সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
logo

দ্য সোর্স নিউজ বাংলা

আন্তর্জাতিক

৩৪ হাজার ফুট উঁচুতে নাটকীয় কূটনীতি: এক ভারতীয় পাইলটের সাহসিকতায় বিশ্বমঞ্চে নতুন সমীকরণ

✍ লিখেছেন: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা (The Source News Bangla) প্রকাশিত: ৪ অক্টোবর ২০২৬, ১:০৫ পিএম
৩৪ হাজার ফুট উঁচুতে নাটকীয় কূটনীতি: এক ভারতীয় পাইলটের সাহসিকতায় বিশ্বমঞ্চে নতুন সমীকরণ

আকাশপথে এক রক্তক্ষয়ী ও রোমহর্ষক বিপর্যয় এড়ানোর মধ্য দিয়ে বিশ্ব কূটনীতিতে ঘটে গেল এক অভূতপূর্ব নাটকীয়তা। দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাই দুবাইয়ের বোয়িং ৭৩৭ বিমানে ঘটা সেই চাঞ্চল্যকর ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন এক ভারতীয় সন্তান—ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার। ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় ককপিটের ভেতরে কো-পাইলটের প্রাণঘাতী হামলা এবং তা প্রতিহত করে ১৭৪ জন যাত্রীর জীবন বাঁচানোর এই বীরত্বগাথা কেবল এভিয়েশন ইতিহাসকেই ওলটপালট করে দেয়নি, বরং বিশ্ব রাজনীতির হিসাব-নিকাশকেও এক অন্য মোড়ে এনে দাঁড় করিয়েছে।

ককপিটের ভেতরের সেই ভয়ংকর মুহূর্ত

ফ্লাইট এফজেড ১০৭৩ যখন ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকে মাত্র ৩০০ কিলোমিটার দূরে, তখন ওমানি কো-পাইলটের অতর্কিত হামলায় মারাত্মকভাবে জখম হন প্রধান পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার। বিমানটিকে খাড়া নিচের দিকে (Nosedive) আছড়ে ফেলে ৯/১১ স্টাইলে এক প্রলয়ংকরী আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু রক্তে ভেসে যাওয়া শরীর আর মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েও হার মানেননি স্মিত। জীবনের শেষ শক্তি দিয়ে তিনি ককপিটের ডিজিটাল লক খুলে দেন। ফলস্বরূপ, কেবিন ক্রু ও যাত্রীরা সময়মতো ভেতরে প্রবেশ করে হামলাকারীকে কাবু করেন এবং পরবর্তীতে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করান।

বিশ্ব কূটনীতিতে নাটকীয় মোড় ও ভূরাজনীতির সমীকরণ

এই ঘটনার পর বিশ্বমঞ্চে যে কূটনৈতিক দৃশ্যপট তৈরি হয়েছে, তা অতীতে বিরল। সাধারণত ভূরাজনৈতিক সংঘাতে বিভক্ত পরাশক্তি ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো একজন সাধারণ পাইলটের বীরত্বকে সামনে রেখে এক অদ্ভুত ঐক্যের সুরে বাঁধা পড়েছে।

দুবাইয়ের যুবরাজের সম্মাননা:

সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও দুবাইয়ের যুবরাজ শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারকে দেখতে যান। তাঁর কপালে স্নেহের চুম্বন এঁকে যুবরাজ এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, "ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের সঙ্গে দেখা করলাম। তিনি সাহসিকতা ও দায়িত্ববোধের সর্বোচ্চ নজির স্থাপন করেছেন।" ওমানি নাগরিকের মাধ্যমে হামলা হওয়া সত্ত্বেও আমিরাত সরকারের এই অবস্থান ভূরাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

ইসরায়েল ও ভারতের শীর্ষ নেতৃত্ব: ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ ভারতীয় এই পাইলটকে ‘প্রকৃত বীর’ হিসেবে অভিহিত করে স্যালুট জানান। অন্যদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরাসরি টেলিফোনে আহত স্মিত মচ্ছারের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁর সাহসিকতাকে দেশের জন্য পরম গৌরবের বলে উল্লেখ করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং স্মিতের দ্রুত বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করেন।

ভূরাজনৈতিক ময়দানে এক নতুন মেলবন্ধন

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। যেখানে একদিকে একটি সম্ভাব্য সন্ত্রাসী ও আত্মঘাতী হামলার ছক আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কাঁপিয়ে দিয়েছে, অন্যদিকে একজন ভারতীয় পাইলটের অসামান্য পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতা আরব আমিরাত, ইসরায়েল এবং ভারতকে একই সুতোয় স্বীকৃতি ও প্রশংসার মঞ্চে এনে দাঁড় করিয়েছে। জাতি, ধর্ম বা ভূরাজনৈতিক সীমানার দেয়াল ভেঙে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার আজ বিশ্ব মানবতার এক উজ্জ্বল প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ১৭৪টি প্রাণ বাঁচানোর এই বীরত্ব প্রমাণ করেছে—অন্ধকার যতই গভীর হোক, সাহসিকতার আলোয় তা জয় করা সম্ভব।

লেখক: ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন,সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রধান সম্পাদক, দ্যা সোর্স নিউজ বাংলা (The Source News Bangla)

এই সংবাদটি শেয়ার করুন: