বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

রাজনীতি

জুলাই দিবসে নাশকতা ঠেকাতে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াল র‍্যাব; কেন ভয় কাটছে না সরকারের, কী আছে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে?

লিখেছেন: ড.আবুল হাসনাৎ মিল্টন প্রকাশিত: ৪ আগস্ট ২০২৬, ১:০১ পিএম
জুলাই দিবসে নাশকতা ঠেকাতে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াল র‍্যাব; কেন ভয় কাটছে না সরকারের, কী আছে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে?

৫ আগস্ট ‘উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। দিবসটি ঘিরে কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী, কিংবা রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী কোনো কুচক্রী মহল যাতে নাশকতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা, টহল কার্যক্রম ও সাইবার নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ দমনে র‌্যাব পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে। নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সংঘবদ্ধ অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

র‌্যাব জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রতিটি ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ এলাকার নিরাপত্তা ঝুঁকি পর্যালোচনা করে আলাদা পরিকল্পনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে আগাম তথ্য সংগ্রহের জন্য গোয়েন্দা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অনুষ্ঠানস্থল, রোডমার্চ ও পদযাত্রার নির্ধারিত রুট এবং জুলাই স্মৃতিস্তম্ভগুলোতে ৪ আগস্ট রাত থেকেই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনে ইউনিফর্মধারী সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকের র‌্যাব সদস্যরাও নজরদারিতে থাকবেন।

এ ছাড়া স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। র‌্যাব জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও বাড়ানো হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলার অনুষ্ঠানস্থল ও জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে দিবসের সাত দিন আগে থেকেই ইউনিফর্মধারী ও সাদা পোশাকের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতেও সাইবার পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

কেন ভয় কাটছেনা সরকারের ?

ঢাকা শহরসহ সারা বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ধরনের বোমা পেতে রাখার ঘটনা, পুলিশকে হুমকি দিয়ে বেনামী পত্র, বেশ কিছু উগ্রবাদী সংগঠনের প্রচারপত্র বিলি, একটি মৌলবাদী সংগঠনের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার প্রকাশ্যে নানা ধরনের অপতৎপরতা, তুর্কি গোয়েন্দা সংস্থার নানা ধরনের কার্যক্রম, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং সরকার সমর্থিত সংগঠনের ব্যাপক নির্লিপ্ততা—সব মিলিয়ে দেশজুড়ে সামাজিক ব্যাপক অস্থিরতার বিষয়গুলো সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার গোপন প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।

এই অবস্থায় সরকারের অস্বস্তি ক্রমাগত বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।