শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

উপসম্পাদকীয়

৭৭ বছরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ: স্বাধীনতার নেতৃত্ব থেকে উন্নয়ন-অভিযাত্রা, গণতন্ত্রের সংগ্রাম ও জাতির অগ্রযাত্রার মহাকাব্য

লিখেছেন: আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী প্রকাশিত: ২ জুলাই ২০২৬, ১:০২ পিএম
৭৭ বছরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ: স্বাধীনতার নেতৃত্ব থেকে উন্নয়ন-অভিযাত্রা, গণতন্ত্রের সংগ্রাম ও জাতির অগ্রযাত্রার মহাকাব্য

বাংলাদেশের ইতিহাস, বাঙালি জাতির আত্মপরিচয়ের ইতিহাস এবং স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে যে রাজনৈতিক সংগঠনের নাম অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে, সেটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত এই দলটি সাতাত্তর বছরের দীর্ঘ পথচলায় শুধু একটি রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবেই নয়, বরং বাঙালির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং জাতীয় মুক্তির সংগ্রামের প্রধান বাহক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্রের সংগ্রাম থেকে উন্নয়নের অভিযাত্রা—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে আওয়ামী লীগের রয়েছে অনন্য ভূমিকা। আজ যখন দলটি তার ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে, তখন ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে বাংলাদেশের জন্ম, বিকাশ, রাষ্ট্রগঠন এবং আধুনিক উন্নয়নের ধারার সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর এবং ঐতিহাসিক। প্রতিষ্ঠা ও সংগ্রামের সূচনা ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও পূর্ব বাংলার মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার নিশ্চিত হয়নি। পশ্চিম পাকিস্তানকেন্দ্রিক শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যমূলক নীতির ফলে পূর্ব বাংলার জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বৃদ্ধি পেতে থাকে। এই বাস্তবতায় ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে প্রতিষ্ঠিত হয় আওয়ামী মুসলিম লীগ, যা পরবর্তীতে অসাম্প্রদায়িক চেতনার ভিত্তিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে রূপান্তরিত হয়। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই দলটি ছিল জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের প্রধান শক্তি। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, শিক্ষক, পেশাজীবী এবং সাধারণ মানুষের ন্যায্য দাবিকে রাজনৈতিক কর্মসূচির কেন্দ্রে স্থান দিয়ে আওয়ামী লীগ দ্রুত জনগণের আস্থা অর্জন করে। ভাষা আন্দোলন ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি নির্মাণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এই আন্দোলনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয়, রাজনৈতিক অধিকার এবং আত্মমর্যাদাবোধের যে বিকাশ ঘটে, তা পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত্তি তৈরি করে। আওয়ামী লীগ সেই আন্দোলনের রাজনৈতিক ধারক ও বাহক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। শিক্ষা আন্দোলন, স্বায়ত্তশাসন ও ছয় দফা পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষা আন্দোলন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আওয়ামী লীগ ধারাবাহিকভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যায়। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ছয় দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে পূর্ব বাংলার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকারের দাবিকে সুসংগঠিত রূপ দেওয়া হয়। ছয় দফার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুকে “বঙ্গবন্ধু” উপাধিতে ভূষিত করে। এই সময় থেকেই তিনি বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। ১৯৭০-এর নির্বাচন ও স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন ছিল পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচন। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। জনগণ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে তাদের ভাগ্য নির্ধারণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে রায় দেয়। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায় পাকিস্তানি সামরিক শাসকগোষ্ঠী। শুরু হয় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে কার্যত পূর্ব বাংলা স্বাধীন রাষ্ট্রের মতো পরিচালিত হতে থাকে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত করে। সেই ভাষণ আজও বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক ভাষণ হিসেবে বিবেচিত হয়। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রদান করে। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্মদান এবং দুই লক্ষাধিক নারী নির্যাতনের করুণ ইতিহাস অতিক্রম করে ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়। আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন হলো—একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। বিশ্বের মানচিত্রে “বাংলাদেশ” নামে একটি স্বাধীন দেশের জন্ম এই দলের নেতৃত্বেই সম্ভব হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রগঠন ও অসমাপ্ত স্বপ্ন স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, সংবিধান প্রণয়ন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন এবং প্রশাসনিক কাঠামো গঠনে তিনি নিরলসভাবে কাজ করেন। বাংলাদেশের সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতার চার মূলনীতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বঙ্গবন্ধুর লক্ষ্য ছিল শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন এবং মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে সেই অগ্রযাত্রা হঠাৎ থমকে যায়। অন্ধকার অধ্যায় ও গণতন্ত্রের সংকট বঙ্গবন্ধু হত্যার পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্বাধীনতাবিরোধী এবং প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির উত্থান ঘটে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ গভীর সংকটের মুখে পড়ে। পরবর্তী দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সামরিক শাসন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং গণতন্ত্রের সংকোচন দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করে। আওয়ামী লীগ তখন বিরোধী শক্তি হিসেবে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়। শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ও আওয়ামী লীগের পুনর্জাগরণ ১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসেন এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। সেই সময় দলটি ছিল নানা সংকট ও বিভক্তির মুখোমুখি। কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলটি পুনরায় সংগঠিত হয়। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আওয়ামী লীগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে শেখ হাসিনা দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই সময়ে তিনি আওয়ামী লীগকে একটি শক্তিশালী, সুসংগঠিত এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্ষম রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করেছেন। রাষ্ট্রক্ষমতায় আওয়ামী লীগ ও উন্নয়নের নতুন দিগন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পাঁচবার রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। এই সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, প্রযুক্তি এবং সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। একসময়ের সাহায্যনির্ভর দেশ ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাসী উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও কৃষি বিপ্লব শেখ হাসিনার সরকারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অর্জন হলো খাদ্য উৎপাদনে বিপ্লব সাধন। উন্নত বীজ, কৃষি প্রযুক্তি, কৃষি ভর্তুকি, সেচ সুবিধা এবং কৃষকদের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার অবস্থানে পৌঁছায়। অবকাঠামো উন্নয়নের যুগ বাংলাদেশের উন্নয়ন ইতিহাসে অবকাঠামো খাতের অগ্রগতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পদ্মা সেতু শুধু একটি সেতু নয়; এটি জাতীয় সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। এছাড়া মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, এক্সপ্রেসওয়ে, নতুন বিমানবন্দর টার্মিনাল, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং অসংখ্য সড়ক ও সেতু দেশের উন্নয়নের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে “ডিজিটাল বাংলাদেশ” ধারণা বাস্তব রূপ লাভ করে। তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তার, ই-গভর্ন্যান্স, অনলাইন শিক্ষা, মোবাইল ব্যাংকিং এবং ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণ দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে নতুন মাত্রা প্রদান করেছে। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম প্রযুক্তিভিত্তিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন ও মানবসম্পদ উন্নয়ন নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং নেতৃত্ব বিকাশে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। পোশাক শিল্প, ক্ষুদ্রঋণ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ নারী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ মানবসম্পদ উন্নয়নের ভিত্তিকে শক্তিশালী করেছে। বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নেতৃত্ব শেখ হাসিনার নেতৃত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি। জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং মানবিক সংকটে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। রোহিঙ্গা সংকটে মানবিক অবস্থান গ্রহণ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতায় ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি অনুসরণের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সংকট, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যতের প্রত্যাশা বাংলাদেশের উন্নয়নের এই দীর্ঘ যাত্রা নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, করোনা মহামারি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েও দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে আরও উন্নত, প্রযুক্তিনির্ভর, জ্ঞানভিত্তিক এবং বৈষম্যহীন—এমন প্রত্যাশা জাতির মধ্যে বিদ্যমান।

সাতাত্তর বছরের ইতিহাসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কখনও সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছে, কখনও রাষ্ট্রগঠনের দায়িত্ব পালন করেছে, কখনও গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে, আবার কখনও উন্নয়নের মহাসড়কে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা থেকে উন্নয়ন, গণতন্ত্রের সংগ্রাম থেকে আধুনিক রাষ্ট্র নির্মাণ—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে দলটির অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে স্থায়ীভাবে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে। ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আওয়ামী লীগের ভূমিকা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক নেতৃত্ব এবং শেখ হাসিনার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও রাষ্ট্র পরিচালনার অধ্যায় নিঃসন্দেহে গবেষণা, মূল্যায়ন এবং আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকবে। বাংলাদেশের ইতিহাস যতদিন থাকবে, ততদিন স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী এই রাজনৈতিক দলের অবদানও ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। লেখক: আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, মেয়র সিলেট সিটি কর্পোরেশন