মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

রাজনীতি

শেখ হাসিনার বাংলাদেশ প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনায় যোগ দিতে পারেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা

লিখেছেন: গৌতম লাহিড়ী, সিনিয়র সাংবাদিক, দিল্লি প্রেস ক্লাবের একাধীক বারেরর নির্বাচিত সভাপতি। লেখাটি ইরেজী থেকে বাংলা কারেছেন: অশ্রু হাসি,রাজনীতিবিদ,কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রকাশিত: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম
শেখ হাসিনার বাংলাদেশ প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনায় যোগ দিতে পারেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দেশে ফিরবেন, তখন একটি আন্তর্জাতিক স্বাধীন পর্যবেক্ষক দল তাঁর সফরসঙ্গী হতে পারে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব একটি প্রতিনিধি দল হিসেবে এই ধরনের একটি গোষ্ঠীকে সাথে রাখার পরিকল্পনা করছে।

প্রস্তাবিত এই প্রতিনিধি দলে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা থাকবেন, বিশেষ করে তাঁরা, যাঁরা পূর্বে বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সম্প্রতি, ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে নিযুক্ত তৎকালীন জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোল্টজ নতুন দিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি যখন ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেবেন, তখন তাঁর সাথে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক পাঠানোর প্রস্তাব নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। ফারেনহোল্টজ নিজেই একদল কূটনীতিককে সাথে নিয়ে যাওয়ার ধারণাটি পেশ করেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, একজন অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিক হিসেবে তিনি ব্যক্তিগত ক্ষমতায় এই সেবা দিতে পারেন এবং এই পদক্ষেপের সাথে জার্মানি সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আরেক সদস্য ড.ওন্দ্রিজ দোস্তাইলও হাসিনার সাথে বৈঠকের জন্য নতুন দিল্লিতে ছিলেন। এবারই প্রথম ইউরোপীয় কূটনীতিকেরা তাঁর সাথে সাক্ষাত করতে পারলেন। পশ্চিমা বিশ্বে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে তাঁরা বিস্তারিত আলোচনা করেন।

রাষ্ট্রদূত ফারেনহোল্টজের মতে, বাংলাদেশ সরকারের একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা উচিত যাতে সব বৈধ রাজনৈতিক দল দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি স্বাধীনতার মূল কারিগর আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি মনে করেন, পশ্চিমা বিশ্ব বর্তমানে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করছে। বাংলাদেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত না হলেও, তিনি নিশ্চিত যে ইউরোপ বাংলাদেশের ব্যাপারে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করলে যুক্তরাষ্ট্রও একটি সর্বসম্মত বিশ্ব দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করতে পারে।

ফারেনহোল্টজ জার্মানিতে যথেষ্ট সম্মানিত ব্যক্তি। তিনি ২০০৬ সাল পর্যন্ত মুম্বাই কনস্যুলেটেও দায়িত্ব পালন করেন এবং জার্মানির রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে 'অর্ডার অফ মেরিট' সম্মাননায় ভূষিত হন। বাংলাদেশে থাকাকালীন তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়িয়েছেন এবং অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের অধীনে গ্রামীণ ব্যাংকের কাজকর্ম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছিলেন। তিনি ইউনুস দ্বারা প্রচারিত ক্ষুদ্রঋণের ধারণাকে সাধারণ জনগণের ধারণার বিপরীত বলে মনে করেন।

শেখ হাসিনা খুব শীঘ্রই অন্যান্য বিদেশী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে সাক্ষাতের পরিকল্পনা করছেন।

লেখক: গৌতম লাহিড়ী, সিনিয়র সাংবাদিক, দিল্লি প্রেস ক্লাবের একাধীক বারেরর নির্বাচিত সভাপতি। লেখাটি ইরেজী থেকে বাংলা কারেছেন: অশ্রু হাসি,রাজনীতিবিদ,কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক