সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

মতামত

টুঙ্গীপাড়ার মেঠো পথ থেকে বিশ্বমঞ্চ: এক মৃত্যুঞ্জয়ী কন্যার অমর কাব্য

✍ লিখেছেন: আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, রাজনীতিবিদ, মেয়র, সিলেট সিটি কর্পোরেশন। প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৯ এএম
 টুঙ্গীপাড়ার মেঠো পথ থেকে বিশ্বমঞ্চ: এক মৃত্যুঞ্জয়ী কন্যার অমর কাব্য

মাটির প্রদীপ তখন টিমটিম করে জ্বলছে। বাইরে শ্রাবণের আকাশ নয়, বাইগার নদীর জলের ওপর তখনো একাত্তরের রক্তভেজা প্রহর। টুঙ্গীপাড়ার সেই মেঠো পথ, খোকা মুজিবের ফেলে যাওয়া শূন্য ভিটে—আর এক নবজাতকের কান্নার আওয়াজ। কে জানত, এই শিশুটির কপালেই লেখা ছিল এক অভিশপ্ত জাতির পুরো ইতিহাস, পঁচাত্তরের পৈশাচিক শোক আর কোটি মানুষের চোখের জলের অমর কাব্য!

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাড়ির সিঁড়িতে তখন রক্তের ফোয়ারা। পিতা বঙ্গবন্ধু, মা ফজিলাতুন্নেসা, আদরের ভাই রাসেল—সবাই চিরনিদ্রায়। সেদিন বিদেশে থাকায় বেঁচে গিয়েছিলেন বড় মেয়েটি। কিন্তু কী বেঁচে থাকা! যে মানুষটি বাবাকে বলতেন ‘আব্বা’, যাঁর জীবনের প্রতিটি ধূলিকণায় জড়িয়ে ছিল টুঙ্গীপাড়ার ঘাস, তাঁর পুরো পৃথিবীটা এক নিমিষে ছাই হয়ে গেল। বুকফাটা আর্তনাদ বুকে চেপে প্রবাসের মাটিতে যখন তিনি চোখের জল ফেলতেন, সেই জল কি কখনো শুকানোর ছিল?

পিতা হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে যিনি ১৯৮১ সালের ১৭ মে বাংলার মাটিতে পা রেখেছিলেন, সেদিনের সেই ঝড়-বৃষ্টির আকাশ যেন কেঁদেছিল তাঁর সঙ্গেই। সামরিক জান্তার রক্তচক্ষু, কুচক্রী মহলের হাজারো বুলেট আর ২১ আগস্টের গ্রেনেডের স্প্লিন্টার—সবকিছু তাঁকে হত্যা করতে চেয়েছিল। কিন্তু মৃত্যুঞ্জয়ী এই নারী প্রতিবার মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসে বাংলার দুঃখী মানুষের হাত ধরেছেন। নিজের সব হারিয়ে যিনি হয়েছেন এতিমদের মা, সেই ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’-র বুকজুড়ে তো কেবলই দীর্ঘশ্বাস!

আজ যখন কোটি কোটি মানুষ তাঁর জন্মদিনে হাসিমুখে কেক কাটে, তখন কে দেখে সেই অন্তরের গভীরের রক্তক্ষরণ? জন্মদিনে মোমবাতি জ্বালানোর সময় চোখের কোণে ভেসে ওঠে হারানো বাবা-মা আর ভাইদের মুখ। দীর্ঘ ২১টি বছর স্বজনহারা ব্যথায় নীল হয়েও যিনি হিমালয়ের মতো অবিচল ছিলেন, সেই নীলকণ্ঠ পাখি তো আমাদেরই হাসানোর জন্য নিজের সমস্ত কান্না গিলে ফেলেছেন।

শেখ হাসিনা কেবল একটি নাম নয়; তিনি টুঙ্গীপাড়ার বাইগার নদী থেকে উঠে আসা এক অদম্য সংগ্রামের নাম। শত আঘাত, ষড়ষন্ত্র আর মৃত্যুর খড়্গ মাথায় নিয়ে যিনি তিল তিল করে গড়ে তুলেছেন আজকের বাংলাদেশ। টুঙ্গীপাড়ার সেই সাধারণ মেঠো পথ থেকে বিশ্বমঞ্চের শীর্ষস্থান—এই দীর্ঘ বন্ধুর পথ তিনি পাড়ি দিয়েছেন কেবল বুকভাঙ্গা কষ্ট আর দেশপ্রেমের আগুন বুকে নিয়ে।

হে বাংলার অভিভাবক, আপনার প্রতিটি চোখের জল আমাদের পাপ মোচনের তীর্থজল। আপনি ভালো থাকুন, বেঁচে থাকুন কোটি বাঙালির হৃদয়ের স্পন্দন হয়ে।

লেখক: আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, রাজনীতিবিদ, মেয়র, সিলেট সিটি কর্পোরেশন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন: