শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

রাজনীতি

সার্জিও গোরের হ্যাঁ—খলিলের না, নিশ্চুপ তারেক, স্ট্যান্ডবাই আওয়ামী লীগ, ফিরছেন শেখ হাসিনা

লিখেছেন: ড.আবুল হাসনাৎ মিল্টন প্রকাশিত: ১ আগস্ট ২০২৬, ১:৪০ পিএম
সার্জিও গোরের হ্যাঁ—খলিলের না, নিশ্চুপ তারেক, স্ট্যান্ডবাই আওয়ামী লীগ, ফিরছেন শেখ হাসিনা

পৃথিবীর ইতিহাসে, রাষ্ট্রীয় অতিথির সম্মানে নৈশভোজ বাতিল হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশ ছাড়া আর মাত্র দুটি দেশের রয়েছে। প্রথমেই এই সংবাদটি যখন সোর্স নিউজ বাংলার প্রধান সম্পাদক হিসেবে আমার কাছে এলো, আমি যাচাই-বাছাই করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ইঙ্গিত দেয়ার পর, কোন কোন বিবেকবান মানুষ অনেকটাই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে আমাকে গুজববাজ বলে অভিহিত করেছিলেন। আবার সেই সব বন্ধুদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাই। তবে যে কারণে নৈশভোজ বাতিল হয়েছে, সেই কারণ পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র কারণ, যা পূর্বে কখনো হয়নি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর খলিলুর রহমান সব সময়, সবদিকে খেলা একটি লোক। তিনি যখন প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে সংবাদ সম্মেলন করছিলেন—আওয়ামী লীগের ইস্যুটি অবান্তর, আওয়ামী লীগ প্রাসঙ্গিক নয়, এ ব্যাপারে কোনো আলোচনা হয়নি—'না না' বলে নিজের বিরক্তি কিছুতেই লুকিয়ে রাখতে পারছিলেন না। ঠিক তখনই, একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আওয়ামী লীগের মনোনীত একজন প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকে বেশ কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন সার্জিও গোর। এই সংশ্লিষ্ট অনেক কিছুই সোর্স নিউজের হাতে। কিন্তু তার চেয়ে বড় খবর, তারেক রহমানের সঙ্গে নির্ধারিত ৪৫ মিনিটের বৈঠকটি ১৯ মিনিট একপাক্ষিক কনভারসেশনের পর, বাকি ১৪ মিনিট তিনটি ফোন কল "ইয়েস স্যার, ইয়েস স্যার, ইয়েস স্যার" বলে অতিবাহিত হয়। নাম-ধাম, ইস্যু পরিষ্কার করে বললে আমার বন্ধুরা আবারো আমার উপর ছুটে যেতে পারেন। বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইউনূস সরকারের ব্যাপক ভিত্তিক দুর্নীতি, লুটপাট, ইন্দো-প্যাসিফিক নীতির প্রতি বৃদ্ধাঙ্কুলি প্রদর্শন, এই অঞ্চলের সমুদ্রের একমাত্র অভিভাবক হওয়া, বাংলাদেশে পণ্য উৎপাদন করে নর্থ-ইস্টে রপ্তানি করা, সেনাবাহিনীর অধিকতর নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে করিডোর এবং বাছাইকৃত অযোগ্যদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আরোহণের মাধ্যমে যেভাবে বাংলাদেশকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে—তা কারো কাছেই কাম্য না থাকলেও এই বিষয়টি দৃঢ় শব্দের সাথে সামনে আসায় সকল ছলচাতুরি এখন প্রকাশিত হয়েছে, ভবিষ্যতেও প্রকাশিত হতে থাকবে। রাষ্ট্রীয় অতিথির সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে ইউনূস সরকারের ক্যাবিনেটের অলমোস্ট অধিক সংখ্যক সদস্যদের আমন্ত্রণে বিস্মিত হয়েছিলেন মার্কিন তোতাপাখিসহ সার্জিও গোর নিজেও। "এটা কি ইউনূস সরকারের কন্টিনিউয়েশন সরকার?"—এ প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি ডক্টর খলিলুর। "এটা কি ইউনূস সরকারের নেয়া পররাষ্ট্রনীতি?"—এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, দিতে পারেননি তারেক রহমানও। আলোচনায় অনিবার্যভাবেই উঠে আসে জামায়াতের বিতর্ক, তাদের মুক্তিযুদ্ধকালীন বিরোধিতা এবং সর্বশেষ যতটুকু না শক্তি, তার চেয়ে বেশি ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানোর চেষ্টা। নৈতিক স্খলন, দুর্নীতি এবং স্বল্প ভোটারের উপস্থিতিতে তাদের ফলাফল ও সান্ধ্যকালীন ভোটের ফলাফলে বিশ্ববাসী যে বিষয়টি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে—কাগজে বাঘ আর ফাঁকা বুলির এই বিষয়গুলো দীর্ঘমেয়াদী শান্তি স্থাপনে এবং প্যাসিফিক নীতি বাস্তবায়নে একেবারেই অসামঞ্জস্যপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ একক শক্তি হিসেবে স্ট্যান্ডবাই। জনসমর্থন বিবেচনা এবং আন্তর্জাতিক নীতিতে পারস্পরিক একে অপরের সঙ্গে বিশ্বাস-শ্রদ্ধা রেখে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি অন্বেষণে বৃহৎ শক্তির সঙ্গে একটা ভারসাম্যপূর্ণ নীতি নিয়ে বাণিজ্যিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করে যেভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, সেটা বহুল প্রশংসার দাবিদার—এই আলোচনা প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষই বিষয়টি চূড়ান্ত না করলেও দিল্লির একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে—ধীরে ধীরে আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক যে অস্থিতিশীলতা এবং অস্থিরতা, সেটা কাটতে শুরু করবে; এবং ইঙ্গিত পেন্টাগনের। দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক নীতির সফল বাস্তবায়নে বাংলাদেশ এক কৌশলগত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ওয়াশিংটন, দিল্লি ও বেইজিং—তিন মেরুর এই রাজনৈতিক খেলায় অভ্যন্তরীণ শক্তির পুনর্বিন্যাস ও শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে নতুন যে সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, তা আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও পররাষ্ট্রনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবে। যারা এই রাজনৈতিক দিকগুলোর খোঁজ-খবর রাখেন, তারা ভালো করে জানেন যে বিশেষ করে গেল ডিসেম্বর মাসে মার্কিন সেনেটে ১২৭/৭১ ভোটে ইন্দো-প্যাসিফিক নীতি, ওভারল্যাপিং থিওরিতে—অর্থাৎ যেখানে ভারতের প্রয়োজন সেখানে ভারত সামনে আসবে, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সামনে আসবে—এই ধারাবাহিকতায় পাস হয়েছিল। দীনেশ ত্রিবেদী এবং সার্জিও গোরের রুদ্ধদ্বার বৈঠক সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। একথা বললে আবারো আমার বন্ধুরা গালমন্দ করতে শুরু করবেন—তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই, আরেকটু ধৈর্য ধরুন, বেশ কয়েকটি বড় ঘটনার মুখোমুখি হতে চলেছে বাংলাদেশ। শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

লেখক: ড.আবুল হাসনাৎ মিল্টন, প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা