শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

জাতীয়

আন্তর্জাতিক উদ্বেগ, বিনা বিচারে আটক ও বৈশ্বিক কূটনীতির চাপ

লিখেছেন: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা (The Source News Bangla) প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৮ এএম
আন্তর্জাতিক উদ্বেগ, বিনা বিচারে আটক ও বৈশ্বিক কূটনীতির চাপ

পর্ব ২

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ কারা সংকট ও রাজনৈতিক বিরোধীদের দীর্ঘদিন বিনা বিচারে আটকে রাখার বিষয়টি নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW) সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশদ প্রতিবেদনে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, হাজারেরও বেশি বিরোধী নেতাকর্মীর মধ্যে শতাধিক ব্যক্তি সুনির্দিষ্ট কোনো চার্জ বা অভিযোগ গঠন ছাড়াই মাসের পর মাস কারাগারে বন্দী আছেন। তাদের একটি বড় অংশই বয়োবৃদ্ধ এবং জটিল শারীরিক ব্যাধিতে আক্রান্ত।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্ট কিছু দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT)-এর আইনি বিধান অনুযায়ী কোনো ব্যতিক্রমী কারণ দর্শানো ছাড়া এক বছরের বেশি সময় অভিযোগ ছাড়া আটকে রাখার সুযোগ নেই। কিন্তু বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ৮১ বছর বয়সী ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী এবং ৭৫ বছর বয়সী সাবেক সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার দীর্ঘ ২২ মাস ধরে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই কারারুদ্ধ আছেন। কামাল আহমেদ মজুমদার কারাগারে থাকা অবস্থায় গ্যাংগ্রিনে আক্রান্ত হয়ে পায়ের তিনটি আঙুল হারিয়েছেন এবং পরবর্তীতে পড়ে গিয়ে হাড় ভেঙে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এছাড়া বিশিষ্ট নাগরিক শাহরিয়ার কবির এবং সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল মুক্তাদির চৌধুরী গুরুতর অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও তাদের জামিন আবেদন ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিভাগের পরিচালক এলেন পেয়ারসন স্পষ্ট করেছেন যে, প্রাক-বিচার আটকাদেশ কখনোই স্বাভাবিক নিয়ম হতে পারে না; এটি কেবল ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে পরবর্তী সময়ে অন্তত ১০ জন রাজনৈতিক ব্যক্তির কারাবন্দী অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। জামিন পাওয়ার পর পুনরায় নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রথা বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় প্রশ্ন তুলেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউ ইয়র্ক সফরের ঠিক আগে প্রকাশিত এসব প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে গভীর চাপের মুখে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

লেখক: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা (The Source News Bangla)

সম্পর্কিত সংবাদ

কারাগারে উপচে পড়া ভিড় ও মানবাধিকার সংকট: কোন পথে বিচার ব্যবস্থা? ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি ও কারা প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সংকট। পর্ব ১

ভারতীয় বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহে চাপ: কেন তারেকের ভারত সফর বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ: দিল্লি সফরের পথ খুজছে ঢাকা ?

কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তাশঙ্কা ও সরকারের উদাসীনতা: কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের ব্যাপক মতবিরোধ ও হট্টগোল,আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি কি সংকটে?