সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

স্বাস্থ্য

কলেরার থাবার মুখে সাড়ে আট লাখ মানুষ: রক্ষাকবচ কি পৌঁছাবে সবার দোরগোড়ায়?

✍ লিখেছেন: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা (The Source News Bangla) প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:১৯ পিএম
কলেরার থাবার মুখে সাড়ে আট লাখ মানুষ: রক্ষাকবচ কি পৌঁছাবে সবার দোরগোড়ায়?

কলেরা—নামটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে পানিবাহিত এক নীরব ঘাতকের নিষ্ঠুর রূপ। একটু সচেতনতা আর একটিমাত্র জীবনরক্ষাকারী টিকা ব্যবধান গড়ে দিতে পারে জীবন ও মৃত্যুর। কিন্তু সেই সুরক্ষার বলয় থেকে এখনও বাইরে রয়ে গেছেন প্রায় সাড়ে আট লাখ মানুষ। প্রথম ডোজের টিকাদান কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রা আংশিক অর্জিত হলেও, এই বিশাল জনগোষ্ঠীর বাদ পড়ে যাওয়া টিকাদান ব্যবস্থাপনার এক বড় শূন্যতাকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।

লক্ষ্যমাত্রা ও হিসাবের খাতা: ফাঁক থেকে গেল যেখানে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, কলেরার প্রথম ডোজের মুখে খাওয়ার টিকা (ওসিভি) কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রার ৮২ দশমিক ৬ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। ৪৮ লাখ ৯৯ হাজার ৪৪০ জন মানুষকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত প্রথম ডোজ পেয়েছেন ৪০ লাখ ৪৭ হাজার ১৮ জন। অর্থাৎ, সুরক্ষিত হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে ৮ লাখ ৫২ হাজার ৪২২ জন মানুষের। যদিও ব্রাহ্মণবাড়িয়া বা কিশোরগঞ্জের মতো কিছু অঞ্চলে সাফল্যের হার প্রশংসনীয় (যথাক্রমে ৯৮.৪% এবং ৯৪.৮%), তবুও সামগ্রিক চিত্র পুরোপুরি আশ্বস্ত করার মতো নয়।

সবচেয়ে বড় অন্ধকার নারায়ণগঞ্জে: ৪২ শতাংশ বাদ পড়ার নেপথ্য কাহিনী

প্রথম ধাপে বাদ পড়া মানুষের প্রায় ৪২ শতাংশই কেবল নারায়ণগঞ্জের। ১০ লাখ ৩২ হাজার ৯৬৩ জনের বিশাল লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সেখানে টিকা নিতে পারেননি ৩ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ। কর্মজীবী মানুষের ব্যস্ত সময়সূচির সঙ্গে টিকাদানের সময়ের মিল না থাকা, জনবসতি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এবং মানুষের এলাকা পরিবর্তনের মতো নানা জটিলতা এই বঞ্চনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। প্রশ্ন থেকেই যায়—এই হটস্পটগুলোতে নজরদারির কি তবে ঘাটতি ছিল?

অর্থের টানাপোড়েন আর দীর্ঘমেয়াদী আশঙ্কার মেঘ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাক্‌যোগ্যতা অর্জন করা এই টিকা সরবরাহে গাভি (Gavi, the Vaccine Alliance) বিনামূল্যে সহায়তা করলেও, বাকি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ পুরোপুরি নির্ভর করছে পর্যাপ্ত অর্থায়নের ওপর। ২০২২-২৩ সালের যৌথ গবেষণায় দেশের ১৪৪টি এলাকাকে কলেরার হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও, অর্থসংকট ও নানা ব্যবস্থাপনার মারপ্যাচে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি কি তবে ঝুলন্তেই থাকবে?

"টিকার প্রথম ডোজের সফলতা হয়তো পরিসংখ্যানে বড় দেখায়, কিন্তু সেই হিসাবের বাইরে থাকা প্রতিটি বঞ্চিত মানুষই তো এক একটি সম্ভাব্য ঝুঁকির মুখে দাঁড়িয়ে!"

লেখক: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা (The Source News Bangla)

এই সংবাদটি শেয়ার করুন: