মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

রাজনীতি

ব্রিকস সম্মেলনে ভারতের জয়জয়কার, মোদির আমন্ত্রণ প্রত্যাখানের পর এবার সম্পর্ক ঠিক করার চেষ্টায় বাংলাদেশ

লিখেছেন: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা (The Source News Bangla) প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:০৯ পিএম
ব্রিকস সম্মেলনে ভারতের জয়জয়কার, মোদির আমন্ত্রণ প্রত্যাখানের পর এবার সম্পর্ক ঠিক করার চেষ্টায় বাংলাদেশ

পররাষ্ট্রনীতিতে কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত

দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে ফেলার পর ভারতের সঙ্গে নিজেদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা। নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ককে ইতিবাচক ধারায় ফেরাতে ‘রিসেট’ বা পুনর্গঠনের নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার এই নতুন ধাপে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ নিজের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌম সমতাকে অগ্রাধিকার দিয়েই ভারতের সঙ্গে যেকোনো আলোচনায় অংশ নেবে।

অতীতের অস্বস্তি ও দূরত্বের অবসান

বিগত সরকারের আমলে দিল্লির সঙ্গে গড়ে ওঠা বিশেষ সম্পর্ককে কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে 'অস্বস্তিকর' ও একপেশে হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। পররাষ্ট্রনীতির নীতিনির্ধারকদের মতে, কোনো নির্দিষ্ট প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে একটি দেশের সার্বিক পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হতে পারে না। ভারতকে বন্ধু এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার মনে করলেও দিল্লির প্রতি অতিরিক্ত আচ্ছন্নতা বা মোহের জায়গা থেকে সরে আসার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সার্বক্ষণিক ভারতনির্ভর চিন্তাভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে স্বাবলম্বী ও জাতীয় স্বার্থভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তোলাই এখন মূল লক্ষ্য। দ্বিপাক্ষিক সুসংহত সম্পর্কের জটিলতা সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের প্রক্রিয়ায় দুই দেশের সামনে বেশ কিছু জটিল কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ বহাল রয়েছে:

রাজনৈতিক আশ্রয় ও প্রত্যর্পণ: ভারতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান এবং তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার দাবি সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় এক মনস্তাত্ত্বিক বাধা।

সীমান্ত নিরাপত্তা ও হত্যা: সীমান্তে গুলি, বেসামরিক নাগরিক হত্যা এবং অবৈধ পুশ-ইনের মতো ঘটনাগুলো প্রতিনিয়ত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে চাপ সৃষ্টি করছে।

সম্পদ ও বাণিজ্য সংঘাত: তিস্তা ও গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি এবং সাধারণ নাগরিকদের জন্য ভিসা পরিষেবা সহজীকরণের বিষয়গুলোতে দৃশ্যমান অগ্রগতি এখনো বাকি।

কূটনৈতিক বরফ গলানো ও ভবিষ্যৎ পথরেখা

ব্রিকস সম্মেলনে সরাসরি যোগদান না করা কিংবা শীর্ষ পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক সফরের বিলম্ব দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা সংশয় তৈরি করেছিল। তবে উভয় পক্ষই বুঝতে পারছে যে ভৌগোলিক অবস্থান, সীমান্ত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক বাণিজ্য ও জনযোগাযোগের ক্ষেত্রে একে অপরকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।

সার্বভৌম সমতা এবং পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতেই কেবল সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সূচনা হতে পারে। রাতারাতি বৈরী মানসিকতা কিংবা বিদ্যমান সংকটগুলোর সমাধান সম্ভব না হলেও, ধাপে ধাপে জটিল বিষয়গুলোতে কার্যকর আলোচনার মাধ্যমে আস্থা ফিরিয়ে আনার পথ খুঁজছে ঢাকা ও দিল্লি।

লেখক: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা (The Source News Bangla)

সম্পর্কিত সংবাদ

ডি-ডলারাইজেশন নয়, প্রযুক্তিগত সংস্কার: BRICS-এ ভারতের বাস্তবমুখী কৌশল। বৈশ্বিক লেনদেনে এক নতুন দিগন্ত: লেনদেন সহজ করতেই ভারতের ঐতিহাসিক সিবিডিসি (CBDC) উদ্যোগ

দেউলিয়া বিদ্যুৎ খাত, অন্ধকার জীবন: তারেক-ইউনূস-ফাওজুলের চক্রান্তে জনজীবনের চরম দুর্যোগ

পিঠে দেওয়াল, অস্তিত্বের চরম সংকট: আর কত রক্ত দিলে জাগবে বিবেক? রাষ্ট্রযন্ত্রের নীরবতা নাকি প্রশ্রয়? বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নিধনের ভয়াবহ বাস্তবচিত্র