মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

মতামত

শেখ হাসিনার উন্নয়ন ভাবনা-৫ ১৯৭৪ সালের খাদ্য সংকট: ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ; কৃষির বর্তমান চিত্র

লিখেছেন: নীহারিকা রায়, উন্নয়ন কর্মী, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট প্রকাশিত: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
শেখ হাসিনার উন্নয়ন ভাবনা-৫ ১৯৭৪ সালের খাদ্য সংকট: ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ; কৃষির বর্তমান চিত্র

বাংলাদেশের উন্নয়ন ভাবনায় কৃষি তথা খাদ্য উৎপাদন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, আর কীভাবে সরকার কৃষি উন্নয়নে এত সফলতা পেল—তা বুঝতে হলে আমাদের পেছনে ফিরে তাকাতে হবে। জানতে হবে ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের পটভূমি ও কারণ। এই একটি ঘটনাই বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পথে প্রায় বাধ্য করে দিয়েছিল, এবং আগামীতে যেন বাংলাদেশে আর কখনো এমন খাদ্য-ঘাটতি না হয়, তার জন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জানাও জরুরি।

খাদ্য সংকটের কারণ: একক নয়, বহুমাত্রিক সংকট

১৯৭৪ সালের বাংলাদেশের খাদ্য সংকটের কোনো একক কারণে ঘটেনি; এটি ছিল প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অর্থনৈতিক সংকট, বণ্টন ব্যবস্থার ত্রুটি এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির এক জটিল ও যৌথ পরিণতি। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনসহ একাধিক গবেষকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাজারে মোট খাদ্যের চরম অভাবের চেয়েও সাধারণ মানুষের খাদ্য কেনার ক্ষমতা বা "অধিকার" হারিয়ে ফেলাটাই এই দুর্ভিক্ষের প্রধান কারণ ছিল।

কোনো নির্দিষ্ট পক্ষকে দায়ী না করে নিরপেক্ষ ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করলে দুর্ভিক্ষের মূল কারণগুলোকে মূলত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়:

১. প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও আয়ের উৎস বিনাশ: ১৯৭৪ সালের জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর অববাহিকায় রেকর্ড পরিমাণ বন্যা হয়, যা আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি করে। এর ফলে গ্রামাঞ্চলের বিশাল একটি দিনমজুর গোষ্ঠী পুরোপুরি কাজ হারিয়ে ফেলে এবং তাদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায়।

২. মজুতদারি ও বণ্টন ব্যবস্থার দুর্বলতা: বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফসলহানির আশঙ্কায় বাজারে অসাধু ব্যবসায়ী ও বড় কৃষকদের মধ্যে চাল মজুত করার প্রবণতা বাড়ে, ফলে বাজারে চালের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। তৎকালীন রেশনিং ব্যবস্থা মূলত শহরকেন্দ্রিক বা নির্দিষ্ট সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর জন্য কার্যকর ছিল; গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র দিনমজুরদের সুরক্ষায় বণ্টন ব্যবস্থা পুরোপুরি সফল হতে পারেনি। এখানে উল্লেখ্য যে, তৎকালীন খাদ্য সচিব আবদুল মোমেন খান — যিনি পরবর্তীতে ১৯৭৭-৮২ সালে সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে যুক্ত হন এবং যিনি বিএনপি নেতা ড. আবদুল মঈন খানের পিতা, তিনিই ১৯৭৪ সালে রেশনিং ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছিলেন।

৩. কিউবা ইস্যু ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা: বাংলাদেশ তখন মার্কিন খাদ্য সহায়তার (PL-480) ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু ওই সময়ে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র কিউবার কাছে সামান্য পাট রপ্তানি করে। বলা হয়, তৎকালীন মার্কিন আইন অনুযায়ী কিউবার সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশকে সহায়তা দেওয়া নিষিদ্ধ থাকায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে খাদ্য সহায়তা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখে। সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্তে এই আন্তর্জাতিক সাহায্য বন্ধ হয়ে যাওয়া দুর্ভিক্ষের তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

৪. বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা: ১৯৭৩-৭৪ সালের বৈশ্বিক তেল সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও খাদ্যের দাম প্রচণ্ড বেড়ে যায়। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের কাছে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা না থাকায় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চড়া মূল্যে জরুরি খাদ্য আমদানি করা সরকারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

একটি জাতীয় শিক্ষা: "আর কখনো নয়"

এই চারটি কারণ একসঙ্গে বিবেচনা করলে বোঝা যায়, দুর্ভিক্ষটি কেবল উৎপাদন-ঘাটতির সংকট ছিল না—এটি ছিল উৎপাদন, বণ্টন, আবহাওয়া-নির্ভরতা ও আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার একযোগে ব্যর্থতা। এই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের কাছে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে: খাদ্য নিরাপত্তা কোনো ঐচ্ছিক লক্ষ্য নয়, বরং জাতীয় বেঁচে থাকার পূর্বশর্ত। তাই কেবল ফলন বাড়ানোর যান্ত্রিক প্রযুক্তি আনলেই চলবে না—আবহাওয়া ও জলবায়ুর অনিশ্চয়তা যাতে আর কখনো এমন বিপর্যয় ডেকে আনতে না পারে, সে জন্য পূর্বাভাস-নির্ভর ও ঝুঁকি-প্রতিরোধী ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে হবে। এই উপলব্ধি থেকেই কৃষি যান্ত্রিকীকরণের পাশাপাশি এগ্রো-মেটিওরোলজি বা কৃষি আবহাওয়া বিজ্ঞানের মতো বিষয়ও বাংলাদেশের কৃষি-কৌশলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক খাদ্য ও কৃষি উৎপাদনের চিত্র

খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে সমসাময়িক উপাত্ত পর্যালোচনা করা জরুরি। ২০২৪ সালের উপাত্ত অনুযায়ী, প্রধান খাদ্যশস্য চাল ও মাছ উৎপাদনে অসামান্য সাফল্য থাকলেও সার্বিক কৃষিজ অর্থনীতিতে বাংলাদেশ বিশ্বে ২৪তম অবস্থানে ছিল। সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে প্রধান খাদ্যশস্যে দেশ প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও গমের মতো কিছু খাদ্যে আমদানির ওপর বড় নির্ভরশীলতা রয়ে যায়।

• চাল উৎপাদন: জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) এবং সরকারি তথ্যমতে, চীন ও ভারতের পরেই ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ছিল বিশ্বের ৩য় বৃহত্তম চাল উৎপাদনকারী দেশ। এ সময়ে দেশে চালের উৎপাদন দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ মেট্রিক টনে, যা অভ্যন্তরীণ চাহিদা (প্রায় ৪ কোটি ১১ লাখ টন) মিটিয়ে উদ্বৃত্ত তৈরি করে—যেখানে ১৯৯৬ সালে এই উৎপাদন ছিল মাত্র ১ কোটি ৮৭ লাখ মেট্রিক টন।

• গম ও দানাদার খাদ্যের ঘাটতি: জলবায়ু ও অন্যান্য ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশে গমের উৎপাদন সীমাবদ্ধ। ২০২৪ সালে গমের প্রায় ৭৪ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ছিল মাত্র ১১.৭২ লাখ টন, ফলে এ চাহিদা পূরণে দেশটি আমদানির ওপর নির্ভরশীল থেকে যায়।

• মৎস্য সম্পদ: অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয় (নদ-নদী, বিল, হাওর) থেকে মাছ আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বে ২য় স্থান (ভারতের পরেই) অর্জন করেছে। এ ছাড়া পুকুরে বা কৃত্রিম উপায়ে মাছ চাষে (Aquaculture) বাংলাদেশ বৈশ্বিক তালিকায় ৫ম স্থানে রয়েছে।

• অন্যান্য কৃষিপণ্য: FAO-এর তথ্যভাণ্ডার অনুযায়ী বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় ২২টি কৃষিপণ্য উৎপাদনে বাংলাদেশের নাম রয়েছে—যেমন পাট ও শুকনো মরিচে ২য়, রসুনে ৩য়, আলু ও পেঁয়াজে ৭ম, এবং চায়ে ৮ম স্থান (এ ছাড়া আম উৎপাদনেও শীর্ষ সারিতে অবস্থান)।

আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও নিয়ন্ত্রিত চাষাবাদ

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সনাতনী পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির বিস্তার ঘটানো হচ্ছে: কৃষি যান্ত্রিকীকরণ • কম সময়ে জমি চাষের জন্য ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারের ব্যবহার। • অল্প সময়ে ও নিখুঁতভাবে বীজ ও চারা রোপণে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার-এর ব্যবহার। • সনাতনী পদ্ধতিতে ফসল সংগ্রহের ফলে ১ থেকে ২% ফসল নষ্ট হতো; তা দূর করতে এবং ধান/গম কাটা, মাড়াই ও ঝাড়াই সহজ করতে কম্বাইন্ড হারভেস্টার ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ ও আধুনিক অবকাঠামো • পলিনেট হাউজ ও গ্রিনহাউজ: সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে বছরব্যাপী উচ্চমূল্যের অফ-সিজন (অসময়ের) ফসল এবং সুস্থ-সবল চারা উৎপাদনে এটি অত্যন্ত কার্যকর। • ভার্টিক্যাল ফার্মিং (উদ্লম্ব কৃষি): কৃত্রিম আলো ও নিয়ন্ত্রিত আর্দ্রতা ব্যবহার করে ভবনের ভেতর একের পর এক তাক সাজিয়ে চাষাবাদ করা হয়, যা জমির অপচয় কমায়। • হাইড্রোপনিক্স ও অ্যারোপনিক্স: মাটির পরিবর্তে সরাসরি পুষ্টিসমৃদ্ধ পানিতে (হাইড্রোপনিক্স) কিংবা বাতাসে ঝুলন্ত শিকড়ে কুয়াশার মতো পুষ্টি স্প্রে করে (অ্যারোপনিক্স) চাষ করা হয়। আধুনিক সেচ কৌশল • ড্রিপ সেচ ও ফার্টিগেশন (Fertigation): পাইপের মাধ্যমে সরাসরি গাছের গোড়ায় ফোঁটায় ফোঁটায় পানি ও সার পৌঁছে দেওয়ার পদ্ধতি, যা পানির অপচয় প্রায় ৬০% পর্যন্ত কমায়। গ্রীষ্মকালে শীতকালীন সবজি চাষের জন্য আধুনিক অবকাঠামোর সাহায্যে তাই বেছে নিতে সুপারিশ করা হয়েছে তিন পার্বত্য জেলা ও শ্রীমঙ্গলকে। কারণ— • পার্বত্য চট্টগ্রাম (বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি): সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বেশি হওয়ায় পাহাড়ের চূড়া ও সংলগ্ন উপত্যকাগুলোতে সারা বছরই সমতলের চেয়ে তাপমাত্রা ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম থাকে। ঘন বনাঞ্চল ও মেঘের আনাগোনার কারণে এলাকাগুলো তুলনামূলক শীতল।

• শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার): প্রচুর চা বাগান, ঘন বনাঞ্চল ও দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের কারণে শ্রীমঙ্গলের আবহাওয়া প্রাকৃতিকভাবেই ঠান্ডা থাকে। শীতকালে দেশের অন্যতম সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এখানেই রেকর্ড করা হয়। কৃষি আবহাওয়া বিজ্ঞান (Agro-Meteorology) ও BAMIS: দুর্ভিক্ষের শিক্ষা থেকে প্রাতিষ্ঠানিক সাড়া যান্ত্রিকীকরণ ও নিয়ন্ত্রিত চাষাবাদ যেমন উৎপাদন বাড়ায়, তেমনি ১৯৭৪-এর অভিজ্ঞতা এটাও শিখিয়েছে যে শুধু বেশি ফলানোই যথেষ্ট নয়—প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস ও প্রস্তুতি না থাকলে একটি বন্যা বা অনিয়মিত বৃষ্টিপাতই আবার সেই একই সংকট ডেকে আনতে পারে। এই বাস্তবতা থেকেই কৃষি আবহাওয়া বিজ্ঞান বা এগ্রো-মেটিওরোলজি বাংলাদেশের কৃষিনীতির একটি কেন্দ্রীয় স্তম্ভ হয়ে উঠেছে। তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা ও সূর্যালোকের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আধুনিক কৃষি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যাতে ১৯৭৪ সালের মতো আকস্মিক প্রাকৃতিক আঘাত কৃষককে আর নিরুপায় করে না ফেলে।

• কৃষি আবহাওয়া বুলেটিন: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (BMD) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE) যৌথভাবে কৃষকদের জন্য নিয়মিত বুলেটিন প্রকাশ করে, যাতে সঠিক সময়ে বীজ বপন, সেচ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়।

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ফসল রক্ষা: ভারী বৃষ্টি বা পাহাড়ি ঢলের পূর্বাভাসের মাধ্যমে হাওর ও উপকূলীয় অঞ্চলের পাকা বোরো ধান দ্রুত কেটে নেওয়ার আগাম তথ্য পৌঁছানো হয়—ঠিক সেই ধরনের প্রস্তুতি, যার অভাব ১৯৭৪ সালে দিনমজুরদের আয়ের উৎস ধ্বংস করে দিয়েছিল। এ ছাড়া বাতাসের আর্দ্রতা বিশ্লেষণ করে রোগবালাই বা ছত্রাকের আক্রমণও আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব হয়।

• BAMIS পোর্টাল ও মোবাইল অ্যাপ: ২০১৯ সালে চালু হওয়া বাংলাদেশ কৃষি আবহাওয়া তথ্য পদ্ধতি (BAMIS) পোর্টাল ও গুগল প্লে স্টোরের অ্যাপের মাধ্যমে ৬৪ জেলার কৃষকদের সপ্তাহে দুবার আঞ্চলিক এবং একবার জাতীয় আবহাওয়া বুলেটিন ও জরুরি সতর্কতা প্রদান করা হচ্ছে। উপসংহারঃ সব মিলিয়ে দেখা যায়, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ শুধু একটি ঐতিহাসিক দুর্যোগ নয়—এটি বাংলাদেশের কৃষিনীতির দিকনির্দেশক এক শিক্ষাও বটে। উৎপাদন বৃদ্ধি, বণ্টন ব্যবস্থার সংস্কার এবং বিদেশনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি আবহাওয়া-পূর্বাভাসনির্ভর প্রস্তুতিকে অন্তর্ভুক্ত করেই বাংলাদেশ ধীরে ধীরে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়েছে। যান্ত্রিকীকরণ ও নিয়ন্ত্রিত চাষাবাদ যেখানে ফলন বাড়িয়েছে, সেখানে এগ্রো-মেটিওরোলজি ও BAMIS-এর মতো ব্যবস্থা নিশ্চিত করছে যে প্রকৃতির আকস্মিক আঘাত যেন আর কখনো ১৯৭৪ সালের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে না পারে।

লেখক: নীহারিকা রায়, উন্নয়ন কর্মী, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট