ণ দেউলিয়াত্বের দিকে। সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থ ২০২৪ সালের ৫৯ কোটি সুইস ফ্রাঁ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁতে পৌঁছানো (৪১% বৃদ্ধি) প্রমাণ করে দেশীয় সম্পদ লুট করে কিভাবে নিজেদের পকেট ভারী করা হয়েছে।
জনগণের কাঠগড়ায় ভণ্ড সুশীল সিন্ডিকেট
সংস্কারের নামাবলী গায়ে জড়িয়ে দেশকে অন্ধকারের অতল গহ্বরে ঠেলে দেওয়া এই এনজিও-সিন্ডিকেটের মুখোশ আজ সম্পূর্ণ খসে পড়েছে। মব-সন্ত্রাস আর বিদেশি প্রভুদের সন্তুষ্ট করতে গিয়ে যারা দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড তছনছ করেছে, তাদের প্রতি জাতির আর কোনো সহানুভূতি নেই। সচেতন জনগণ আজ জেগে উঠেছে; রক্ত আর অশ্রুতে ভেজা এই বাংলাদেশের প্রতিটি অনিয়ম, দুর্নীতি ও শিশু হত্যার কড়ায়-গণ্ডায় হিসাব নিতে পুরো জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া: তীব্র প্রতিবাদ, ক্ষোভ ও রাজনৈতিক বিভাজন
ইউনূস সরকারের দেড় বছরের কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাধারণ নেটিজেন, সমর্থক ও বিরোধীদের মন্তব্য বিশ্লেষণ করলে তিনটি প্রধান ধারা স্পষ্ট হয়ে ওঠে:
১. আইনি বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবি
অধিকাংশ ব্যবহারকারী সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের জবাবদিহিতা ও বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। নুরুল আমিন নুড়ু লিখেছেন, "দেশ থেকে যেনো পালাতে না পারে সে দিকে জনগণকে নজর রাখতে হবে!"। কামরুল হাসান ও ফিরোজ আলমের মতে, বাংলাদেশের মাটিতেই এদের কঠোর বিচার হতে হবে। বিস্যান্ড বিস্যান্ড নামে এক ব্যবহারকারী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে "মহাজনগংদের বিচার" নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এই অংশটি মনে করে, ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের রেহাই দেওয়া উচিত নয়।
আন্দোলন ও সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিরোধ
একটি বড় গোষ্ঠী বর্তমান সরকারের নীতি ও শাসনের বিরুদ্ধে সরাসরি মাঠে নামার আহ্বান জানাচ্ছেন। নাফিসুর রহমান লিখেছেন, "দেশ বাঁচাতে, মানুষ বাঁচাতে ২০ তারিখের লকডাউন সফল করুন"। এই ধরনের প্রতিক্রিয়া ইঙ্গিত দেয় যে, সাধারণ জনগণের একাংশ বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কঠোর রাজনৈতিক ও সামাজিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।
পাল্টাপাল্টি যুক্তি, কটাক্ষ ও বিদ্রূপ
সরকার সমর্থক বা বিরোধীদের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ ও বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য চোখে পড়ে। মুক্তবাক বাঙালি নামে একজন তীব্র কটাক্ষ করে মন্তব্য করেছেন, আবার সাজেব আকন্দ নির্দিষ্ট উপদেষ্টার পাচার সংক্রান্ত তথ্যের কথা উল্লেখ করে খোঁচা দিয়েছেন। বিপরীতে, মোঃ তোফায়েল শেখ অত্যন্ত সংক্ষেপে সমালোকদের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করে লিখেছেন, "নিজের চরকায় তেল দেন"।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই বিভাজন প্রমাণ করে যে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ, উদ্বেগ ও মতভিন্নতা বিরাজ করছে।
লেখক: শচীন বাঙালি,কলামিস্ট ও রাজনৈতি বিশ্লেষক
সম্পর্কিত সংবাদ
কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড়: পুতিন-হাসিনা ' ফোনালাপ' ও রূপপুর প্রকল্প ও দক্ষিণ এশিয়ায় ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ, ব্রিকস সম্মেলনের নেপথ্য আলোচনা ও বিশ্ব নেতাদের ভূমিকা
মুখোশের আড়ালে মহালুটপাট:ইউনূস সরকারের দেড় বছরে ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশী বিষবৃক্ষ
গুলশানে আওয়ামী লীগের হঠাৎ শোডাউন: প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা নাকি পতনের সংকেত ? কাবুলের ছায়া ও ঢাকার উত্তাল রাজনীতি