বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

আন্তর্জাতিক

আমেরিকার মিডটার্ম ইলেকশন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়: ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব

✍ লিখেছেন: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা (The Source News Bangla) প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২:২৩ পিএম
আমেরিকার মিডটার্ম ইলেকশন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়: ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব

১. আমেরিকার রাজনৈতিক সমীকরণ

প্রেসিডেন্ট পদ অক্ষুণ্ণ:

মিডটার্ম ইলেকশনে দল পরাজিত হলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবেই থাকছেন। আইন অনুযায়ী তাকে ইমপিচ করার জন্য সেনেটে যে ৬৭ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন, ডেমোক্র্যাটদের হাতে রয়েছে ৫৪ জন। ফলে আইনিভাবে তাকে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরানো সম্ভব নয়।

ক্ষমতার সংকোচন ও হাত-পা বাঁধা:

পার্লামেন্টের (কংগ্রেসের) উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় ট্রাম্পের এককভাবে ইচ্ছামাফিক বিল পাস করানো বা নির্বাহী সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হবে। বিশেষ করে বাজেট আটকে দেওয়া, বিচার বিভাগ ও বড় বড় প্রশাসনিক পদে নিজের পছন্দের লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি প্রবল বাধার সম্মুখীন হবেন। এছাড়া ডেমোক্রেটরা তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করার সুযোগ পাবে।

২. ইরান যুদ্ধ থামবে কি?

যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তন:

আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ভারসাম্যের পরিবর্তন এবং ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক সিদ্ধান্তে কিছুটা লাগাম টানা হলেও ইরান যুদ্ধ রাতারাতি থেমে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

ইসরায়েল ফ্যাক্টর:

ইসরায়েলি লবি এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর রাজনৈতিক টিকে থাকার তাগিদ রয়েছে। দেশের ভেতর যুদ্ধ পরিস্থিতি বজায় রেখে নেতানিয়াহু নিজের প্রধানমন্ত্রী পদ ধরে রাখতে চাইতে পারেন। ফলে আমেরিকার ওপর ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার প্রবল চাপ অব্যাহত থাকবে।

ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান:

ইতিহাস বলে, ডেমোক্রেট প্রেসিডেন্টদের আমলেও আমেরিকা বিভিন্ন সামরিক সংঘাতে লিপ্ত থেকেছে। তাই ডেমোক্রেটদের উত্থান মানেই বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠা নয়, বরং তাদের কৌশলগত পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে।

৩. ভারতের ওপর প্রভাব

আমেরিকার রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে ভারতের অর্থনীতি ও ভূরাজনীতিতে তিনটি প্রধান ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে:

ট্যারিফ বা শুল্কের হুমকি হ্রাস: ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক ও কঠোর শুল্ক নীতির কারণে ভারতীয় রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার যে আশঙ্কা ছিল, আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বাজারে মুদ্রাস্ফীতি ও জনরোষের মুখে তা অনেকটাই সংকুচিত হবে।

কৌশলগত ভারসাম্য: ট্রাম্পের অতিরিক্ত আগ্রাসী মনোভাব এবং পাকিস্তানপন্থী অতি-তোষামোদমূলক কূটনীতির ওপর কিছুটা সংযম আসবে। ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক বোঝাপড়া আরও সুসংহত হতে পারে।

ভিসা নীতি ও প্রফেশনালদের নিরাপত্তা: এইচ-১বি (H-1B) ভিসা নীতি এবং ভারতীয় অভিবাসীদের ওপর চলা কঠোর আক্রমণাত্মক পদক্ষেপগুলো মার্কিন মুলুকে স্থানীয় কোম্পানি ও মধ্যবিত্তের বিরোধিতার মুখে কিছুটা নমনীয় হতে পারে।

লেখক: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা (The Source News Bangla)

এই সংবাদটি শেয়ার করুন: