সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন নাকি ফৌজদারি অপরাধ: তিন বাংলাদেশি সাংবাদিককে কারাবাস, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সংবাদমাধ্যমের উদ্বেগ
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নেপাল ও শ্রীলঙ্কার শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো। পেশাগত দায়িত্ব পালন, বিশেষ করে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার কারণে কোনো সাংবাদিককে ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত করার এই প্রবণতা বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন আঞ্চলিক গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা।
২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলন কেন্দ্রিক মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ হাজির করা হয়। গত ২৪ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন এবং তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ২৫ অক্টোবর পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন।
প্রসিকিউশনের দাবি, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে এই তিন সাংবাদিকের উপস্থাপিত প্রশ্ন ও মন্তব্য আন্দোলন দমনে প্ররোচনা দিয়েছিল এবং আন্দোলনের বিরুদ্ধে একটি 'কাউন্টার-ন্যারেটিভ' তৈরিতে সহায়তা করেছিল। তবে এই অভিযোগগুলো বর্তমানে বিচারাধীন এবং এখনও আদালতে প্রমাণিত নয়।
এই গ্রেপ্তারের প্রতিক্রিয়া হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিসরে কণ্ঠ তুলেছে দক্ষিণ এশিয়ার গণমাধ্যম সংগঠনগুলো:
• নেপাল প্রেস ইউনিয়ন (NPU): সংগঠনটি তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গৃহীত এই আইনি পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, কেবল সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা বা পেশাগত দায়িত্ব পালনের জেরে সাংবাদিকদের ফৌজদারি কাঠগড়ায় দাঁড় করানো মুক্ত গণমাধ্যমের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।
• শ্রীলঙ্কান ওয়ার্কিং জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (SLWJA): সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সার্বিক অধিকার সুরক্ষার তাগিদ দিয়ে সংস্থাটি চলমান তদন্ত প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও স্বচ্ছ রাখার আহ্বান জানিয়েছে। নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সাংবাদিক সংগঠনগুলোর এই প্রতিক্রিয়া মৌলিক একটি নীতিগত প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে—পেশাগত কাজে উপস্থাপিত কোনো প্রশ্ন রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত হলেই কি তা ফৌজদারি অপরাধের ভিত্তি হতে পারে? সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার এই অধিকারকে আইনি ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিলে তা গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ এবং স্বাধীন বাকস্বাধীনতার সংকুচিত হওয়ার পথকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
লেখক: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা (The Source News Bangla)