মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

উপসম্পাদকীয়

দিল্লির পরামর্শেই কি ঢাকার দিকে হাত বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন? উপমহাদেশে ট্রাম্পের নতুন চাল: ভারত-মার্কিন যৌথ সমীকরণে বদলাচ্ছে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণরেখা:

লিখেছেন: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা (The Source News Bangla) প্রকাশিত: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম
দিল্লির পরামর্শেই কি ঢাকার দিকে হাত বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন? উপমহাদেশে ট্রাম্পের নতুন চাল: ভারত-মার্কিন যৌথ সমীকরণে বদলাচ্ছে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণরেখা:

দ্বিতীয় পর্ব দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ও কূটনৈতিক মহলে এক নতুন ঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। একদিকে যেখানে বাংলাদেশে মার্কিন-ভারত যৌথ কূটনৈতিক পদক্ষেপ ঢাকার রাজনীতির গতিপথ বদলে দিচ্ছে, অন্যদিকে ভারতের আইনসভায় পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) নিয়ে প্রস্তাবিত পদক্ষেপ ইসলামাবাদের ঘুম হারাম করে দিয়েছে। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট, অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্ব এবং নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সামরিক উত্তাপ এখন সমগ্র বিশ্বের নজর কেড়েছে। ভারতীয় পার্লামেন্টে নতুন বিল ও পিওকে-র ভবিষ্যৎ

ভারতের চলতি অধিবেশনে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে যে সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা 'ডেলিমিটেশন' সংক্রান্ত প্রস্তাব আনতে চলেছে, তা কূটনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই খসড়া বিলে প্রথমবারের মতো পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) জন্য ২৪টি আসনকে ভারতের মূল নির্বাচনী রোডম্যাপ ও আইনসভার কাঠামোর অধীনে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতদিন ধরে ভারত PoK-কে রাজনৈতিক ও ভৌগোলিকভাবে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করলেও, নির্বাচনী সীমানায় আইনি শিলমোহর বসানোর এই পদক্ষেপ পাকিস্তানকে চরম আতঙ্কের মুখে ফেলে দিয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং থেকে শুরু করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ধারাবাহিক বক্তব্য—"পিওকে ভারতের অংশ এবং তা ভারতের হাতেই ফিরে আসবে"—এখন বাস্তবমুখী কৌশলের রূপ নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিনের সেনাশাসন ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিদিন রাজপথে নামছে। ৭১-এর পূর্ব পাকিস্তানের মতো সেখানেও এক চরম অসন্তোষের আগুন জ্বলছে। ফলে আইনি কাঠামোর পর ভারতীয় সেনাবাহিনী যদি সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় সেখানে কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

স্যার ক্রিক সীমান্ত উত্তাপ ও ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রস্তুতি

ভারতের এই সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপে ভীত হয়ে পাকিস্তান স্যার ক্রিক (গুজরাট উপকূল) এবং নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন কিরণ ভ্যালিতে ভারী গোলন্দাজ বাহিনী ও আর্টিলারি সিস্টেম মোতায়েন করা শুরু করেছে। উপগ্রহ চিত্রে স্পষ্ট দেখা গেছে, চীনা ও মার্কিন প্রযুক্তিতে তৈরি আর্টিলারি, নতুন বাঙ্কার এবং পাকিস্তান নৌবাহিনীর ফ্রিগেট আরব সাগরে টহল বৃদ্ধি করেছে। এমনকি সমুদ্রপথে নাশকতার জন্য জৈশ-ই-মোহাম্মদ ও লস্কর-ই-তৈয়বার মতো জঙ্গি গোষ্ঠীকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে উপকূলবর্তী অঞ্চলে নামানোর খবর পাওয়া গেছে।

তবে ভারতও বসে নেই। ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অত্যাধুনিক রাডার, 'হুইটজার' কামান, অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম এবং অ্যাটাক হেলিকপ্টার মোতায়েন করে সীমান্তকে এক দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করেছে। বিমানবাহিনীর শক্তিই যেকোনো আধুনিক যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেয়—আর ভারতের কাছে রয়েছে পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ফাইটার জেট (Fighter Jet) মূল অবস্থান ও কৌশলগত সুবিধা মিগ-২৯ (MiG-29) উধমপুর ঘাঁটি; পাহাড়ি এলাকায় উচ্চমাত্রায় দ্রুত গতি ও নিখুঁত লক্ষ্যভেদে পারদর্শী। রাফায়েল (Rafale) আম্বালা ও লাদাখ ঘাঁটি; বহুদূর থেকে শত্রুঘাঁটি ধ্বংস এবং আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণে অপ্রতিরোধ্য। সুখই-৩০ এমকেআই (Su-30 MKI) লেহ্ ও উত্তর সীমান্তে মোতায়েন; বিশাল অস্ত্র বহনক্ষমতা ও দীর্ঘপাল্লার আক্রমণের ভরসা।

যেকোনো সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে ভারতীয় 'ইন্টিগ্রেটেড ব্যাটল গ্রুপ' (IBG) এবং প্যারা-এসএফ, গরুর ও মারকোস কমান্ডো দল যেকোনো মুহূর্তে আকাশপথ ও স্থলপথে একযোগে শত্রুর সামরিক পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দিতে প্রস্তুত। রাশিয়া, ইসরায়েল সহ বিশ্বরাজনীতির অধিকাংশ প্রভাবশালী রাষ্ট্র যেখানে ভারতের সার্বভৌমত্ব ও বাণিজ্যিক স্থায়িত্বকে সমর্থন করে, সেখানে সীমান্তজুড়ে তৈরি হওয়া এই ভূ-রাজনৈতিক চাল পাকিস্তানকে কার্যত এক অনিশ্চিত অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

লেখক: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা (The Source News Bangla)