শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

মতামত

হাম: সাড়ে সাতশ শিশুর ‘সামাজিক হত্যার’ দায় কার?

লিখেছেন: ড.আবুল হাসনাৎ মিল্টন প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১২:১২ পিএম
হাম: সাড়ে সাতশ শিশুর ‘সামাজিক হত্যার’ দায় কার?

বাংলাদেশে হামের সংক্রমণে অস্বাভাবিক হারে শিশুমৃত্যু দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১০ জুলাই—মাত্র ১১৭ দিনে—হামে আক্রান্ত হয়ে প্রায় সাড়ে সাতশ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাম একটি টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য রোগ হওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনা কার্যকর টিকাদান ব্যবস্থায় গুরুতর ঘাটতির ইঙ্গিত বহন করে। পরিসংখ্যান বলছে, সাম্প্রতিক গণটিকাদান কর্মসূচিতে প্রায় ৪০ লাখ শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে গেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—কেন টিকাদানের কভারেজ এতটা কমে গেল? কেন টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহে বিলম্ব হলো? আগাম সতর্কবার্তা থাকা সত্ত্বেও কেন সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গেল না? হাম কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং হার্ড ইমিউনিটি (গণ-প্রতিরোধ ক্ষমতা) অর্জনের জন্য অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুর টিকাপ্রাপ্ত হওয়া প্রয়োজন। সমালোচকদের অভিযোগ, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা ক্রয়নীতির কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণে টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যাহত হয়। এর ফলে টিকাদানের কভারেজ ৯৫ শতাংশের প্রয়োজনীয় সীমার নিচে নেমে যায়, যা হামের বিস্তার এবং শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন বা বিচারিক সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি। একসময় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) বাংলাদেশের অন্যতম সফল জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে বর্তমান পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। প্রতিরোধযোগ্য এই শিশুমৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, নীতিগত সিদ্ধান্তগুলোর প্রভাব মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি স্বচ্ছ, স্বাধীন ও তথ্যভিত্তিক তদন্ত আজ সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি। লেখক: ড.আবুল হাসনাৎ মিল্টন, প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা