মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

মতামত

সোনারবাংলার দিগন্তে কৃষিবিপ্লব: বাংলাদেশ পাঁচ বারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কালজয়ী যাত্রা প্রথম পর্ব: শূন্যতার বুক চিরে স্বপ্নের পুনর্জন্ম

লিখেছেন: ড.আওলাদ হোসেন, রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১২ এএম
সোনারবাংলার দিগন্তে কৃষিবিপ্লব: বাংলাদেশ পাঁচ বারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কালজয়ী যাত্রা প্রথম পর্ব: শূন্যতার বুক চিরে স্বপ্নের পুনর্জন্ম

১৯৭২ সালের রৌদ্রকরোজ্জ্বল এক সকালে ছাই আর ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। চারদিকে হাহাকার, গৃহহারা মানুষের আর্তনাদ, আর শূন্য গোলা। কিন্তু সেই হাহাকারের মাঝেও তাঁর চোখে ছিল এক উদীয়মান, স্বনির্ভর বাংলাদেশের ছবি। যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বদেশের মাটিকে সোনা ফলায় রূপান্তরের ডাক দিয়েছিলেন তিনি। উন্নয়ন বাজেটের সিংহভাগ ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো পুনর্বাসনে ব্যয় করতে হলেও, তাঁর হৃদয়ে ছিল কৃষকের মলিন মুখে একটুখানি হাসির ঝিলিক দেখার তীব্র ব্যাকুলতা। সে কারণেই স্বাধীন দেশের প্রথম অর্থবছরেই ৫০০ কোটি টাকার মোট বাজেটের ১০১ কোটি টাকা তিনি এককভাবে কৃষি খাতে উৎসর্গ করেন। প্রতিষ্ঠা করেন ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, মওকুফ করেন ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা। রোপণ করেছিলেন 'সবুজ বিপ্লবে'র বীজ। কিন্তু ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের কালরাতে ঘাতকের নির্মম বুলেটে থেমে যায় সেই স্বপ্নের পথচলা। অবহেলা ও অনাহারে কৃষকের স্বপ্ন আবার ধুলোয় লুটায়।

রক্তের উত্তরাধিকার ও আলোর মশাল

দীর্ঘ ২১ বছরের কুয়াশাচ্ছন্ন আঁধার কাটিয়ে, ১৯৯৬ সালে পিতার সেই অধরা স্বপ্নপূরণের মশাল হাতে তুলে নেন তাঁরই রক্ত ও চেতনার যোগ্য উত্তরসূরি। গণমানুষের অকৃত্রিম আস্থায় দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করেন বাংলাদেশ পাঁচ বারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি কেবল সরকারপ্রধান হিসেবে নয়, একজন পরম মমতাচ্ছন্ন কন্যার মতো বুঝতে পেরেছিলেন এ দেশের মাটির তৃষ্ণা আর কৃষকের চোখের জল। ক্ষমতায় এসেই তিনি থমকে থাকা কৃষির রুদ্ধ দুয়ার এক ঝটকায় খুলে দেন। ১৯৯৯ সালে প্রণয়ন করেন কালজয়ী 'জাতীয় কৃষিনীতি'। পরবর্তীতে ২০০৯ ও ২০১৩ সালে তা পরিমার্জন ও আধুনিকায়ন করে সময়োপযোগী রূপ দান করেন, যা বাংলার কৃষি খাতে নিয়ে আসে এক নীরব আন্দোলন।

মাটির বুকে নতুন প্রাণের স্পন্দন

বাংলাদেশ পাঁচ বারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের অবিচল নীতি, বীজ উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উচ্চফলনশীল (উফশী) ও প্রতিকূলতাসহিষ্ণু জাত উদ্ভাবন এবং সারে বিপুল ভর্তুকির সিদ্ধান্ত বাংলার মাটিকে এক জাদুকরী ছোঁয়া দেয়। মাঠে মাঠে সোনারঙা ধানের শিষ বাতাসকে স্পর্শ করতে শুরু করে। একসময় যে বাংলার কৃষক এক ছটাক সার কিংবা একটু সেচের জলের জন্য হাহাকার করত, তারা হাতে পেল সহজলভ্য কৃষি উপকরণ ও ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা। মাটির বুকেও যেন আবার নতুন প্রাণ ফিরে এল; কৃষকের ঘামে ভেজা কপালে ফুটে উঠল এক চিলতে শান্তির হাসি।

অভিশাপ মুছে সাফল্যের বিস্ময়

১৯৯৬ সালে ক্ষমতার মসনদে বসার সময় দেশের মাথার ওপর চেপে ছিল ৪০ লাখ টন খাদ্যঘাটতির নির্মম অভিশাপ। কিন্তু দূরদর্শী নেতৃত্ব আর কৃষকের হাড়ভাঙা খাটুনিকে সম্মান জানিয়ে বাংলাদেশ পাঁচ বারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই অভিশাপকে আশীর্বাদে রূপান্তর করেন। ২০১৮ সালে দানাদার শস্যের উৎপাদন ৪১৩.২৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করে তিনি গোটা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেন। বাংলাদেশ রূপান্তরিত হয় এক খাদ্য উদ্বৃত্তের বিস্ময়ে। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের অবমাননাকর তকমা মুছে ফেলে রোপিত হয় আত্মমর্যাদার এক নতুন সূর্য, যা আজও বাংলার প্রতিটি দিগন্তকে আলোকিত করে চলেছে।

লেখক: ড.আওলাদ হোসেন, রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক