শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

রাজনীতি

বাংলাদেশে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গি অবাধে ঘোরাফেরার অভিযোগ: ভারতীয় গোয়েন্দাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ

লিখেছেন: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা (The Source News Bangla) প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১১:১১ এএম
বাংলাদেশে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গি অবাধে ঘোরাফেরার অভিযোগ: ভারতীয় গোয়েন্দাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ

বাংলাদেশে আল-কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখা AQIS-এর শীর্ষনেতা ও ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গি মৌলানা ইক্রামুল হক ওরফে আবু তালহা খোলামেলা ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের পাচঁবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছেন। আন্তর্জাতিক জঙ্গি তালিকায় শীর্ষে থাকা এই নেতার উপস্থিতির খবরে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ভারতীয় গোয়েন্দা মহলেও।

রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ নজরদারি কমিটির সাম্প্রতিক রিপোর্টের ভিত্তিতে জয় জানান, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর দীর্ঘ ২২ মাস ধরে সরকারি নথিতে ইক্রামুল ‘নিখোঁজ’। অথচ বাস্তবে সে বাংলাদেশের পথেঘাটে প্রকাশ্যে সক্রিয়। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সদস্য এবং আল-কায়েদা ঘনিষ্ঠরা বর্তমানে সেখানে অবাধে সভা-সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন বলে দাবি করে জয় বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

উদ্বেগের কেন্দ্রে কেন ভারত?

ইক্রামুল হক ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য এক বড় হুমকি। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা NIA-র ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় তার নাম রয়েছে।

• ভুয়ো নথি ও বিস্তার: ময়মনসিংহের বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সি ইক্রামুল ২০১৮ সালে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে ভারতে গিয়ে উত্তরপ্রদেশে আল-কায়েদার মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়। পরবর্তীকালে সে পাঁচটি ছদ্মনাম, ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভারতে সংগঠন বিস্তার করে।

• স্লিপার সেল গঠন: তদন্তে দেখা গেছে, ইক্রামুল ভারতে অবস্থানকালে অন্তত দুই বছর পশ্চিমবঙ্গে কাটিয়েছে। সেখান থেকে শুরু করে মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাট পর্যন্ত একাধিক স্লিপার সেল ও নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার নেপথ্যে মূল মাথা ছিল সেই।

গ্রেপ্তার ও জামিন প্রেক্ষাপট

২০২৩ সালের মে মাসে ঢাকার মাদারটেক থেকে স্ত্রী ফারিয়া আফরিনসহ ইক্রামুলকে গ্রেপ্তার করে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি জেলে পাঠানো হয়। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর, অক্টোবর মাসে সে জামিনে মুক্তি পায়। মুক্তির পর থেকেই তার রহস্যজনক অন্তর্ধানে সীমান্তপারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ দমনের প্রচেষ্টা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।

লেখক: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা (The Source News Bangla)