বিদ্যুৎ খাতের আলো ও আঁধার শেখ হাসিনার 'বিদ্যুৎ সাফল্য' থেকে ইউনুস-তারেকের আঁধারের বাংলাদেশ: ক্ষমতার সমীকরণ ও জ্বালানি সংকটের সূচনা ।
১ম পর্ব:
গত দেড় দশকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে যখন নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে, তখন দেশজুড়ে চলছিল তীব্র বিদ্যুৎসংকট। গ্রামের মানুষকে দিনে ৮ ঘণ্টারও বেশি সময় লোডশেডিং সহ্য করতে হতো, আর ঢাকার মতো মেগাসিটিতেও দৈনিক ২-৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকত না। ৫,৫০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল মাত্র ৪,২০০ মেগাওয়াট। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার 'নো লোডশেডিং' ও শতভাগ বিদ্যুতায়নের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে যেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল মাত্র ৫,৭১৯ মেগাওয়াট, সেখানে তা চার গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২০২২ সালে ২২,৪৮২ মেগাওয়াটে এবং বর্তমানে প্রায় ২৯,০০০ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। ২০০৯ সালের ৪৭% বিদ্যুতায়ন থেকে ২০২২ সালের মধ্যেই ১০০% মানুষের কাছে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছানোর অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়।
পরিসংখ্যান ও অগ্রগতির গতিচিত্র (২০০৮-০৯ থেকে ২০২৪): • উৎপাদন সক্ষমতা: ৫,৭১৯ মেগাওয়াট থেকে ২২,৪৮২ মেগাওয়াট (২৯৩% বৃদ্ধি)। • সর্বোচ্চ উৎপাদন: ৪,১৬২ মেগাওয়াট থেকে ১৪,৭৯২ মেগাওয়াট (২৫৫% বৃদ্ধি)। • মাথাপিছু ব্যবহার: ১৫১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা থেকে ৪৬৪ কিলোওয়াট-ঘণ্টা (২০৭% বৃদ্ধি)। • সিস্টেম লস: ১৬.৮৫% থেকে কমিয়ে ১০.৪১%-এ আনয়ন।
এই দ্রুত অগ্রগতির মূলে ছিল ভারতীয় সীমান্ত পেরিয়ে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু করা (বর্তমানে ভারত ও আদানি গ্রুপ থেকে হাজার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে আসছে), কাপ্তাই ও অন্যান্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আধুনিকায়ন এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ফার্নেস অয়েল ও এলএনজি নির্ভরতা বৃদ্ধি। সাফল্যের আড়ালে জ্বালানি নির্ভরতার ফাঁদ: তবে অবকাঠামো এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও বড় ধরনের ঘাটতি থেকে যায় 'প্রাথমিক জ্বালানি' (Primary Energy) সরবরাহে। নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসায় এবং পর্যাপ্ত নতুন অনুসন্ধান না হওয়ায় বাংলাদেশ অতিমাত্রায় আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG), কয়লা ও ফার্নেস অয়েলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই যে কাচের প্রাচীর চুরমার হয়ে যেতে পারে—তার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছিল সাফল্যগাথার আড়ালেই। (চলবে... পরবর্তী পর্ব আগামীকাল)
লেখক: আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, রাজনীতিবিদ, মেয়র, সিলেট সিটি কর্পোরেশন।
সম্পর্কিত সংবাদ
মহাকাশ থেকে ছায়াযুদ্ধ: মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলার নেপথ্যে কি তবে চিনা কৃত্রিম উপগ্রহ? মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে মহাকাশ গোয়েন্দাগিরির নতুন সমীকরণ
বাংলাদেশ কি চরম সংকটের দ্বারপ্রান্তে? — প্রবৃদ্ধি, শাসনব্যবস্থা ও টিকে থাকা
আগুনের বৃত্তে বাঁধা পৃথিবী: ইউক্রেনের ধ্বংসস্তূপ থেকে পারস্যের বিষণ্ণ সন্ধ্যা