উদ্বেগভরা বিশ্বমঞ্চ আর এক অবরুদ্ধ স্বদেশ: শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে বাংলাদেশের সর্বগ্রাসী শাসন নিয়ে পাওলো কাসাকার চরম ক্ষোভ।
গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্নেন্স (GCDG)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সেমিনারে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মানবাধিকারের করুণ চিত্র তুলে ধরে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সাবেক সদস্য (MEP) এবং সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরামের (SADF) নির্বাহী পরিচালক পাওলো কাসাকা (Paulo Casaca)।
অত্যন্ত ব্যথাতুর ও স্পষ্ট ভাষায় এই বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব বলেন, “আজ বাংলাদেশে এক অসাংবিধানিক ও জবরদস্তিমূলক স্বৈরতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যা দিন দিন এক সর্বগ্রাসী রূপ ধারণ করে সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা কেড়ে নিচ্ছে।”
ভার্চুয়ালি এই আন্তর্জাতিকমঞ্চে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারের সময়কার অর্থনৈতিক অগ্রগতি, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এবং আইনের শাসনের চিত্র তুলে ধরে বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মনিটরিং ও নিরপেক্ষ আইনি তদারকির জোরালো আহ্বান জানান।
পাওলো কাসাকার মূল বক্তব্য ও উদ্বেগের বিষয়সমূহ
• মৌলিক অধিকার ও সংহতির সংকট:
• পাওলো কাসাকা অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে উল্লেখ করেন যে, দেশে আজ রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষেরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পরিকল্পিত নির্যাতন ও নিগ্রহের কারণে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো আজ বিপন্ন।
• বিচারব্যবস্থার অপব্যবহার:
• ট্রাইব্যুনালের নামে সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিচার কাঠামোর মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্মূল করার অপচেষ্টার কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, আইনের শাসন ও সাংবিধানিক ভারসাম্য ছাড়া একটি রাষ্ট্র কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক থাকতে পারে না।
• সংবিধান ও স্থিতিশীলতার তাগিদ:
• বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে 'সর্বগ্রাসী ও স্বৈরাচারী' আখ্যা দিয়ে তিনি দ্রুত সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও কূটনৈতিক পর্যবেক্ষণ
ডিজিটাল ও ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই আন্তর্জাতিক সেমিনারে সরাসরি যুক্ত হয়ে শেখ হাসিনা বর্তমান সরকারের আমলের নানা উন্নয়ন ও অর্জনের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি চলমান রাজনৈতিক হয়রানি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিচারের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের নিরপেক্ষ দৃষ্টি কামনা করেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আন্তর্জাতিক গণহত্যার স্বীকৃতির পক্ষে কাজ করা পাওলো কাসাকার মতো ব্যক্তিত্বের এই সরব অবস্থান বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট ও মানবাধিকারের করুণ বাস্তবতাকে আরও জোরালোভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
লেখক: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা (The Source News Bangla)