কারাগারে উপচে পড়া ভিড় ও মানবাধিকার সংকট: কোন পথে বিচার ব্যবস্থা? ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি ও কারা প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সংকট। পর্ব ১
বাংলাদেশের কারাগারগুলোতে বন্দি ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি অবস্থান করছেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সংবাদ সম্মেলনে কারা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তুলে ধরা এই নজিরবিহীন চিত্র দেশের মানবাধিকার ও আইনি সংকটকে নতুন করে সামনে এনেছে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশের ১৫টি কেন্দ্রীয় কারাগার এবং ৫৭টি জেলা কারাগারে সর্বমোট ৪৫,০০০ বন্দি ধারণের সক্ষমতা রয়েছে। অথচ বর্তমানে এসব কারাগারে বন্দির সংখ্যা ৯৮,০০০ অতিক্রম করেছে। এই অতিরিক্ত বন্দি চাপের ফলে সাধারণ বন্দি ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা রক্ষা এবং বন্দিদের মৌলিক অধিকার সুসংহত রাখা চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
কারা কর্তৃপক্ষের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা যায়, স্থান সংকটের কারণে দুর্ধর্ষ অপরাধী বা অভিযুক্ত জঙ্গিদের সাথে সাধারণ ও রাজনৈতিক বন্দিদের বাধ্য হয়ে একই কক্ষে রাখতে হচ্ছে। এতে করে সাধারণ বন্দিদের নিরাপত্তা যেমন চরম হুমকির মুখে পড়ছে, তেমনি অপরাধ ছড়ানোর ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।
তবে এই আশঙ্কাজনক তথ্য ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরার পরপরই বিদায়ী কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোতাহার হোসেনকে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে প্রশাসনিক আদেশে সেনাবাহিনীতে ফেরত পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তাকে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ Missions-এর ডিফেন্স অ্যাডভাইজার হিসেবে পদায়নের ঘোষণা দেওয়া হলেও, তড়িঘড়ি বদলির এ ঘটনাকে ঘিরে সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও কৌতুহলের জন্ম দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই অস্বাভাবিক বন্দি বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে গত দুই বছর ধরে পরিচালিত ব্যাপক গ্রেপ্তার অভিযান। বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢালাওভাবে আটক করা এবং পরবর্তীতে তাদের জামিন আবেদন নিয়মিত নাকচ হওয়াই এই বৈষম্যমূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। আইনি প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হওয়ায় একদিকে কারা প্রাঙ্গণে তিল ধারণের ঠাঁই নেই, অন্যদিকে চিকিৎসা ও ন্যূনতম বাসস্থান সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ ও রাজনৈতিক হাজতিরা।
লেখক: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা (The Source News Bangla)
সম্পর্কিত সংবাদ
ভারতীয় বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহে চাপ: কেন তারেকের ভারত সফর বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ: দিল্লি সফরের পথ খুজছে ঢাকা ?
কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তাশঙ্কা ও সরকারের উদাসীনতা: কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের ব্যাপক মতবিরোধ ও হট্টগোল,আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি কি সংকটে?
গ্যাসসরবরাহে নেই উন্নতি, বন্ধ হয়ে গেছে ৯০০-র বেশি টেক্সটাইল মিল, চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার নেই – বলছেন মন্ত্রী