আগস্টেই জাতীয় গ্রিডে রূপপুরের বিদ্যুৎ, নতুন মাইলফলকের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ
বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর থেকে আগামী আগস্টের শেষ সপ্তাহে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের বিদ্যুৎ খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক যুক্ত হবে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এক মতবিনিময় সভায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, রাশিয়ান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে আগস্টের শেষ দিকে রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। এর আগে মে মাসে প্রথম ইউনিটে সফলভাবে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হয়, যা প্রকল্পটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ধাপ। এছাড়া ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। পরবর্তীতে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে উৎপাদন বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তি স্থাপিত হয় আওয়ামী লীগ সরকারের সময়। ২০১১ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে রাশিয়ার আন্তঃরাষ্ট্রীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা রোসাটমের কারিগরি সহযোগিতা ও রুশ ঋণ সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, রূপপুর শুধু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়; এটি বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং শিল্পায়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। একই সঙ্গে বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, প্রকল্পটির পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক সমঝোতা ও বাস্তবায়নের ভিত্তি পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গড়ে ওঠে এবং সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নীতির অংশ হিসেবেই এটি এগিয়ে নেওয়া হয়।