বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

জাতীয়

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা ও বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট

লিখেছেন: অধ্যাপক ড. এ কে আব্দুল মোমেন প্রকাশিত: ৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:০০ এএম
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা ও বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট

সম্প্রতি প্রকাশিত আমার একটি নিবন্ধে আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক অবস্থা নিয়ে আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন তুলে ধরেছি। আমার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বর্তমান পরিস্থিতির যে বিশ্লেষণ আমি করেছি, তা নিচে তুলে ধরছি:

নতুন আশাবাদ ও সাংগঠনিক উদ্দীপনা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার যে ঘোষণা এসেছে, তা আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যে এক নতুন আশাবাদের জন্ম দিয়েছে। আমি দেখতে পাচ্ছি, দেশের ভেতরে এবং প্রবাসে অবস্থানরত আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী এই ঘোষণাকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। এর ফলে দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এক নতুন উদ্দীপনা ও গতির সঞ্চার হয়েছে।

বিরোধী শক্তির তৎপরতা আমার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণে ধরা পড়েছে যে, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের এই সম্ভাবনাকে ঘিরে বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে এক ধরনের সমন্বয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমার মতে, এসব রাজনৈতিক দল মূলত আওয়ামী লীগের এই সাংগঠনিক পুনরুত্থান ঠেকানোর লক্ষ্যেই নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।

বর্তমান শাসনকাল ও আমার গভীর উদ্বেগ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আমি কঠোর সমালোচনা করতে বাধ্য হচ্ছি। দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন, অর্থনীতি এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। দীর্ঘ সময় ধরে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, চরম সহিংসতা, দুর্নীতি, মব জাস্টিস (মব সহিংসতা) এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা সাধারণ মানুষের মনে চরম হতাশা সৃষ্টি করেছে।

• মানবাধিকার ও নিরাপত্তা সংকট: দেশের বিভিন্ন স্থানে মাত্রাতিরিক্ত সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনা ঘটছে। এসবের ফলে সাধারণ জনগণের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি সাংবাদিক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে যেসব হয়রানিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, আমি তার তীব্র সমালোচনা করছি।

• অর্থনৈতিক বিপর্যয়: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে দেশের অবস্থা এখন অত্যন্ত নাজুক বলে আমি মনে করি। মাত্রাতিরিক্ত মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র সংকট, একের পর এক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং কর্মসংস্থানের ব্যাপক সংকোচন—এগুলোই এখন আমাদের প্রধান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ। এসব কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।

• আইনশৃঙ্খলার অবনতি: দেশে আইনের শাসন আজ অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় শাসনব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থার চরম সংকট তৈরি হয়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং কার্যকর আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ছাড়া দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির কোনো উন্নতি সম্ভব নয়। •

সমাধানের পথ: আমার প্রস্তাবনা আমি মনে করি, বর্তমান এই সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হলো একটি অর্থবহ রাজনৈতিক সমাধান। দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য রাজনৈতিক সংলাপ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সকল রাজনৈতিক দলের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি।

রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা এবং পারস্পরিক দ্বন্দ্বের পথ পরিহার করে আলোচনার মাধ্যমে আমাদের জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা উচিত। বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে দেশে রাজনৈতিক সমঝোতা ও আইনের সমান প্রয়োগের কোনো বিকল্প নেই বলে আমি বিশ্বাস করি।

লেখক: অধ্যাপক ড. এ কে আব্দুল মোমেন,রাজনীতিবিদ,সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী