শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

রাজনীতি

৪৫ বছর পর মোজাফফর গ্রেপ্তার: জিয়া হত্যার অন্ধকার অধ্যায়ের কি এবার পর্দা উঠবে?

লিখেছেন: ড.আবুল হাসনাৎ মিল্টন প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১:০৯ এএম
৪৫ বছর পর মোজাফফর গ্রেপ্তার: জিয়া হত্যার অন্ধকার অধ্যায়ের কি এবার পর্দা উঠবে?

৪৫ বছর পর মোজাফফর গ্রেপ্তার: জিয়া হত্যার অন্ধকার অধ্যায়ের কি এবার পর্দা উঠবে?

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছর পর পলাতক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের গ্রেপ্তার পুরোনো এক রহস্যকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সংঘটিত সেই হত্যাকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা কী ছিল, ঘটনার পর তিনি কোথায় ছিলেন এবং কীভাবে এত দীর্ঘ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চললেন—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর মোজাফফরকে সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সামরিক আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যেই তাঁকে চট্টগ্রামের ঘটনাস্থল ও কথিত দাফনস্থল পরিদর্শনে নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে দাবি করা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডের পর জিয়াউর রহমানের মরদেহ পাহাড়ি এলাকায় সরিয়ে ফেলার নির্দেশ পেয়েও মোজাফফর তা দাফন করেছিলেন। পরদিন তিনি আরেক মেজরের সঙ্গে ভারতে পালিয়ে যান এবং দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকেন—এমন তথ্যও সামনে এসেছে। তবে এসব দাবির সবগুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। তদন্তকারীদের কাছে মোজাফফরের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি দাবি করেছেন, হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে আগে থেকে জানতেন না এবং ঘটনার সময় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসেই ছিলেন। বিপরীতদিকে, মামলায় তাঁর দণ্ডিত হওয়ার ইতিহাস তাঁকে ১৯৮১ সালের হত্যাকাণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে পরিণত করেছে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—মোজাফফর কি শুধু একজন অভিযুক্ত অংশগ্রহণকারী, নাকি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের আরও বড় কোনো তথ্য তাঁর কাছে রয়েছে? তাঁর দীর্ঘ আত্মগোপনের কাহিনিও কম রহস্যময় নয়। বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার পর কীভাবে তিনি দেশে ফিরে এলেন, কার সহায়তায় এত বছর অবস্থান করলেন এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর চোখ এড়িয়ে কীভাবে জীবন কাটালেন—এসব প্রশ্নের উত্তরও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে মোজাফফরের গ্রেপ্তার কেবল একটি পুরোনো মামলার আসামি আটকের ঘটনা নয়। এটি ১৯৮১ সালের হত্যাকাণ্ডের বহু অমীমাংসিত প্রশ্ন নতুন করে তদন্তের সুযোগ তৈরি করেছে। তবে সেই তদন্ত কতটা স্বচ্ছ, প্রমাণনির্ভর ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হবে—তার ওপরই নির্ভর করবে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ঘিরে থাকা রহস্যের প্রকৃত সমাধান।

লেখক: ড.আবুল হাসনাৎ মিল্টন, প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা