পদ্মা রেল সংযোগে যন্ত্রাংশ চুরি: নিরাপত্তা সংকটে সিগন্যাল ব্যবস্থা, বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা
দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প পদ্মা সেতু রেল সংযোগে ধারাবাহিক যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। মাদারীপুরের শিবচর ও পদ্মা স্টেশন এলাকায় সিগন্যালিং ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম চুরি হওয়ায় স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল অচল হয়ে পড়েছে। ফলে ঝুঁকি নিয়েই ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ট্রেন পরিচালনা করতে হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ানোর পাশাপাশি ট্রেন চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। রেলওয়ে সূত্র জানায়, শিবচর স্টেশনের উত্তর প্রান্তের ১৩টি ট্র্যাক পটের মধ্যে ৯টিই চুরি হয়েছে। গত কয়েক মাসে একাধিকবার ট্র্যাক পট, ট্র্যাক ট্রান্সফরমার, সিগন্যাল কেবল, অ্যাক্সেল কাউন্টার, পয়েন্ট মেশিন, ফিশ বোল্টসহ বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা ঘটেছে। পদ্মা স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, সিগন্যালিং ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ায় ট্রেন পরিচালনায় প্রতিনিয়ত ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। শিবচর স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. কামরুল ইসলাম জানান, বাধ্য হয়ে ‘লুক স্টিক’ পদ্ধতিতে ট্রেন চালাতে হচ্ছে, যা রেলকর্মী ও যাত্রী—উভয়ের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনায় মামলা ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বিশাল এই রেলপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনও অপ্রতুল। তাদের দাবি, স্থায়ী নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন, আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু এবং সংঘবদ্ধ চোরচক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা ছাড়া এই জাতীয় সম্পদ রক্ষা করা কঠিন হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ
৩.২: আইএমএফের শঙ্কাজনক পূর্বাভাস: ৩৮ বছরের সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধিতে নামছে বাংলাদেশ, সরকারের বাজেটি লক্ষ্য স্রেফ অলীক স্বপ্ন!
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের অনুপস্থিতি: ইইউর বাণিজ্য বয়কটের মুখে বাংলাদেশ ও নীতিনির্ধারকদের ব্যর্থতা এবং অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ
অর্থনীতি ও জনকল্যাণ: মানুষের আস্থা এবং একটি কল্যাণকর রাষ্ট্রের রূপরেখা ও বাংলাদেশের আগামী দিনের পথচলা ।