শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

স্বাস্থ্য

একদিনে ১৫ প্রাণহানি: ডেঙ্গু আর হামের বিষাক্ত ছোবলে নিঃস্ব অজস্র কোল

লিখেছেন: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা (The Source News Bangla) প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১:২৯ পিএম
একদিনে ১৫ প্রাণহানি: ডেঙ্গু আর হামের বিষাক্ত ছোবলে নিঃস্ব অজস্র কোল

একটি তাজা জীবনের স্পন্দন যখন অকালে থেমে যায়, তখন শুধু একটি সংখ্যা বা পরিসংখান বদলায় না; চিরতরে নিভে যায় একটি পরিবারের আলো। ডেঙ্গু আর হাম—দুই ঘাতকের ভয়াল থাবায় দেশে ২৪ ঘণ্টায় ঝরে গেল আরও ১৫টি প্রাণ। স্বজন হারানোর করুণ আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠছে হাসপাতালগুলোর বাতাস, আর প্রিয়জনকে বাঁচানোর আকুল আকুতি পিষে মরছে ওয়ার্ডের ঠান্ডা মেঝেতে।

রোগের ভয়াবহ এই চিত্র রূপ নিচ্ছে বুকভাঙা মানবিক কান্নায়:

নিভে যাওয়া কচি চোখগুলো: স্বা

স্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আটটি নিষ্পাপ শিশুর। যদিও নিশ্চিত হামে নতুন মৃত্যু নেই, তবুও স্বজনদের বুক খালি হওয়ার বেদনা কমেনি একটুও। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে প্রাণ গেছে ১,০৪৪ শিশুর—যার মধ্যে ১,০০ জনের নিশ্চিত হাম এবং ৯৪৪ জনের উপসর্গ ছিল। একদিনেই নতুন করে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৮১ জনের এবং উপসর্গ দেখা গেছে ১,২৩৯ জনের শরীরে। বর্তমানে ১,১৪১ শিশু হাসপাতালে জীবনের সঙ্গে লড়ছে, আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১,০৭৯ জন।

ডেঙ্গুর অবিরাম মৃত্যুমিছিল:

অন্যদিকে এডিস মশার কামড়ে এক দিনেই প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৭ জন। খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে; এছাড়া চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুরে ঝরে গেছে একজন করে জীবন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৭১-এ। ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন ভর্তি রোগী ১,৭৫৩ জন। ঢাকার সিটি করপোরেশনের বাইরে সর্বোচ্চ ৩৯৪ জন এবং খুলনায় ৩৪৯ জন ভর্তি হয়েছেন।

সেপ্টেম্বরের আশঙ্কাজনক ঊর্ধ্বগতি:

পরিসংখ্যানে লুকানো নির্মম সত্য হলো দিন দিন ঘাতক ডেঙ্গুর আগ্রাসন বেড়েই চলেছে। জুলাইয়ে যেখানে মারা যান ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জন, সেখানে সেপ্টেম্বরের মাত্র ১৬ দিনেই প্রাণ গেছে ৭৪ জনের। ১ জানুয়ারি থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এসেছেন ৫৫,১৬৩ জন। সবচেয়ে বেশি প্রদীপ নিভেছে ঢাকা বিভাগে (৮০ জন), এরপর খুলনায় ৩২ এবং ময়মনসিংহে ১৮ জন।

রোগীর উপচে পড়া ভিড় আর করিডোরে চিকিৎসাধীন শিশুদের করুণ দৃশ্য স্পষ্ট করে দেয়, মহামারি রূপ নেওয়া এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেবল সরকারি নির্দেশনাই যথেষ্ট নয়। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়া এবং সামান্য লক্ষণ দেখলেই হাসপাতালে ছোটাই এখন একমাত্র পথ। আপনার একটু সচেতনতা হয়তো বাঁচাতে পারে কোনো মায়ের বুক খালি হওয়া থেকে, টিকিয়ে রাখতে পারে ফুটফুটে একটি হাসিকে।

লেখক: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা (The Source News Bangla)