শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

আন্তর্জাতিক

‘ককরোচ’দের জয়, নাকি মোদি সরকারের সতর্কবার্তা? জেন-জি আন্দোলনে দিল্লির ক্ষমতার অস্বস্তি কতটা

লিখেছেন: ড.আবুল হাসনাৎ মিল্টন প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৫ এএম
‘ককরোচ’দের জয়, নাকি মোদি সরকারের সতর্কবার্তা? জেন-জি আন্দোলনে দিল্লির ক্ষমতার অস্বস্তি কতটা

‘ককরোচ’দের জয়, নাকি মোদি সরকারের সতর্কবার্তা? জেন-জি আন্দোলনে দিল্লির ক্ষমতার অস্বস্তি কতটা দিল্লির যন্তর মন্তরে ৪৯ দিনের আন্দোলনের সমাপ্তি শুধু একটি ছাত্রবিক্ষোভের অবসান নয়; ভারতের রাজনীতিতে এটি তরুণ প্রজন্মের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক প্রভাবেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপির নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলনের প্রধান দাবি ছিল NEET-সহ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, অনিয়ম ও শিক্ষাব্যবস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত করা। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের সরকারি আশ্বাসের পর আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা অবশ্যই প্রধানের পদত্যাগ। কারণ, আন্দোলনের অন্যতম প্রধান শর্তই ছিল তাঁর পদত্যাগ। ফলে সরকার শেষ পর্যন্ত সেই দাবি মেনে নেওয়ায় আন্দোলনকারীরা এটিকে নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখছেন। ‘ককরোচরা জিতেছে, গণতন্ত্র জিতেছে’—সিজেপির এমন প্রতিক্রিয়াও সেই আত্মবিশ্বাসেরই প্রতিফলন। তবে এটিকে সরাসরি নরেন্দ্র মোদির সরকারের পতন বা বড় রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি সরকারের জন্য একটি সতর্ক সংকেত। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা কোনো সরকারের বিরুদ্ধে তরুণদের ক্ষোভ যদি শিক্ষা, চাকরি, পরীক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মতো ইস্যুতে একত্রিত হয়, তবে তা ভবিষ্যতে বৃহত্তর রাজনৈতিক অসন্তোষের ভিত্তি তৈরি করতে পারে। এই আন্দোলনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এটি প্রচলিত বিরোধী দলনির্ভর আন্দোলন নয়; বরং ডিজিটাল যুগের তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি নাগরিক চাপ। ফলে সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ শুধু একটি মন্ত্রীর পদত্যাগে শেষ হচ্ছে না। প্রশ্ন এখন, পরীক্ষাব্যবস্থায় আস্থা ফিরবে কীভাবে এবং তরুণদের ক্ষোভ কি সাময়িকভাবে প্রশমিত হয়েছে, নাকি এটি ভারতের রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের দীর্ঘমেয়াদি শক্তির সূচনা? ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ তাই একদিকে আন্দোলনকারীদের তাৎক্ষণিক বিজয়, অন্যদিকে মোদি সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সতর্কবার্তা—তরুণ ভারতের অসন্তোষকে আর শুধু প্রশাসনিক সংকট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

লেখক: ড.আবুল হাসনাৎ মিল্টন, প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা